Saturday, January 6, 2018

সরকার নিম্ন আদালতকে আরো কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে : মওদুদ

নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিএনপি উপযুক্ত সময়ে আন্দোলনের কর্মসূচি দেবে জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই সরকার বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির মাধ্যমে নিম্ন আদালতকে সরকার আরো কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। আজ শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মওদুদ আহমদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সমঝোতার পথে যাবে না। একমাত্র বিকল্প হলো রাজপথ। গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সময় যখন আসবে, তখন আমরা কর্মসূচি দেবো। সেজন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। একটা উপযুক্ত সময়ে, উপযোগী সময়ে আন্দোলনের সেই কর্মসূচি দেয়া হবে। সেই কর্মসূচি সফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনকে গণআন্দোলনে রূপান্তরিত করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ২০১৪ সাল আর ২০১৮ সাল এক নয়। এবার আমরা নির্বাচন করবো, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি আমরা নেবো। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন।
কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির যে ভোটবিহীন নির্বাচন হয়েছিলো, সেই নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনোদিন হতে দেয়া হবে না। রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে ‘৫ জানুয়ারি কলঙ্কিত নির্বাচন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অধঃস্তন বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার মাধ্যমে নিম্ন আদালতকে সরকার আরো কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার (সদ্য পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতি) ঘটনার মাধ্যমে সরকার নিজেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার এটা সম্পূর্ণভাবে হরণ করে নিয়েছে। এখন তারা নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য একটা শৃঙ্খলা বিধির গেজেট করেছে। এই গেজেটের মাধ্যমে নিম্ন আদালতকে এখন আরো কঠিনভাবে নির্বাহী বিভাগের অধীনে, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই গেজেট মাজদার হোসেন রায়ের অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। এই রায়ের মূল বিষয় ছিলো বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ করা হবে। মওদুদ আহমদ বলেন, এতোদিন যেভাবে নিম্ন আদালত নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে, এই গেজেটের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও নিয়ন্ত্রিত হবে। আমরা আইনের শাসনে যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য এটা আমাদের সবার জন্য দুর্ভাগ্যের।

No comments:

Post a Comment