Wednesday, December 6, 2017

হাসপাতাল থেকে উধাও গুলিবিদ্ধ তাঁতীলীগ নেতা

তাঁতীলীগ নেতা শাহজাহানকে গুলি করার এক সপ্তাহ পার হলেও গ্রেফতার হননি ঢাকা উত্তর সিটির ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু তাহের। পুলিশ বলছে, কাউন্সিলর পলাতক। এ কারণে তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে দারুসসালাম এলাকার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কাউন্সিলর আবু তাহের এলাকায়ই আছেন। মদ্যপ অবস্থায় সোমবার রাতেও তিনি গৈদারটেক এলাকায় মাতলামি করেছেন। এদিকে সোমবার দুপুরের পর থেকে গুলিবিদ্ধ তাঁতীলীগ নেতা শাহজাহান মিয়ার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে শ্যামলীর ট্রুমা সেন্টার থেকে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কোথায় তাকে রাখা হয়েছে তা পুলিশও জানে না। জানা গেছে, গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি এখনও জব্দ করতে পারেনি পুলিশ। যে অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে তা কাউন্সিলরের লাইসেন্স করা পিস্তল। পুলিশের ধারণা, সেটি দিয়ে গুলি ছোড়া হয়নি। কাউন্সিলর আবু তাহেরও দাবি করেছেন লাইসেন্স করা পিস্তল থেকে এক রাউন্ড গুলিও খরচ করেননি তিনি। তবে যে অস্ত্রটি দিয়ে শাহজাহানকে গুলি করা হয়েছে সে অস্ত্রটি কোথায়? এ প্রশ্নের সদোত্তর মিলছে না কারও কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গুলির ঘটনা ধামাচাপা দিতে কাউন্সিলর আবু তাহের চারদিকে টাকা ছিটাচ্ছেন। গুলির আলামত নষ্টের লক্ষ্যে তাঁতীলীগ নেতা শাহজাহানকে ট্রুমা সেন্টার থেকে বের করে নিজের কব্জায় নিয়ে গেছেন। অজ্ঞাত কোথাও রেখে চলছে তার চিকিৎসা। চিকিৎসার খরচ বহন করছেন কাউন্সিলর নিজে। কোথায় তার চিকিৎসা চলছে, এ বিষয়ে ভয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না আহতের স্বজনরা। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কাউন্সিলর আবু তাহের এলাকায়ই আছেন। এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও নিজের ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বন্ধ রেখেছেন। তবে অ্যাকটিভ রয়েছে ফেসবুক-মেসেঞ্জার। গুলির ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি নানামুখী পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি তাঁতীলীগ নেতাকে নিজের কব্জায় নিয়ে গেছেন। সোম ও মঙ্গলবার দারুসসালাম এলাকায় ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সোমবার রাতেও কাউন্সিলর আবু তাহের গৈদারটেক এলাকার রাস্তায় মাতলামি করেছেন। বলেছেন, ‘সব এখন আমার কব্জায়। কেউ আমার একটি পশমও নাড়াতে পারবে না। আমি আবু তাহের উড়তে জানি, পড়তে জানি না।’ কাউন্সিলর আবু তাহেরের বাসা দারুসসালাম থানার গৈদারটেক এলাকায়। তার বাসার সামনে একটি গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে বাস রাখা হয়। প্রতিদিনই রাত ১০টার দিকে বাসের চালক সেখানে বাস রাখতে যান। গত বৃহস্পতিবার একটু দেরি হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে গ্যারেজে বাস রেখে চালক ও হেলপারের কাছ থেকে হিসাব বুঝে নিচ্ছিলেন বাসের মালিক তাঁতীলীগ নেতা শাহজাহান। এমন সময় হঠাৎ আবু তাহের মদ্যপ অবস্থায় সেখানে এসে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় তার হাতে পিস্তল ছিল। এটা দেখে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।
তখন আবু তাহের শাহজাহানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তার ডান পায়ের হাঁটুর ওপরে দুটি ও নিচে একটি গুলি লাগে। পরে রাস্তায় ফেলে মারধর করেন কাউন্সিলর। এরপর শাহজাহানকে একটি রিকশায় তুলে দেন তিনি। স্বজনরা তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে রাত দেড়টার দিকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে কাউন্সিলর আবু তাহেরের লোকজন শাহজাহানকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে ট্রুমা সেন্টারে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শাহজাহানের ছোট ভাই শামীম বাদী হয়ে শুক্রবার দারুসসালাম থানায় কাউন্সিলর আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর আবু তাহেরের ভাই স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু রায়হান কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাঁতীলীগ নেতা শাহজাহান মিয়ার ছোট ভাই শামীম যুগান্তরকে বলেন, ট্রুমা সেন্টারে চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল। এ কারণে শাহজাহান মিয়াকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে কোথায় নেয়া হয়েছে, কোন ক্লিনিকে চিকিৎসা চলছে তা বলতে নারাজ শামীম। এ ব্যাপারে দারুসসালাম থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিলর আবু তাহের পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। শোনা যাচ্ছে কাউন্সিলর এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। শাহজাহান মিয়াকে ট্রুমা সেন্টার থেকে সরিয়ে কোথায় নেয়া হয়েছে তাও জানেন না তিনি।

No comments:

Post a Comment