
জেরুজালেমকে
ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি মার্কিন দূতাবাস সেখানে সরিয়ে
নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৭০ বছরের
মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি লঙ্ঘন করে বুধবার বাংলাদেশ সময় মধ্য রাতে হোয়াইট
হাউসের এক আনুষ্ঠানিক ভাষণে ট্রাম্প ঘোষণা দেন। এর ফলে ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র
হিসেবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর এমন পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পই হলেন
প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে
স্বীকৃতিদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হলো প্রথম দেশ। তবে ট্রাম্পকে এ ঘোষণা
না দেয়ার জন্য পুরো বিশ্ব থেকেই চাপ ছিল। বিশ্বনেতারা এমন সিদ্ধান্ত না
নেয়ার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সব তুচ্ছ করে ট্রাম্প
তার কাজ করেছেন। আরব দেশগুলোর নেতারা তার এ সিদ্ধান্তে হুশিয়ারি দিয়ে
বলেছিলেন, এ সিদ্ধান্ত ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে
ব্যাহত করতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সহিংসতার নতুন ঢেউ আছড়ে পড়বে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে সৌদি বাদশাহ সালমান
বিন আবদুল আজিজ তাকে বলেছেন, ‘মার্কিন দূতাবাস সরানো হবে একটা বিপজ্জনক
পদক্ষেপ এবং এটা বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।’ মাহমুদ
আব্বাস ট্রাম্পকে হুশিয়ার করে দেন যে, ‘এ ঘোষণা হবে বিপজ্জনক এবং এর
বিরুদ্ধে তিনি বিশ্ব নেতাদের শরণাপন্ন হবেন। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস
সরিয়ে নিয়ে তাকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হলে মুসলিম বিশ্ব
তা মানবে না।
জেরুজালেম মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান।’ মার্কিন এ
সিদ্ধান্তে দু’দেশের মধ্যে চলমান শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে
যাবে বলেও মন্তব্য করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ার
করে জর্ডান বলেছিল, এমন সিদ্ধান্ত নিলে তার ‘পরিণতি ভয়ঙ্কর’ হবে। এ বিষয়ে
আরব লীগের প্রধান আবুল ঘেইত বলেন, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ ‘ধর্মীয় গোড়ামি ও
সহিংসতা’ ছড়াবে। জেরুজালেম ইস্যুতে আরব বিশ্বের বাইরের নেতারাও প্রতিক্রিয়া
ব্যক্ত করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন,
ট্রাম্পের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তে তিনি উদ্বিগ্ন। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন
দু’পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই জেরুজালেম বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জার্মানিও। বার্লিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেছিলেন, শুধু ইসরাইল ও
ফিলিস্তিনের মধ্যকার আলোচনার মাধ্যমেই জেরুজালেম নিয়ে সৃষ্ট সংকটের সমাধান
আসতে পারে। এ সংকটকে আরও ঊর্ধ্বমুখী করে এমন যে কোনো পদক্ষেপ হবে হিতে
বিপরীত। তিনি আরও বলেন, জেরুজালেমের বিষয়ে জার্মানির অবস্থানে কোনো
পরিবর্তন হবে না। বরং দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনায় বার্লিন মধ্যস্থতা অব্যাহত
রাখবে। জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা না করার জন্য আহ্বান জানায় তুরস্কও।
জেরুজালেম নিয়ে সীমা লঙ্ঘন না করতে ট্রাম্পের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। মঙ্গলবার আঙ্কারায় দলীয় এক
অনুষ্ঠানে এরদোগান বলেন, ‘জনাব ট্রাম্প, জেরুজালেম প্রশ্নে আপনার অবস্থান
মুসলিমদের কাছে সীমা লঙ্ঘনের শামিল।’
No comments:
Post a Comment