Wednesday, December 27, 2017

কক্সবাজারে ১৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ল্যাব অচল


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার একটি পদরক্ষপ জনবল সংকট প্রকট হওয়ায় সাড়ে ৩ বছরে ও পুরোপুরি চালু করা যায়নি জেলার ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ল্যাব।
মহাজোট সরকারের সময়ে গত ২০১৪ সালের আগষ্টে দেশব্যাপী তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দেশের যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শতভাগ, যাদের বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সুবিধা পর্যাপ্ত সেসব প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব চালু করে সরকার। তারই অংশ হিসাবে জেলায় প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮টি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় কম্পিউটার ল্যাব চালু করা হয়। প্রতিটি ল্যাবে দেওয়া হয় ৮টি কম্পিউটার ইউপিএস, প্রিন্টার, মডেম সহ আউটপুট ও ইনপুট ডিভাইস। মহাজোট সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ হিসাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছিল।
সে সময় যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয় তা হল পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া জি.এম.সি ইন্সটিটিউট, শীলখালী উচ্চ বিদ্যালয়, চকরিয়া উপজেলার ৩টি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে- চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ, রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসা।কুতুবদিয়া উপজেলার ২টি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে- কুতুবদিয়া বিএন কলেজ, কুতুবদিয়া কলেজ।মহেশখালীর কালামারছড়া আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, পানিরছড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। সদর উপজেলার কক্সবাজারে ইসলামীয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা, খুরুশকুল উম্মে সালমা (রা) বালিকা মাদ্রাসা।রামু উপজেলার কাউয়ার খোঁপ হাকিম রকিমা উচ্চ বিদ্যালয়।টেকনাফ উপজেলার আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়। উখিয়া উপজেলার ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে- মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুতুপালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।জেলার উক্ত ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব চালুর সাড়ে ৩ বছর অতিবাহিত হলেও জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব, কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সরকারের ডিজিট্যাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। এদিকে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ কম্পিউটার অপারেটর এবং কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় দুই তৃতীয়াংশ কম্পিউটার ল্যাব অকার্যকর হয়ে পড়েছে।। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ দক্ষ জনবলের অভাবে সুফল বঞ্চিত হলেও দীর্ঘ দিন যাবৎ কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় হতাশ সচেতনমহল। মাধ্যমিক স্তরে জনবল কাঠামোতে শিক্ষক হিসাবে ‘কম্পিউটার বিষয়ের পদ রয়েছে ১টি। অথচ ৮টি কম্পিউটার নিয়ে একটি ল্যাব পরিচালনা করা দূরুহ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সালেহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, জনবল সংকটের কথা সত্য তবে যা আছে তা দিয়ে কোন মতে চলছে। তাছাড়া ২০১৪ সালের পরে যে ৩০টি শেখ রাশেল ডিজিট্যাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে তা ভালমত চলছে। ল্যাব তদারকির জন্য ২ জন পরিদর্শক মাঠে কাজ করেন বলে ও তিনি জানান। এছাড়া শহরের স্কুল সমুহে কম্পিউটার ল্যাব চালু রয়েছে। তিনি ও জনবল বৃদ্ধি ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। বিভিন্ন উপজেলার ল্যাব সমুহ কোনমতে চললেও এর পুরোপুরি সুফল এখনো পাওয়া যাচ্ছেনা। অনেক প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষকগণ কোন প্রশিক্ষণ পর্যন্ত পায়নি। ফলে প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শহরের প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে মফস্বলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ।
এদিকে সদরের খুরুস্কুল উম্মে সালমা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মৌলানা মনছুর আলম আযাদ কম্পিউটার ল্যাবের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে বলেন- সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে কেউ খোঁজ রাখেনি ল্যাবের। ফলে মাত্র ১টি ল্যাপটপ, ২টি কম্পিউটার কোন মতে চলছে। বাকি ৬টি কম্পিউটার এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তাগণ আসলেও ল্যাবের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেখার বা ঠিক করার জন্য কোন বাজেট না থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এর সুফল বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য ১৮টি প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত কম্পিউটারে যথার্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে তথ্য প্রযুক্তির সকল সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম বিশেষ করে রেজিষ্ট্রেশন, ফলাফল, তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা, ডিজিট্যাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান সহজ হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সাথে বহিবির্শ্বের সাথে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

No comments:

Post a Comment