
প্রধান
নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, শুধু সরকার নয়, দেশী বিদেশী
সংস্থাসহ সবার প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবো। আজ
রোববার আগারগাঁওয়ে ইটিআই ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের
নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এসময় নির্বাচন
কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন ও নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আবদুল্লাহ উপস্থিত
ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোড়ম্যাপ প্রকাশ
করে। তিনি বলেন, এখন থেকে দেড় বছরের কম সময়ের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে লক্ষ্যে আমরা রোডম্যাপ প্রকাশ করেছি। আগামী ৩১শে
জুলাই থেকে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ হবে। আমরা সুশীল সমাজ, নির্বাচন
পর্যবেক্ষণ সংস্থা, নারী সংগঠনের নেতা, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে
সংলাপ করবো এবং পর্যায়ক্রমে আমরা রোডম্যাপের কাজ চালিয়ে যাবো। জাতীয়
নির্বাচনে ইভিএম চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ইভিএম চালুর দরজা একেবারে বন্ধ
করিনি। এটা নিয়ে সংলাপের সময় আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলব। এ বিষয়ে
রাজনৈতিক দলগুলো কতটুকু প্রস্তুত এবং আমাদের কী প্রস্তুতি আছে তা নিয়েও
কথা হবে। সম্প্রতি একজন রাজনৈতিক নেতার বাসায় বৈঠকে বাঁধা দেয়ার বিষয়ে
জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই মুহূর্তে কে সভা-সমাবেশ করতে
পারল বা কে করতে পারল না, এটা আমাদের দেখার বিষয় না এবং এটা আমাদের
দায়-দায়িত্বও না। নির্বাচন কমিশন সুনির্দিষ্ট আইনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন
করে এবং তা করে যাচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আইন অনুযায়ী তখন এটা
কমিশনের দেখার সুযোগ রয়েছে, তখন কমিশন এটা বিবেচনায় নেবে। এদিকে রোডম্যাপে
৭টি করণীয় বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হল- আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও
সংস্কার, নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজিকরণ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার
পরামর্শ গ্রহণ, সংসদীয় এলাকা পুননির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং
সরবরাহ, বিধি বিধান অনুসরণপূর্বক ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের
নিবন্ধন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে
সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ।
No comments:
Post a Comment