Monday, December 4, 2017

চিরনিদ্রায় শায়িত স্বপ্নবাজ মেয়র আনিসুল হক

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) স্বপ্নবাজ মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ শনিবার ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে আর্মি স্টেডিয়ামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার দুপুরে লন্ডন থেকে তার মরদেহ আসার পর বনানীর বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জানাজার জন্য তার মরদেহ আর্মি স্টেডিয়ামে নেয়া হয়। তার জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজার সময় পুরো স্টেডিয়ামে ছিল উপচেপড়া ভিড়। আনিসুল হকের মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ (বিজি-০০২) শনিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মেয়র আনিসুল হকের ছোট ভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হক প্রমুখ। একই বিমানে এসেছেন আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে নাভিদুল হক, দুই মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা ও তানিশা ফারিয়াম্যান হক। আনিসুল হকের মরদেহ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বনানীর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আনিসুল হকের মরদেহের সামনে শেখ হাসিনা মোনাজাত করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে আনিসুল হকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের প্রিয় মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এরপর আনিসুল হকের মরদেহ আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজার আগে তার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন, স্পিকার শিরীন শারমিনের পক্ষে ক্যাপ্টেন মোশতাক আহমেদ শ্রদ্ধা জানান। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, বিকেএমইএ, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জানাজা শেষে আর্মি স্টেডিয়াম থেকে মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ বনানী কবরস্থানে নেয়া হয়। সেখানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘদিন আইসিইউতে থেকে তিনি চিকিৎসা নেন। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তার কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে আবার আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর তার ফুসফুসও আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান মেয়র আনিসুল হক।
৬ ডিসেম্বর কুলখানি : গুলশানের আজাদ মসজিদে বুধবার বাদ আসর মেয়র আনিসুল হকের কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে তার আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মেয়রের স্মরণে এক ঘণ্টা বেশি কাজ করলেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা : মেয়র আনিসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা রোববার এক ঘণ্টা বেশি কাজ করেছেন। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ করলেও রোববার দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা কাজ করেন। এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, মেয়র আনিসুল হক একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার প্রতি অন্য সবার মতো পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও রয়েছে অনেক ভালোবাসা। তার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এক ঘণ্টা বেশি কাজ করেন। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক পালন করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রোববার ছুটি ঘোষণা করা হয়। মেয়র আনিসুল হকের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়সহ আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে বোরবার অর্ধদিবস ছুটি পালিত হয়।

No comments:

Post a Comment