
ভারতীয়
ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) ৫২.২ কোটি রুপি জরিমানা করেছে ভারতের স্বচ্ছ ও
নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান সিসিআই
(কমপিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া)। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগ
আইপিএলে (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) অনিয়মিত ও বাজার-প্রতিযোগিতার পরিপন্থী
কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে এই জরিমানা করা হয়। ভারতজুড়ে বিভিন্ন
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে
২০০৩ সালে সিসিআই প্রতিষ্ঠা করা হয়। অটল বিহারি বাজপেয়ি সরকারের সময়ে পাস
হওয়া প্রতিযোগিতা আইন ২০০২-এর অধীনে বিসিসিআইকে অভিযুক্ত করে আগেও ২০১৩
সালের শুরুতে জরিমানা করা হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগের বিপরীতে আপিল করে
জরিমানার হাত থেকে বেঁচে যায় বিসিসিআই। তবে বিষয়টি সে সময় নতুন করে খতিয়ে
দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৪৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সিসিআই প্রমাণ করেছে,
৫২.২ কোটি রুপি বিসিসিআইয়ের গত তিন বছরের গড় সার্বিক আয়ের ৪.৪৮ শতাংশের
সমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এ কথা প্রমাণিত যে বিসিসিআই জেনেশুনেই
আইপিএলের টিভি সম্প্রচারের নিলামে অংশগ্রহণকারীদের বাণিজ্যিক স্বার্থ, একই
সঙ্গে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করেছে।’
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে
বিসিসিআইয়ের সার্বিক আয়ের পুরোটাই দেশটির ক্রিকেটের উন্নয়নে বিনিয়োগ করার
কথা। অথচ আইপিএল বাদে অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চালু করার ক্ষেত্রে
উদাসীন ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা; যদিও এ ধরনের অভিযোগ
ভিত্তিহীন হিসেবে দাবি করেছিল বিসিসিআই। এই প্রতিবেদনে বিসিসিআইয়ের দাবির
কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। আইপিএলের দলগুলোর মালিকানার ক্ষেত্রে
স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা পালন করেছে বিসিসিআই। সিসিআইয়ের দাবি, দলগুলোর
মালিকানা চুক্তিতে মালিকপক্ষের কোনো দাবি বা প্রস্তাব আমলে নেওয়া হয়নি।
তারা লিখেছে, ‘১০ বছর ধরে আইপিএলের একচেটিয়া ব্যবসা নিশ্চিত করার পর অন্য
কোনো লিগ শুরু করার প্রস্তাব পাওয়ার কথা নয়।’ ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ
ধরনের কাজকে অন্যদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে দেখছেন, যা
সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। এই জরিমানার পরিপ্রেক্ষিতে বিসিসিআইয়ের কোনো
মন্তব্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পুনঃ তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর
আপিল করার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। সূত্র: জিনিউজ।
No comments:
Post a Comment