
বিশ্বের
সর্বোচ্চ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। সঙ্গে হুঁশিয়ারিও
উচ্চারণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ শুক্রবার তারা আন্তঃমহাদেশীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্র
পরীক্ষা করেছে। এটি উত্তর কোরিয়া থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের লস
অ্যানজেলেস ও শিকাগোতে আঘাত করতে সক্ষম। পিয়ং ইয়ং থেকে রাষ্ট্র পরিচালিত
বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বলেছে,
ক্ষেপণাস্ত্রের এই পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ সতর্কতা হিসেবে দেখা উচিত।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়, শুক্রবারের ওই ক্ষেপণাস্ত্র
উৎক্ষেপণ করা হয় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীন সীমান্তে মুপায়ং-নি থেকে। এটি
প্রায় ৪৫ মিনিট আকাশে উড়েছে। উঠেছিল ৩৭০০ কিলোমিটার উচ্চতায়। অতিক্রম করেছে
১০০০ কিলোমিটার। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিশ্লেষকরা
সম্মিলিতভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। এরপর বলা হয়েছে, যদি ওই ক্ষেপণাস্ত্র
কিছুটা অনুভূমিক করে ছাড়া হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যানজেলেস, ডেনভার ও
শিকাগোর মতো শহরে গিয়ে তা আঘাত করতে সক্ষম। এসব শহর এ ক্ষেপণাস্ত্রের
পাল্লার মধ্যে রয়েছে। এমনও হতে পারে তা নিউ ইয়র্ক, বস্টনে ও আলাস্কায়ও আঘাত
করতে সক্ষম। এমন সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন ইউনিয়ন অব কনসার্নড
সায়েন্টিস্টস-এর ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ডেভিড রাইট। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট
চিফ অব স্টাফ বলেছেন, এ মাসের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়া যে ক্ষেপণাস্ত্র
ছুড়েছে তার থেকে শুক্রবারের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আরো বেশি আধুনিক। এর পাল্লা
অনেক বেশি। তবে এ ক্ষেপণাস্ত্র কি পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র তার মাথায় করে
বহন করে নিয়েছে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন নি বিশ্লেষকরা। যদি এর পরিমাণ
অনেক বেশি হয় তাহলে পাল্লা কমে যাবে। অর্থাৎ কম দূরত্ব অতিক্রম করতে
পারবে। ওদিকে শনিবার কেসিএনএ বলেছে, সর্বশেষ যে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ
করা হয়েছে তা হলো ওয়াসং-১৪। এ মাসের শুরুতে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রের
মতোই এটা। ওদিকে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোয় নিন্দা
জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। লিখিত এক বিবৃতিতে
তিনি শুক্রবার বলেছেন, বিশ্বকে হুমকি দিয়ে, এসব অস্ত্র ও তার আরো পরীক্ষা
চালানোর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া নিজেকে আরো নিঃসঙ্গ করে ফেলেছে। তার
অর্থনীতিকে দুর্বল করে ফেলেছে। দুর্ভোগে ফেলেছে দেশবাসীকে। যুক্তরাষ্ট্রের
মানুষের ও আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ
নেবে যুক্তরাষ্ট্র। জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল জোসেফ এফ ডানফোর্ড জুনিয়র ও
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার এডমিরাল হ্যারি হারিস এ নিয়ে
কথা বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল লি
সুন জিনের সঙ্গে। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয় এবং
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক জবাব দেয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর কয়েক
ঘন্টা পরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধের মহড়া
চালিয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিসের মতে এটা হলো উত্তর
কোরিয়াকে জানানো যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবে কি রকম জবাব দেয়া হবে তা
দেখানো। যে মহড়া চালানো হয়েছে তাতে সমুদ্রে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
জুলাইয়ের শুরুতে উত্তর কোরিয়া একই রকম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পর একই
রকম মহড়া দেখিয়েছিল দুই দেশের সেনারা। ওদিকে উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘ দিনের
ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন। তারা শনিবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি
দিয়েছে। এতে উত্তর কোরিয়াকে এমন কর্মকা- বন্ধ করতে বলা হয়, যা কোরিয়া
উপদ্বীপ অঞ্চলে উত্তেজনা উসকে দেবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
জেং শুয়াং বিবৃতিতে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যাপক বিধ্বংসী
প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাদের এমন কর্মকা-ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা
পরিষদের পরিষ্কার বিধিনিষেধ আছে। তা লঙ্ঘন হয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের
ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায় এমন কর্মকা- চালানোর উত্তর কোরিয়ার চেষ্টার বিরোধী
চীন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, উত্তর
কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ক কর্মসূচি বন্ধ করাতে আরো অনেক কিছু করতে হবে
চীন ও রাশিয়াকে।
No comments:
Post a Comment