
‘উইপ নট ফর মি, লেমেন্ট নো মোর
আই অ্যাম নট ডেড, বাট গন বিফোর।’
অন্ত্যমিল ঠিক রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে অনুবাদ যা দাঁড়াল:
‘আমার জন্য কেঁদো না, শোক কোরো না আর
আমি যাইনি মরে, হয়েছে আগাম প্রস্থান।’
ইংরেজি অংশটুকু কে লিখেছিলেন? মৃত্যুর আগেই কি এমন কথা লেখার নির্দেশ ছিল বেনজামিন ফ্রেডরিক ডজএনজেসের, নাকি তাঁর কোনো স্বজন প্রিয় মানুষের মৃত্যুতে জুড়ে দিয়েছেন এমন শোকগাথা? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলবে না কোনো দিন। বেনজামিন পরিচিত কোনো ব্যক্তি নন। তবে এটুকু নিশ্চিত হওয়া যায়, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১৮৭৯ সালের ৪ জুলাই। ৫৪ বছর বয়সে। তাঁর অন্তিমশয্যা হয়েছিল এই ঢাকারই তেজগাঁর পবিত্র জপমালার গির্জাসংলগ্ন কবরস্থানে। একটি নয়, দুটি নয়, এমন ৪৪টি এপিটাফ আছে পবিত্র জপমালার পুরোনো গির্জাটির দুই দিকের দেয়ালজুড়ে। গির্জাটির বয়স ৩৪০ বছর। প্রতিষ্ঠাকাল ১৬৭৭ সাল। ঢাকার সবচেয়ে প্রাচীন গির্জা এটি—আর বাংলাদেশের তৃতীয়, জানান গির্জার ফাদার কমল কোরাইয়া। তিনি জানান, অনেক পুরোনো হয়ে যাওয়ায় কবরস্থান থেকে তুলে এপিটাফগুলো দেয়ালে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। প্রাচীন স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এপিটাফগুলোর মধ্যে ইংরেজিতে লেখা ১৪টি। অজানা ভাষার বাকিগুলো। ফাদার কমল বললেন, এই গির্জা তৈরি করেছিলেন পর্তুগিজরা। তারপর অন্য ভাষাভাষীরাও এখানে এসেছেন। তাই পর্তুগিজ, লাতিন, গ্রিক—এমন নানা ভাষার এপিটাফ আছে। আসলে ভাষা উদ্ধার করে এসব উদ্ধার করাটাও জরুরি। রাজধানীর ফার্মগেট থেকে তেজতুরীপাড়ার দিকে যেতেই পড়ে পবিত্র জপমালার রানির গির্জা। এখানে ফটক পেরিয়েই বাম দিকে পড়ে প্রাচীন গির্জাটি। আর এর সামনে নতুন করে তৈরি বিশাল গির্জা। এপিটাফগুলো আছে পুরোনো গির্জার দেয়ালে। যতটুকু উদ্ধার করা হলো, তাতে দেখা গেছে, প্রাচীনতম এপিটাফটি হলো ১৭১৪ সালের। অর্থাৎ এখন থেকে ৩০৩ বছর আগের। এ এপিটাফের অন্যান্য শব্দ দুরূহ। দুদিকে ছয় ছয় করে ১৭টি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই সুদৃশ্য গির্জা। এত পুরোনো হলেও সুদৃশ্য এ জন্য যে এখানে তিন দফায় সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। গির্জার ইতিহাস পাঠে জানা গেল, ১৭১৪, ১৯৪০ এবং সর্বশেষ ২০০০ সালে এ গির্জার সংস্কার করা হয়। সবশেষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর খরচ দেয়। গির্জাটি এ দপ্তরের ঐতিহাসিক নিদর্শনও। গির্জার চারদিকে ছোট আকারের চারটি সিঁড়ি। ফাদার কমল বললেন, তখন গির্জা হয়তো দুর্গ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। তাই এসব ছোট সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে নিরাপত্তার দিকটি দেখা হতো। পোপ ফ্রান্সিস আগামী শনিবার এ গির্জায় আসবেন। তাই চলছে সাজসজ্জার কাজ। কোনো কোনো এফিটাফে পুরো পরিচয়, মৃত্যুর কারণ, আদি বাসস্থান, মা-বাবা নাম—এমন নানা তথ্য আছে। এপিটাফগুলোর তথ্য বলছে, এখানে সবচেয়ে কম বয়সে মৃত্যু হয়েছিল আট দিন বয়সী মারিয়ার। ১৮১০ সালের ৩ মার্চ এ শিশুর মৃত্যু হয়। মা-বাবা রবার্ট ও অ্যান সন্তানের এপিটাফে নিজেদের নামও খোদাই করে রেখেছেন। নানা কারুকাজ বিভিন্ন এপিটাফে।
আই অ্যাম নট ডেড, বাট গন বিফোর।’
অন্ত্যমিল ঠিক রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে অনুবাদ যা দাঁড়াল:
‘আমার জন্য কেঁদো না, শোক কোরো না আর
আমি যাইনি মরে, হয়েছে আগাম প্রস্থান।’
ইংরেজি অংশটুকু কে লিখেছিলেন? মৃত্যুর আগেই কি এমন কথা লেখার নির্দেশ ছিল বেনজামিন ফ্রেডরিক ডজএনজেসের, নাকি তাঁর কোনো স্বজন প্রিয় মানুষের মৃত্যুতে জুড়ে দিয়েছেন এমন শোকগাথা? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলবে না কোনো দিন। বেনজামিন পরিচিত কোনো ব্যক্তি নন। তবে এটুকু নিশ্চিত হওয়া যায়, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১৮৭৯ সালের ৪ জুলাই। ৫৪ বছর বয়সে। তাঁর অন্তিমশয্যা হয়েছিল এই ঢাকারই তেজগাঁর পবিত্র জপমালার গির্জাসংলগ্ন কবরস্থানে। একটি নয়, দুটি নয়, এমন ৪৪টি এপিটাফ আছে পবিত্র জপমালার পুরোনো গির্জাটির দুই দিকের দেয়ালজুড়ে। গির্জাটির বয়স ৩৪০ বছর। প্রতিষ্ঠাকাল ১৬৭৭ সাল। ঢাকার সবচেয়ে প্রাচীন গির্জা এটি—আর বাংলাদেশের তৃতীয়, জানান গির্জার ফাদার কমল কোরাইয়া। তিনি জানান, অনেক পুরোনো হয়ে যাওয়ায় কবরস্থান থেকে তুলে এপিটাফগুলো দেয়ালে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। প্রাচীন স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এপিটাফগুলোর মধ্যে ইংরেজিতে লেখা ১৪টি। অজানা ভাষার বাকিগুলো। ফাদার কমল বললেন, এই গির্জা তৈরি করেছিলেন পর্তুগিজরা। তারপর অন্য ভাষাভাষীরাও এখানে এসেছেন। তাই পর্তুগিজ, লাতিন, গ্রিক—এমন নানা ভাষার এপিটাফ আছে। আসলে ভাষা উদ্ধার করে এসব উদ্ধার করাটাও জরুরি। রাজধানীর ফার্মগেট থেকে তেজতুরীপাড়ার দিকে যেতেই পড়ে পবিত্র জপমালার রানির গির্জা। এখানে ফটক পেরিয়েই বাম দিকে পড়ে প্রাচীন গির্জাটি। আর এর সামনে নতুন করে তৈরি বিশাল গির্জা। এপিটাফগুলো আছে পুরোনো গির্জার দেয়ালে। যতটুকু উদ্ধার করা হলো, তাতে দেখা গেছে, প্রাচীনতম এপিটাফটি হলো ১৭১৪ সালের। অর্থাৎ এখন থেকে ৩০৩ বছর আগের। এ এপিটাফের অন্যান্য শব্দ দুরূহ। দুদিকে ছয় ছয় করে ১৭টি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই সুদৃশ্য গির্জা। এত পুরোনো হলেও সুদৃশ্য এ জন্য যে এখানে তিন দফায় সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। গির্জার ইতিহাস পাঠে জানা গেল, ১৭১৪, ১৯৪০ এবং সর্বশেষ ২০০০ সালে এ গির্জার সংস্কার করা হয়। সবশেষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর খরচ দেয়। গির্জাটি এ দপ্তরের ঐতিহাসিক নিদর্শনও। গির্জার চারদিকে ছোট আকারের চারটি সিঁড়ি। ফাদার কমল বললেন, তখন গির্জা হয়তো দুর্গ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। তাই এসব ছোট সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে নিরাপত্তার দিকটি দেখা হতো। পোপ ফ্রান্সিস আগামী শনিবার এ গির্জায় আসবেন। তাই চলছে সাজসজ্জার কাজ। কোনো কোনো এফিটাফে পুরো পরিচয়, মৃত্যুর কারণ, আদি বাসস্থান, মা-বাবা নাম—এমন নানা তথ্য আছে। এপিটাফগুলোর তথ্য বলছে, এখানে সবচেয়ে কম বয়সে মৃত্যু হয়েছিল আট দিন বয়সী মারিয়ার। ১৮১০ সালের ৩ মার্চ এ শিশুর মৃত্যু হয়। মা-বাবা রবার্ট ও অ্যান সন্তানের এপিটাফে নিজেদের নামও খোদাই করে রেখেছেন। নানা কারুকাজ বিভিন্ন এপিটাফে।
ফাদার কমল জানান, প্রতিবছর, বিশেষ করে পর্তুগিজ
দর্শনার্থীরা আসেন। অনেকেই এসব এপিটাফ শনাক্ত করেন নিজেদের আত্মীয় বলে।
সেখানে শ্রদ্ধা জানান। তবে ফাদারের আক্ষেপ, তাঁর বিবেচনায় এসব এপিটাফ নিয়ে
অনেক গবেষণা হতে পারত। এটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরও প্রচার পেতে
পারত। ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের ওপর গবেষণার কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ইতিহাসের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। তিনি বললেন, তেজগাঁওয়ের এই চার্চ
প্রার্থনার একটি কেন্দ্র শুধু নয়, এটি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শন।
তাঁর বিবেচনায়, এই চার্চ ও এপিটাফ কয়েকটি বাস্তবতা তুলে ধরে। যেমন চার্চটি
হয়েছিল মোগল আমলে। আবার অক্যাথলিক ইংরেজ আমল এবং ঢাকার নবাবদের শাসনেও টিকে
ছিল এ চার্চ। তিনি বলেন, এখানে খ্রিষ্টধর্ম প্রচার যে বাধাগ্রস্ত হয়নি, তা
নয়। তবে ভিন্নমতও যে এখানে সমানভাবে টিকে থেকেছে, অতি প্রাচীন এ নিদর্শন
সেই বাস্তবতা তুলে ধরে। তিনি মনে করেন, এখানে যেসব মানুষের এপিটাফ আছে,
তাঁরা কোন দেশ থেকে এসেছিলেন, কী তাঁদের পরিচয় বা পেশা—এসব প্রশ্নের উত্তর
তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতির নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। এসবই
বহুমাত্রিক গবেষণার আকর। উজ্জ্বল—কিছুটা ক্ষয়ে যাওয়া বা একেবারে বিবর্ণ
এপিটাফগুলো হয়তো নির্মলেন্দু গুণের ‘এপিটাফ’ কবিতার মতো বলে উঠছে— ‘করতল
ভরা এই ম্লান রেখাগুলো তোমাদের জন্য
রেখে গেলাম। হাড়গুলো থেকে সার হবে,
সার থেকে জন্ম নেবে হাড়ের গোলাপ।
...এই কবরগুলো সাক্ষ দেবে, ভালোবেসেছিলাম।’
রেখে গেলাম। হাড়গুলো থেকে সার হবে,
সার থেকে জন্ম নেবে হাড়ের গোলাপ।
...এই কবরগুলো সাক্ষ দেবে, ভালোবেসেছিলাম।’
No comments:
Post a Comment