Wednesday, January 10, 2018

নতুন শহর গড়ার দাবিতে সমাবেশ

প্রস্তাবিত নকশার পরিবর্তে পুরনো নকশা বহাল রেখে ‘বিকল্প’ প্রস্তাবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় নতুন শহর গড়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বসতভিটা রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার জয়বাংলা বাজারে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়। সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রশাসনিক ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বসতভিটা রক্ষা কমিটির ‘বিকল্প’ প্রস্তাব অনুযায়ী চার ইউনিয়নে সমহারে জমি অধিগ্রহণ করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।  নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, বিকল্প প্রস্তাবে শহর গড়া হলে চরাঞ্চলবাসীর ক্ষতি কম হবে এবং নতুন শহরের সুবিধাভোগ করতে পারবেন। ময়মনসিংহ শহরের পূর্বপাড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে সমান্তরালভাবে নতুন শহর গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। গত ২৮ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিভাগীয় কমিশনারের নতুন শহর গড়ার লক্ষে নির্মিত শহরে ৩০৭ একর জমিতে ৫২টি ব্লকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুর্নবাসন ও জমির মূল তিনগুণ করার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে বসতভিটা রক্ষা কমিটির প্রায় দুই বছর ধরে আন্দোলনের কর্মসুচী পালন করে বাসছেন। প্রকৌশলী কাজী রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহবায়ক ও ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাচ্চু, চরসিরতা ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক হারুন অর রশিদ, সাজেদুল ইসলাম সবুজ, আসমা আক্তার, গোলাম কিবরিয়া, শাহজাহান মিয়া, শাহ আলম বাদশা, হেলাল উদ্দিন, আমানুল্লাহ, জমশেদ আলী প্রমুখ। সমাবেশ উপলক্ষে জয়বাংলাবাজারের সকল দোকান পাট ও চরাঞ্চলে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড়ের চার হাজার ৩৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর বাস্তবায়ন করা হলে ১৭ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার মানুষ, ২৮ হাজার বাড়িঘর, ৪৭৫টি পারিবারিক কবরস্থান, ৩০টি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি হাইস্কুল, ৬টি ঈদগাহ মাঠ, পাঁচটি বাজার, ৪৭টি মসজিদ, ২৫টি মাদরাসা, চারটি মন্দির, দু’টি মাজারসহ বৃক্ষরাজি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রথমে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে এক হাজার দুইশত কুড়ি একর জমিতে নতুন শহর গড়ার নকশা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ওই নকশা বাতিল করে নতুন নকশা অনুযায়ী চার হাজার ৩৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর থেকেই চরাঞ্চলের মানুষ উচ্ছেদের আশঙ্কায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে বিগত প্রায় দুই বছর ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ লাগাতার কর্মসুচী পালন করে আসছেন।

No comments:

Post a Comment