
রাজধানীর
সর্বত্রই চিকুনগুনিয়া। মে মাসে মশাবাহিত এ রোগটি শুরু হওয়ার পর থেকে এ
পর্যন্ত রাজধানীর প্রতিটি এলাকার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। প্রথম দিকে
রাজধানীর রামপুরা, কাঠালবাগান, কলাবাগান এলাকার মানুষ বেশি করে আক্রান্ত
হলেও এখন চিকুনগুনিয়ার জীবানুবাহী মশারা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ
নেই। সর্বত্রই চিকুনগুনিয়ার আক্রমণে মানুষ আক্রান্ত হলেও স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু সাবধান বাণী দেয়া ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নেই।
এমনকি চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তিও করা হচ্ছে না।
তবে গুরুতর কিছু না হলে প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ওষুধও প্রয়োজন পড়ে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিরপুরের খলিলুর রহমান তিনদিন ধরে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। তিনি জানালেন, জ্বরের প্রচণ্ডতার চেয়ে গিটে ব্যথা বেশি কষ্ট দিচ্ছে। জ্বরটি শুরু হওয়ার পর থেকেই শরীরের প্রতিটি জোড়ায় ব্যথা করছে। এমন তীব্র ব্যথা আর কখনো অনুভূত হয়নি। যাত্রাবাড়ির শনির আখরার হাফিজুল্লাহ ভুগছেন গত বুধবার থেকে। তিনি ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। ডাক্তার লক্ষ্মণ দেখে বললেন, চিকুনগুনিয়া। ভয়ের কোনো কারণ নেই। তিনি প্যারাসিটামল লিখে দিয়েছেন। সাথে খাবার স্যালাইন ও শরবত পান করতে বলেছেন।
ডাক্তার বললেন, আর কিছু প্রয়োজন হবে না, সুস্থ হয়ে যাবেন।
বাসাবোর রাজারবাগ এলাকার সুজন খান জানান, চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হয়েছি পাঁচ দিন আগে। এখন বেশ সুস্থ। তবে জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা এখনো যায়নি। খুব কষ্ট পাচ্ছি। প্যারাসিটামল আর কত খাব। ডাক্তারের কাছে গিযেছিলাম ব্যথা কমার আর কোনো ওষুধ দেয় কি-না কিন্তু তিনি দিলেন না।
আইইডিসিআরের প্রাপ্ত তথ্য মতে, এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস ইজিপটাই প্রজাতির মশার কামড় থেকে এ রোগের উৎপত্তি। এ ভাইরাস মশা থেকে মানুষের শরীরে আসে। আবার আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে মশাও আক্রান্ত হয় এবং বাহক হিসেবে আবার মানবদেহে প্রবেশ করে। শুধু স্ত্রী জাতীয় এডিস মশার কামড়েই এই রোগটি হতে পারে। সাধারণত: মশায় কামড়ানোর পাঁচ দিন পর থেকে শরীরে লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে। জীবনের জন্য এ রোগ সরাসরি হুমকি নয়, তবে এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে। এডিস মশা দিনে কামড়ায়, বিশেষ করে বিকেলে। দিনের বেলা ঘুমোনোর অভ্যাস থাকলে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। তাছাড়া মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করতে হবে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকা খোলা পানির আধারগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান জানান, এ জ্বর ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। জ্বর নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যারাসিটামল ও গা মুছিয়ে (স্পঞ্জিং) দিতে হবে। প্রচুর পানি, শরবত, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি পান করালে রোগী স্বস্তি বোধ করবে।
তিনি জানান, চিকুনগুনিয়া ভয়াবহ কোনো রোগ নয়। ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, সর্দি, বমি বমি ভাব, হাত, পা ও আঙ্গুলের গিটে ব্যথা হতে পারে। চার থেকে পাঁচ দিন জ্বর থাকতে পারে।
বাংলাদেশে প্রথম এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ২০০৫ সালে ভারতে এ রোগের ভয়াবহতা দেখা দিলে সেখানে ১৪ লাখ মানুষের আক্রান্তের খবর সংগ্রহ করা হয়।
রোগটি প্রথম ১৯৫২ সালে আফ্রিকায় দেখা যায়। পরবর্তীতে এশিয়ায় ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াতে এর বিস্তার দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে প্রথম এ ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ঢাকার দোহার উপজেলায় এই রোগ দেখা যায়।
এরপর বিচ্ছিন্ন দু’একজন রোগী ছাড়া এ রোগের বড় ধরণের কোনো বিস্তার আর বাংলাদেশে লক্ষ্য করা যায়নি।
বর্ষার পর পর যখন মশার উপদ্রব বেশি হয় তখন এ রোগেরও বিস্তার বেশি দেখা যায়।
চিকুনগুনিয়া ভাইরাস টোগা ভাইরাস গোত্রের ভাইরাস। মশাবাহিত হওয়ার কারণে একে আরবো ভাইরাসও বলে।
জিকা ভাইরাসও একই মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রায় একই রকম লক্ষ্মণ দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিরপুরের খলিলুর রহমান তিনদিন ধরে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। তিনি জানালেন, জ্বরের প্রচণ্ডতার চেয়ে গিটে ব্যথা বেশি কষ্ট দিচ্ছে। জ্বরটি শুরু হওয়ার পর থেকেই শরীরের প্রতিটি জোড়ায় ব্যথা করছে। এমন তীব্র ব্যথা আর কখনো অনুভূত হয়নি। যাত্রাবাড়ির শনির আখরার হাফিজুল্লাহ ভুগছেন গত বুধবার থেকে। তিনি ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। ডাক্তার লক্ষ্মণ দেখে বললেন, চিকুনগুনিয়া। ভয়ের কোনো কারণ নেই। তিনি প্যারাসিটামল লিখে দিয়েছেন। সাথে খাবার স্যালাইন ও শরবত পান করতে বলেছেন।
ডাক্তার বললেন, আর কিছু প্রয়োজন হবে না, সুস্থ হয়ে যাবেন।
বাসাবোর রাজারবাগ এলাকার সুজন খান জানান, চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হয়েছি পাঁচ দিন আগে। এখন বেশ সুস্থ। তবে জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা এখনো যায়নি। খুব কষ্ট পাচ্ছি। প্যারাসিটামল আর কত খাব। ডাক্তারের কাছে গিযেছিলাম ব্যথা কমার আর কোনো ওষুধ দেয় কি-না কিন্তু তিনি দিলেন না।
আইইডিসিআরের প্রাপ্ত তথ্য মতে, এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস ইজিপটাই প্রজাতির মশার কামড় থেকে এ রোগের উৎপত্তি। এ ভাইরাস মশা থেকে মানুষের শরীরে আসে। আবার আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে মশাও আক্রান্ত হয় এবং বাহক হিসেবে আবার মানবদেহে প্রবেশ করে। শুধু স্ত্রী জাতীয় এডিস মশার কামড়েই এই রোগটি হতে পারে। সাধারণত: মশায় কামড়ানোর পাঁচ দিন পর থেকে শরীরে লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে। জীবনের জন্য এ রোগ সরাসরি হুমকি নয়, তবে এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে। এডিস মশা দিনে কামড়ায়, বিশেষ করে বিকেলে। দিনের বেলা ঘুমোনোর অভ্যাস থাকলে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। তাছাড়া মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করতে হবে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকা খোলা পানির আধারগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান জানান, এ জ্বর ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। জ্বর নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যারাসিটামল ও গা মুছিয়ে (স্পঞ্জিং) দিতে হবে। প্রচুর পানি, শরবত, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি পান করালে রোগী স্বস্তি বোধ করবে।
তিনি জানান, চিকুনগুনিয়া ভয়াবহ কোনো রোগ নয়। ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, সর্দি, বমি বমি ভাব, হাত, পা ও আঙ্গুলের গিটে ব্যথা হতে পারে। চার থেকে পাঁচ দিন জ্বর থাকতে পারে।
বাংলাদেশে প্রথম এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ২০০৫ সালে ভারতে এ রোগের ভয়াবহতা দেখা দিলে সেখানে ১৪ লাখ মানুষের আক্রান্তের খবর সংগ্রহ করা হয়।
রোগটি প্রথম ১৯৫২ সালে আফ্রিকায় দেখা যায়। পরবর্তীতে এশিয়ায় ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াতে এর বিস্তার দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে প্রথম এ ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ঢাকার দোহার উপজেলায় এই রোগ দেখা যায়।
এরপর বিচ্ছিন্ন দু’একজন রোগী ছাড়া এ রোগের বড় ধরণের কোনো বিস্তার আর বাংলাদেশে লক্ষ্য করা যায়নি।
বর্ষার পর পর যখন মশার উপদ্রব বেশি হয় তখন এ রোগেরও বিস্তার বেশি দেখা যায়।
চিকুনগুনিয়া ভাইরাস টোগা ভাইরাস গোত্রের ভাইরাস। মশাবাহিত হওয়ার কারণে একে আরবো ভাইরাসও বলে।
জিকা ভাইরাসও একই মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রায় একই রকম লক্ষ্মণ দেখা যায়।
No comments:
Post a Comment