Saturday, January 20, 2018

ডাকসু বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার দুই সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। হাইকোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান করার আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও নির্দেশ দিয়েছেন। ডাকসু নির্বাচনের দাবি অনেক পুরনো।
এ নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত শতাব্দীতে- ১৯৯০ সালের জুনে। এরপর ১৯৯৮ সালে ডাকসুর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ২৭ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, অথচ দেশের সেকেন্ড পার্লামেন্ট হিসেবে খ্যাত এ নির্বাচনের প্রয়োজন অপরিসীম। প্রথমত, ডাকসু অতীতে এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনেও এর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের প্রয়োজনেও নির্বাচনের মাধ্যমে ডাকসু গঠন যে অতীব প্রয়োজন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দ্বিতীয়ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসসহ নানা ধরনের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যও একটি নির্বাচিত ফোরাম দরকার, যা ছাত্রসমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসহ ক্যাম্পাসের সহিংসতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। ডাকসু হতে পারে সেই ফোরাম। তৃতীয়ত, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণেও ডাকসু একটি প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো হতে পারে।
বলা হয়ে থাকে, ডাকসু রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাপ্লাই লাইন। এ দেশের অনেক রাজনীতিকেরই রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এসব নেতা প্রতিনিধিত্বশীল রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। চতুর্থত, ডাকসুর অবর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাত্রসমাজের দাবি-দাওয়া আদায়ে কোনো স্বীকৃত সংগঠন নেই, যে কারণে ছাত্রসংগঠনগুলো নিজ নিজ নেতৃত্ব ফলাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়, যা কখনও কখনও সহিংসতায় রূপ নেয়। ডাকসু গঠিত হলে গোটা ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্বশীল একটি সংস্থা গড়ে উঠবে। আদালতের নির্দেশের পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান এখন বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। আমরা আশা করব, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ নির্বাচনের আয়োজন করবে। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিধা-সংশয় থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। অন্যথায় আদালতেরই অবমাননা হবে।

No comments:

Post a Comment