নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক সড়কের দুইপাশে বিজয় মেলার নামে জুয়া আর উলঙ্গপনা চলছে । সেখানে
লটারীর নামে জুয়া, সার্কাসের নামে উলঙ্গ নৃত্যের পাশাপাশি ইয়াবা কারবারিদের ইয়াবা সেবন ও ধর্ষন চর্চা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ লোকজন বিপদগামীর পাশাপাশি বেড়েছে পাড়ায় পাড়ায় চুরি-ছিনতাই। ফলে আইন শৃঙ্খলায় ঘটছে চরম অবনতি। অবশ্য, মেলা কমিটির নেতাদের দাবী প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেছেন তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকা একদল ইয়াবা কারবারী জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিজয় মেলার অনুমতির আবেদন করেই ১৬ ডিসেম্বর থেকে সাফারী পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ভেরাইটি শো, জুয়া, সার্কাসের নামে উলঙ্গ নৃত্যের পাশাপাশি ইয়াবা কারবারিদের ইয়াবা সেবন ও ধর্ষন চর্চার মত কু-কর্ম ও চলছে হরদম। গত সপ্তাহে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর উদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর ভাঙ্গলেও বন্ধ হয়নি কোন সময়। এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ থাকা সত্বেও কতিপয় অরাজনৈতিক ব্যক্তি বিজয় দিবসের শুরু হওয়ার ১০ দিন পর ২৪ ডিসেম্বর ১০দিনের জন্য বিজয় মেলার অনুমতি নিতে সক্ষম হয়। যেখানে আওয়ামীলীগের জেলা নেতৃবৃন্দ এসে উদ্ভোধন করেন। জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ যে পেন্ডেলে বিজয় মেলা উদ্বোধন করেন সেই পেন্ডেলেই এখন অননুমোদিত লটারী পেন্ডেল বলে জানালেন ডুলাহাজারা পশ্চিম পাড়ার আবু তালেব। এলাকার সচেতন অভিভাকদের অভিযোগ ইতিমধ্যেই সাফারী পার্ক সংলগ্ন প্রশাসন কর্তৃক শিলগালা করা নিষিদ্ধ কটেজ গুলো খুলে শুরু করে জুয়া,ইয়াবা সেবন বিকি কিনি ও পতিতাবৃত্তি। সুত্রমতে ২১ডিসেম্বর ডুলাহাজারার আবচার নামের এক এমইউপি'র মালিকানাধীন কটেজ থেকে ৮ লক্ষ টাকা মুল্যের ইয়াবা টেবলেটের একটি চালান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা হেঁচড়ায় একব্যক্তি ছুরিকাহত ও ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ও ঘটে। এত কিছুর পরে ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ দিয়ে কু-কর্মস্থলে বিজয় মেলার উদ্ভোধন প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে সচেতন মহলে। ষ্টেইজ করে বিজয়গাঁথা আলোচনার কথা থাকলে ও চলছে জুয়া ও লটারী। এতে উঠতি বয়সের সব স্কুল-কলেজ পডুয়া শিক্ষার্থী ও গ্রাম্য যুবকসহ দূর-দূরান্তের বিকৃত মানসিকতার মানুষের সমাগম মোহিত করে রেখেছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও প্রবেশধারে এ সব দেখে বিরক্ত প্রকাশ করে ফিরে যাচ্ছে। গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে পার্কের পাশে বিজয় মেলার আয়োজন করে প্রতিদিন লটারীর নামে পুরো চকরিয়ায় মাইকিং করে ২০টাকা টিকেট বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পক্ষান্তরে নামে মাত্র পুরস্কার দিচ্ছে বিজয়ীর মাঝে। রাত ৯টার পর থেকে সার্কাসের নামে রাত ব্যাপি চলে পথভ্রষ্ট মহিলা শিল্পীর উলঙ্গ নৃত্য। এতে জেলা প্রশাসনের দেয়া শর্তগুলো মানছেনা আয়োজকেরা। এরপরও স্থানীয় প্রশাসন এসব দেখেও রহস্যজনক কারণে না দেখার ভান করে যাচ্ছে। আবচার মেম্বার সহ মেলা কমিটির নেতাদের দাবী প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এসব করছেন তারা। আবচারের দাবী, শুধু বিজয় মেলা করলে এখানে কোন দর্শক আসবে না। তাই বিনোদনের জন্য টুকটাক নৃত্যের এ আয়োজন। এছাড়া বিজয় মেলার ব্যয়কৃত পুঁজি উদ্ধারে জুয়ার আসর বসাতে হয়েছে। এ খাতে আয়ের বিশাল একটি অংশ সকল স্থরের দায়িত্বশীলদের ঘাটে ঘাটে বিলি করতে হচ্ছে। এমনকি এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের খবর প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্যে মিডিয়া কর্মীদেরকেও ম্যানেজ করা হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ কয়দিন পরেই এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার অনুষ্টিত হবে। বিজয় মেলার নামে আয়োজিত এসব অশ্লীল কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ব্যাঘাত হচ্ছে।
মেলার অশ্লীল নৃত্য ও জুয়া এবং মেলার অর্ধশত মাইকের শব্দ দুষণে অতিষ্ট জনগোষ্টি রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেনা এমনও অভিযোগ করেন স্থানিয়রা। এছাড়াও পার্ক এলাকায় গড়ে উঠা গেষ্ট হাউস গুলোতে চলছে মদ, ইয়াবা ও পতিতা বানিজ্য।
উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তার শাহেদুল ইসলাম ও পুলিশের বিরামহীন অভিযানের পর গেষ্ট হাউস গুলোতে অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধে অনিয়ন্ত্রিত গেষ্ট হাউজগুলো তালা বদ্ধ করে গেলে ও বিজয় মেলাকে কেন্দ্র করে পুনরায় এসব অপকর্ম চলছে বিনা বাধায়। স্থানীয় লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠলেও বিজয় মেলার নাম জড়িত থাকায় মামলার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
এদিকে প্রবীন আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী নেতা সংগত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামীলীগের সুদিনে মৌসুমী পাখীদের অভাব হচ্ছে না। তারা নিজেদের আখের গোছানোর নামে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। একারণে দলের ভাবমুর্তি কোথায় গিয়ে দাড়াচ্ছে তা দলের বর্তমান কান্ডারীরা দেখেও দেখছে না। অথচ এসব অপকর্মের অর্থ যোগান দিতে গিয়ে উঠতি বয়সের যুব সমাজ চুরি-চামারীসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর উদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান দৈনিক কক্সবাজার ৭১ কে বলেন, তিনি এ মুহুর্তে ভারতে যাচ্ছেন। তবে কয়েকদিন আগে মেলায় গিয়ে জুয়ার আসর ভাঙ্গার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আবার পেলে প্রয়োজনে মেলাই বন্ধ করে দিব।

No comments:
Post a Comment