
জন্মের
দেড় বছর পর থেকেই তার শরীরের চামড়ার নিচে শক্ত গোটার সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে
গোটার আকৃতি বাড়তে থাকলে পরিবারের লোকজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু
ওষুধ খাওয়ার পরও ভালো হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। কিছুদিন পর যে সব
স্থানে এই গোটার সৃষ্টি হয়েছিল সেই জায়গার রং বদলাতে থাকে। এক পর্যায়ে ডান
হাতে মার্বেলের মতো গুঁটি গুঁটি বের হয়ে হাতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যায়।
উপায়ন্তর না পেয়ে পরিবারের লোকজন সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা এমনকি ঢাকার অনেক
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেন। কোনো লাভ হয়নি। অবস্থা আরো বেগতিক
হয়ে পড়ে। হাতের জ্বালা-যন্ত্রণায় আর চুলকানিতে অস্থির হয়ে পড়ে। বিষয়টি
জানাজানি হলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মিলে সাতক্ষীরার কামার
বাইশা গ্রামের মুদির দোকানি ইব্রাহিম হোসেনের যমজ ছোট মেয়েকে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ১২ বছর বয়সের মুক্তামণি কামার বাইশা সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ডান হাতের বিরল রোগে আক্রান্ত
হয়ে লোকলজ্জার ভয়ে আড়ালে থাকাতে তার আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। উন্নত চিকিৎসার
জন্য তাকে গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড
প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের কেবিন ফ্লোরের ৬০৮/এ রুমে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা.
সামন্ত লাল সেন এবং বার্ন ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ
প্রাথমিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার চিকিৎসার সকল
দায়িত্ব নিয়েছেন। ঢামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার মুক্তামণির চিকিৎসার
বিষয়ে একটি বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সরজমিন
বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায় বেডে শুয়ে আছে মুক্তামণি। তার ডান হাতটি অনেকটা
গাছের বাকলের মতো হয়ে উঠেছে। আলাপকালে মুক্তা বলে, আমি সুস্থ হয়ে স্কুলে
যেতে চাই। আমার বন্ধুরা আমাকে দেখলে ভয়ে পালিয়ে যায়। এখন আর কাছে আসতে চায়
না। আমি ভালো হতে চাই। মুক্তামণির মা আসমা খাতুন জানান, গত ১০ বছর ধরে
মেয়েকে নিয়ে কত চিকিৎসকের কাছে গেছেন তার কোনো হিসাব নাই। এক পর্যায়ে তারা
আশা ছেড়ে দেন। কিন্তু ফেসবুকে প্রচারের পর থেকে মানুষের সহযোগিতার কারণে
তাদের মনোবল আবারো ফিরে এসেছে। ঢামেকের চিকিৎসকরা মুক্তামণি ভালো হয়ে যাবে
বলে জানিয়েছেন। এ জন্য তিনি মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।
No comments:
Post a Comment