Monday, December 11, 2017

অফশোর প্রতিষ্ঠান গড়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ

আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে চারটি বিদেশি কোম্পানির নামে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) অফশোর প্রতিষ্ঠান গড়ে দেশ থেকে অর্থ পাচার করা হয়েছে। পাচার সংক্রান্ত এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও সাবেক দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। রোববার দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে চারজনকে তলব করে নোটিশ পাঠানো হয়। ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ছাড়া আরও তিনজনকে তলব করা হয়েছে। তারা হলেন, সাবেক এমডি এম ফজলুর রহমান ও শামীম আহমেদ চৌধুরী এবং ব্যাংকের হেড অব ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউট অ্যান্ড ট্রেজারি আবু হেনা মোস্তফা কামাল। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক ও সাবেক এমডি ফজলুর রহমানকে ১৩ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় এবং বাকি দু’জনকে ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে সহযোগী কর্মকর্তা হিসেবে দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য যুগান্তরকে বলেন, এবি ব্যাংকের অর্থপাচার অভিযোগ অনুসন্ধানে দুই সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। এক পরিচালকের নেতৃত্বে দলটি গঠন করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তারা ব্যাংকের চেয়ারম্যান, সাবেক দুই এমডি ও এক কর্মকর্তাকে তলব করেছেন। যে চারটি বিদেশি কোম্পানির নামে টাকা নেয়া হয়েছে সেগুলো হলÑ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্লোবাল এমই জেনারেল ট্রেডিং ও সেমাট সিটি জেনারেল ট্রেডিং, সিঙ্গাপুরের এটিজেড কমিউনিকেশনস পিটিই লিমিটেড ও ইউরোকারস হোল্ডিংস পিটিই লিমিটেড। ১৬ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রিজওয়ানুল হুদা স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের বিষয়ে এসব তথ্য প্রথমে তুলে ধরা হয়েছিল। সম্প্রতি সেই প্রতিবেদনটি দুদকের কাছে এলে এবি ব্যাংকের অর্থ পাচারের অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে পুরো অভিযোগের অনুসন্ধান একসঙ্গে নয়, আলাদাভাবে চলতে পারে বলে জানিয়েছেন দুদকের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমরা প্রথম দফায় ২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ দেখিয়ে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছি। এর অংশ হিসেবে এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ চারজনকে তথ্যপ্রমাণসহ দুদকে হাজির হতে নোটিশ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো অভিযোগেরই অনুসন্ধান হবে। এতে ওই চার কর্মকর্তা ছাড়া আরও যাদের নাম বেরিয়ে আসবে, তাদের ডাকা হবে। তদন্তের স্বার্থে দুদকে আসার সময় এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ চারজনকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা ও লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু রেকর্ডপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নিয়ে আসতে হবে। ৫৩৯, ৫৪০ ও ৫৪৫তম বোর্ড সভায় উপস্থাপিত পৃথক তিনটি মোমা, পিজিএফের অর্থায়নবিষয়ক প্রাপ্ত প্রস্তাব এবং এ বিষয়ে ‘ওয়াকালা চুক্তিপত্র’ আনতে হবে। পিজিএফের আর্থিক বিবরণী ও নির্দেশক বিশ্লেষণ, মেমোরেন্ডাম আর্টিক্যাল অব অ্যাসোসিয়েশন, নিবন্ধন সনদও তাদের নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া ক্রেডিট রিপোর্ট, বিজনেস প্রোফাইল, সংশ্লিষ্ট চুক্তিতে পিজিএফের পক্ষে অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্কসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় যোগাযোগপত্র নিয়ে তাদের দুদকে হাজির থাকতে হবে। এছাড়াও নোটিশে আর বেশ কিছু নথি আনতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘চ্যাং বেও জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি কোম্পানি’র মেমোরেন্ডাম আর্টিক্যাল অব অ্যাসোসিয়েশন, নিবন্ধন সনদ, হিসাব খোলার ফর্ম আনতে হবে। জয়েন্ট সিগনেটরির প্রমাণ এবং এ সংক্রান্ত এবিসিডি প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডপত্রসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্র সঙ্গে নিয়ে দুদকে হাজির হতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের আইনগত মতামতের কপি নিয়ে আসতে হবে। এবি ব্যাংকের সুইফট মেসেজ, চ্যাং বেও জেনারেল ট্রেডিং এলএলসির হিসাবে জমা হওয়া ডলার ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থান্তরের ডকুমেন্ট, ট্রানজেকশনের কাগজপত্র আনতে হবে। দুদক থেকে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও এবি ব্যাংকের কাছে রক্ষিত সব ধরনের রেকর্ডপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment