Wednesday, December 6, 2017

স্বীকারোক্তি দেয়া আট আসামিও জামিনে

রাজধানীর উত্তরায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র আদনান কবির হত্যা মামলায় ২২ আসামির মধ্যে ১৪ জন জামিনে বেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া আট আসামিও রয়েছে। আদনানের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনসেটটি উদ্ধার হয়নি। ফোনটি পলাতক আসামি আহমেদ জিহানের কাছে আছে বলে জানিয়েছে ছয় আসামি। এ ছাড়া জিহানসহ সন্দেহভাজন দুই আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। হত্যাকাণ্ডের পর ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও চার্জশিট না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে আদনানের পরিবার। আদনানের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের অবহেলায় আসামিরা জামিনে বের হওয়ায় সুযোগ পেয়েছে। পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ আসামিরা এলাকায় হরহামেশা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ বেশ তৎপর ছিল। দ্রুত কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পুলিশ তদন্তে গাফিলতি করছে। অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কাজ চলছে। চলতি মাসে এ মামলার চার্জশিট দেয়া হবে। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়ার পর কয়েকজন আসামি তাদের যে নাম-ঠিকানা দিয়েছিল তার সঙ্গে তদন্তে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে পলাতক আসামি অনিক, রবিউল ও জিহানও রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা রাজ্জাক বলেন, অনিকের মোবাইল ফোনসেট উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্তে গাফিলতির কারণে আসামিরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে কি-না জানতে চাইলে রাজ্জাক আরও বলেন, জামিন দেয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ আদালতের। এ বছরের ৬ জানুয়ারি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আদনানকে (১৪) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আদনানের বাবা কবির হোসেন উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় নাইমুর রহমান অনিক, রবিউল ইসলাম, শাহরিয়ার বিন সাত্তার ওরফে রায়হান আহমেদ সেতু ওরফে ডিসকো সেতু, আহমেদ জিহান ওরফে জিয়ান, আক্তারুজ্জামান ছোটন, সাদাফ জাকির, নাফিজ মো. আলম ডন ও নাজমুস সাকিবকে আসামি করা হয়।
এ ছাড়া ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে সাদাফ জাকির, শ্রাবণ, শিশির, হৃদয়, জুইস, ডন, সাকিল সরকার,  মেহরাব, সাফিন, শাহিনুর, সেলিম, মিজান, তুষার ও বাবু জামিন পেয়েছে। তাদের মধ্যে শ্রাবণ, শিশির, হৃদয়, জুইস, সাকিল, মেহরাব, সাফিন ও তুষার ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিল। স্বীকারোক্তি দেয়া ১৩ জনের মধ্যে নূরে আলম, করিম, রনি, সোহাগ, হৃদয় ও সাকিল পুলিশকে জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জিহান মোবাইল ফোনসেটটি নিয়ে পালিয়ে যায়। কবির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে প্রশানের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া আসামিদের নাম-ঠিকানা কেন পাওয়া যাচ্ছে না- এটা একটা প্রশ্ন? তিনি বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা রাজ্জাক বলেন, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নেয়া হয়েছে। বাকিদের বক্তব্য শিগগিরই নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রথম দিকে মামলাটির তদন্ত করেছিলাম। পরে পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শাহ আলমকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। অন্যত্র তিনি বদলি হওয়ায় ফের আমাকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে। এ কারণে তদন্তে একটু বেশি সময় লাগছে। তবে এ মাসে চার্জশিট দাখিল করতে পারব।

No comments:

Post a Comment