
২০১৭
সালকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে এবং আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে উত্তর
কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার বছর বলে অভিহিত
করা হলে অত্যুক্তি হবে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বাগ্যুদ্ধ।
পিয়ংইয়ং এ বছর ওয়াশিংটন ডিসির এতটাই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে গত
নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এশিয়া সফর অনেকটাই উত্তর কোরিয়া
সংকট মোকাবিলায় সমর্থন আদায়ের সফরে পরিণত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উৎকণ্ঠা আর প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের
নিয়ন্ত্রণাধীন দ্বীপ হাওয়াইয়ে স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রথমবারের মতো
পারমাণবিক বোমা হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠা ২০১৭ সালকে আরও
অনিশ্চিত করে তুলেছে। এ বছর প্রথমবারের মতো গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যম
পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এরপর
গত মার্চ মাসে দুই দফায়, এপ্রিলে তিন দফায় এবং মে মাসে অন্তর্বর্তী
পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি। জুলাই
মাসে দুই দফায় আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা
চালায় উত্তর কোরিয়া। জুন ও আগস্ট মাসেও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়
দেশটি। ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠবারের মতো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা
চালায়।
একই মাসে জাপানের ওপর দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র
ছোড়ে। গত ২৯ নভেম্বর পিয়ংইয়ং সাম্প্রতিকতম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাটি চালায়।
উত্তর কোরিয়ার এই পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আঞ্চলিক ও
আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে এতটাই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা
পরিষদ এ বছর তিন দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সবশেষ নিষেধাজ্ঞাটি আসে ২২
ডিসেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায়ও উত্তর কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত
করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে জড়িত উত্তর কোরিয়ার দুই বিশেষজ্ঞের
বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। পিয়ংইয়ংয়ের ঔদ্ধত্য
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বারবার চীনের প্রেসিডেন্ট
সি চিন পিংয়ের দ্বারস্থ করেছে। বেইজিং অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা
জাতিসংঘের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও
জাপানের সঙ্গে সামরিক মহড়াও চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সবকিছু ছাপিয়ে
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে ট্রাম্প ও কিম জং-উনের
বাগ্যুদ্ধ। ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি তাঁরা পরস্পরকে। যেমন
ট্রাম্পের এশিয়া সফরের সময় তাঁকে ‘বুড়ো’ বলে মন্তব্য করেছিলেন জং-উন। এতে
ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প টুইট করেছিলেন, ‘সে (জং-উন) কেন আমাকে বুড়ো ডাকবে? আমি
কি কখনো তাকে বেঁটে আর মোটা বলেছি?’ এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি
ট্রাম্পকে ‘ডোটার্ড (ভীমরতিগ্রস্ত বৃদ্ধ)’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
No comments:
Post a Comment