Friday, June 9, 2017

তেরেসা মে’র ভবিষ্যত সংশয়ে

আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়ে যে জুয়া খেলেছিলেন তেরেসা মে তাতে বড় ধরণের হোঁচট খেয়েছেন তিনি। প্রত্যাশিত ম্যান্ডেট তো পেলেনই না, বরং পার্লামেন্টে বিদ্যমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমে যাওয়ার পথে। বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতার আশায় ভোট ডেকে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট এনে দিলেন বৃটেনকে। এ পরিস্থিতিতে এখন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র কপালে ভাঁজ। নির্বাচনের দারুণ নৈপুন্য দেখানো বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি নিজ দলের এমপিদের কাছ থেকে পদত্যাগের আহ্বান পাচ্ছেন মে। সবমিলিয়ে তেরেসা মে’ ভবিষ্যত এখন সংশয়ের ঘেরাটোপে। স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আশা ছিল কনজারভেটিভ দলের ভুমিধস বিজয়ের। তার বদলে শুক্রবার সকালেই ঝুলন্ত পার্লামেন্টের বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে যায়। ব্রেক্সিট নিয়ে সমঝোতায় ম্যান্ডেট অর্জনে তার আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বৃটিশ ভোটাররা। স্কাই নিউজের অনুমান, কনজারভেটিভরা ৩১৫ থেকে ৩২১ আসন পাবে। এতে করে পার্লামেন্টে সর্ববৃহৎ দল তারাই থাকবে। তবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৩২৬ আসন তারা পাবেন না। আর লেবাররা ২৬০ থেকে ২৬৬ টি আসন পাবে, যা কিনা এড মিলিব্যান্ড ও গর্ডন ব্রাউনের অধীনে লেবারের পাওয়া মোট আসনসংখ্যার চেয়ে বেশি। সাবেক টোরি মন্ত্রী অ্যানা সোব্রি বলেছেন, মে’কে ‘অবশ্যই এখন তার অবস্থান বিবেচনা করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণাটা ছিল অত্যন্ত বাজে।’ কনজারভেটিভ দলের বেশ কজন মন্ত্রী নাটকীয় এই ভোটের রাতে আসন হারিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন নির্বাচনী ইশতেহার রচনায় সহায়তা করা বেন গামার ও আবাসন মন্ত্রী গ্যাভিন বারওয়েল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রাড মাত্র তিনশ’র কিছু বেশি ভোটে কোনরকমে নিজের আসন রক্ষা করেছেন। ইতিমধ্যে দুই তৃতীয়াংশ আসনের গণনা সম্পন্ন হয়েছে। কনজারভেটিভরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না সেটা স্পষ্ট। ফলে ব্রেক্সিট সমঝোতা শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়েস্টমিনস্টার। নিজের আসনে পৌছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মে পদত্যাগ করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান। গোমড়ামুখে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, ‘দেশের প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। আর ফল যাই হোক না কেন কনজারভেটিভ দল ওই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাদর দায়িত্ব পালন করবে যেন আমরা সবাই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।

No comments:

Post a Comment