Saturday, December 9, 2017

গাজায় আবারো হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা

ইসরাইলের হামলায় আহত এক
শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছে
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় শুক্রবার রাতে আবারো বিমান ও ট্যাংক নিয়ে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে ছয় শিশু রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ খবর জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের জেরুসালেম শহর নিয়ে যখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে তখন এই হামলার ঘটনা ঘটলো। ইসরাইলি সেনারা গাজা উপত্যকার বেইত হানুন শহরের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে কামানোর গোলা বর্ষণ করে। এ শহরের পূর্বাঞ্চলে কয়েকজন হামাস যোদ্ধার ওপরও বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এছাড়া, গাজার বেইত লাহিয়া শহরে বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে ইসরাইল। গাজা উপত্যকার উত্তরে শেখ জায়েদ এলাকায় ইসরাইলি বিমান থেকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ছয় শিশুসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইল দাবি করেছে, গাজা থেকে রকেট ছোঁড়ার পর এসব হামলা চালানো হয়। ইসরাইলের বিমান ও ট্যাংক হামলার কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে-যেকোনো সময় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।
ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ২ ফিলিস্তিনি নিহত : আহত ৩০০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পর ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স। বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা শুক্রবার বিক্ষোভ দিবসের ডাক দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের ঠেকাতে শত শত অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে ইসরাইল। বিােভকারীরা গাড়ির টায়ার জ্বালায় ও পাথর ছুড়ে মারে। জবাবে ইসরাইলি সেনারা টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়াসহ তাজা গুলিবর্ষণও করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাজা থেকে ইসরাইলে দুটো রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। গাজায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে দু’জন নিহত হন। আহত হন ২৫০ জন। এ ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের সীমান্ত বেষ্টনী এলাকায় সেনাদের ল্য করে পাথর ছুড়ে মারেন। এ ছাড়া জেরুসালেমসহ বেথলেহেম, রামাল্লাহ ও অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ-সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকা, ট্রাম্পের ছবি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি সেনাদের ওপর পাথর ছুড়ে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসরাইলি সেনারা তাদের ওপর গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিপে করে। জুমার নামাজের পর জেরুসালেমে আল আকসা মসজিদের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। হেবরন, নাবলুস, জেনিন, তুলকারেম ও জেরিখোতেও বিক্ষোভ হয়েছে। গাজার খান ইউনুস এলাকায় বিাক্ষোকারীদের ল্য করে গুলি ছুড়েছে ইসরাইলি পুলিশ। এতে কমপে চারজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানান, ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। একজন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্য ১৪ জন রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র দাবি করেছে, পাথর ছোড়া শত শত বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ‘রায়ট-ডিসপারজাল গিয়ার’ ব্যবহার করেছে সেনারা। প্রত্যদর্শীরা জানান, পশ্চিমতীরের হেবরন ও আল-বিরেহ শহরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে অংশ নেন এবং ‘জেরুসালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। গাজা উপত্যকায় সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভের সময় অন্য পাশে ইসরাইলি সেনাদের ল্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। জবাবে ইসরাইলি সেনারা গুলি ছোড়ে। এতে দুই বিক্ষোভকারী আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এর প্রতিবাদে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন বা হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া নতুন ইন্তিফাদা বা গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকেই গাজার বিভিন্ন শহর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গাজা ও পশ্চিমতীর। এ দিকে জর্দানের রাজধানী আম্মানে আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করেন।
আম্মানের পাশে বাকা আশ্রয় শিবিরের শত শত ফিলিস্তিনি রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ১৯৯৪ সালে ইসরাইলের সাথে স্বারিত শান্তিচুক্তি প্রত্যাহারে জর্দান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে ধ্বনি তোলেন, ‘আমেরিকার পতন হোক... আমেরিকা সন্ত্রাসের জননী।’ হজরত ঈসা আ:-এর পবিত্র জন্মভূমি হিসেবে প্রসিদ্ধ ঐতিহ্যবাহী বেথলেহেমে খ্রিষ্টমাসের বাতি নিভিয়ে দেন খ্রিষ্টান বিােভকারীরা। খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করে, বেথলেহেমের ‘চার্চ অব দ্য ন্যাটিভিটি’ যিশুখ্রিষ্টের জন্মস্থান। এ চার্চের বাইরে একটি ও রামাল্লাহতে ইয়াসির আরাফাতের কবরের পাশে আরেকটি খ্রিষ্টমাস ট্রির শোভাবর্ধক বাতি নিভিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। ফিলিস্তিনের সব রাজনৈতিক দলমত ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভে নামে। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলবে। গাজা উপত্যকার উত্তরাংশে জাবালিয়া আশ্রয়শিবিরের কয়েক শ’ ফিলিস্তিনি ট্রাম্পের ঘোষণার বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে। গাজা সিটির প্রাণকেন্দ্র ও গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একই চিত্র দেখা গেছে। ফিলিস্তিনের মরহুম নেতা ইয়াসির আরাফাতের ছবি ও তাদের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের আমেরিকাবিরোধী মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আকাশ-বাতাস। ফিলিস্তিনি রেড ক্রস জানায়, পশ্চিমতীরে বন্দুকের গুলি বা রাবার বুলেটের আঘাতে ২২ জন আহত হন। এ দিকে রামাল্লাহর প্রবেশপথের একটি নিরাপত্তা ফাঁড়িতে সমবেত হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসরাইলি বাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ফিলিস্তিনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, দীর্ঘ দিনের নীতি পরিবর্তন করায় ফিলিস্তিনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে অভিনন্দন জানানো হবে না। এর মধ্য দিয়ে এ নগরীর বিষয়ে দীর্ঘ কয়েক দশকের অস্পষ্ট মার্কিননীতি উন্মোচিত হলো। এ মাসের শেষের দিকে পেন্স ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠক তারা ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ হিসেবে বাতিল করবে। এটি নিয়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাইক পেন্সের সাথে মাহমুদ আব্বাসের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করলে তা ফিলিস্তিনের জন্য ‘উল্টো ফল’ বয়ে নিয়ে আসবে।

No comments:

Post a Comment