
অকস্মাৎ
বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। চারদিকে রক্তে সয়লাব। এখানে ওখানে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে
আছে মানুষের নিথর দেহ। বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছড়িয়ে আছে পুরো কনসার্ট
হলে। কোন মানুষ মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে কিছু বলার চেষ্টা করছেন। তারপরই
জবাই করা মুরগির মতো ছাটাতে ছাটাতে মৃত্যুকে মেনে নিচ্ছেন। ম্যানটেস্টারের
এরিনা কনসার্ট হলে বোমা হামলার পরের দৃশ্য এগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব
বর্ণনা দিয়েছেন। ২১০০০ আসনের কনসার্ট হল গত রাতে ছিল পরিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্ডে সঙ্গীত পরিবেশনের পর পরই বিস্ফোরণ
ঘটানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। ওই
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থ ল্যাঙ্কাশায়ারের অ্যাবি মুলেন। তিনি বলেছেন,
আমার কয়েক সেন্টিমিটার সামনে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে গুলির মতো
মানুষের ত্বক, শরীরের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন অঙ্গ উড়ে এসে আমার চুলে, শরীরে,
ব্যাগে আটকে গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ, রক্তের বন্যা চারদিকে। তখন দিশাহারা
মানুষ এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। তাদের শরীরে লেগে আছে মানুষের শরীরের
বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, ত্বক। এ দৃশ্য আমি কোনদিন আমার মন থেকে মুছে
ফেলতে পারবো না। লিডসের গ্যারি ওয়াকারের দু’মেয়ে যোগ দিয়েছিলেন ওই
কনসার্টে। তিনি সস্ত্রীক তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গিয়েছেন সেখানে। তিনি
বলেন, আমি মেয়েদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা সেখানে কনসার্টের
শেষ গানটি শুনলাম। দু’চারজন তখন কনসার্ট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিছু একটা
ঝলসে ওঠার মতো মনে হলো। অমনি বিস্ফোরণ। চারদিকে ধোয়ায় ছেয়ে গেল। ভয়ে আমার
পা কাঁপতে লাগলো। এ সময় আমার স্ত্রী আমাকে শুয়ে পড়তে বললেন। আমি তাকে নিয়ে
সেখানেই শুয়ে পড়লাম। আমার স্ত্রী পেটে আঘাত পেয়েছে। তার সম্ভবত একটি পা
ভেঙে গেছে। যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা থেকে প্রায় তিন মিটার দূরে ছিলাম আমি।
বিস্মিত হচ্ছি যে, আমি বেঁচে গেছি। তিনি আরো বলেন, আমার স্ত্রী আহত হওয়ায়
তাকে একটি টেবিলের ওপর শুইয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো। তার মেয়ে আবিগেইল ওই
অডিটরিয়ামে উপস্থিত ছিল বোন সোফিকে নিয়ে। আবিগেইল বলেছেন, আমার তখন আর
কিছুই মনে হয় নি। শুধু মনে হয়েছে আমার বোন কোথায়। সে ঠিক আছে তো। তাকে কাছে
পেয়েই আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। তখন সবাই দৌড়াচ্ছে।
চিৎকার করছে। রক্তে সয়লাব মেঝে। ছিন্নভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। দিকভ্রান্ত তখন
সবাই। যে যেদিকে পারছে দৌড়াচ্ছে। এ এক অবর্ণনীয় দৃশ্য।
No comments:
Post a Comment