
আমরণ
অনশনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সোমবার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ১৩ জন নন-এমপিও
শিক্ষক-কর্মচারী। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা বলছেন, এবার দাবি পূরণ ছাড়া তাঁরা ঘরে ফিরবেন না,
প্রয়োজনে আত্মাহুতি দেবেন। তবে গতকাল পর্যন্ত সরকার থেকে কোনো সাড়া পাননি
এসব শিক্ষক।
সরকার-স্বীকৃত সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয়
প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন ওই সব প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষক-কর্মচারীরা। টানা পাঁচ দিন অবস্থান কর্মসূচি শেষে গত রোববার থেকে
তাঁরা আমরণ অনশন শুরু করেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী
ফেডারেশনের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। গতকাল অনশনের দ্বিতীয় দিনে সারা
দেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদ্যাপিত হলেও নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসব
ছাড়াই বই দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা। যেসব
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অংশ
দেওয়া হয়, সেগুলোকে এমপিওভুক্ত বলা হয়। আর যেগুলো এমপিওভুক্ত নয়, সেগুলোর
শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। এগুলোকে সংক্ষেপে
নন-এমপিও বলা হয়। গতকাল অনশনস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক-কর্মচারীরা
ক্লান্ত দেহে শুয়ে-বসে অনশন পালন করছেন। অভুক্ত থাকায় তাঁরা আরও দুর্বল হয়ে
গেছেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি
গোলাম মাহমুদুন্নবী প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল পর্যন্ত অনশনে অংশ নেওয়া ১৩ জন
শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁরা হলেন নড়াইলের এ বি এম বুলবুল,
পাবনার নান্নু মিয়া, কুড়িগ্রামের মো. ফরহাদ, ঠাকুরগাঁওয়ের আবদুল খালেক ও
আকবর আলী, কুষ্টিয়ার আবদুর রাজ্জাক, নাটোরের মতিউর রহমান, সাতক্ষীরার
মাহবুবুর রহমান, বরিশালের ফজলুর রহমান, বজলুর রহমান ও রুনা আক্তার,
সিরাজগঞ্জের গোলাম মোস্তফা ও রংপুরের আরেক শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে ছয়জন
হাসপাতালে আছেন। অনশনে অংশ নেওয়া নারী শিক্ষকদের বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে
জানালেন কয়েকজন নারী শিক্ষক। বগুড়ার শেরপুরের সীমাবাড়ি মহিলা কলেজের
অধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমীন জানালেন, তিনি ১৯৯৮ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
গত বছর অধ্যক্ষ হয়েছেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সরকার থেকে কোনো
বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। কথা বলার সময় কাঁদছিলেন এই শিক্ষক। বললেন, অনেক
সমস্যা নিয়ে চলতে হচ্ছে। এই শিক্ষকের পাশেই ছিলেন পটুয়াখালীর সদরে অবস্থিত
পাক্ষিয়া সাইদিয়া ইসলামী কলেজের জীববিজ্ঞানের শিক্ষক ফাহমিদাহ জাহান।
বলেছিলেন, যাঁরা বেতন পান, সরকার তাঁদের বেতন দ্বিগুণ করেছে। কিন্তু
নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনো বেতনই দেওয়া হচ্ছে না। তিন সন্তানের
মা ফাহমিদাহ জাহান জানালেন, স্বামীর জমিতে চাষাবাদ করে তাঁদের সংসার চলে।
শিক্ষকদের অনশন ভাঙাতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান গতকাল
রাতে প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ও সচিব ছাড়া তিনি কি যেতে পারেন?
মন্ত্রী ও সচিব যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই কাজ করবেন। তবে এ বিষয়ে
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত রোববার প্রথম আলোকে বলেছিলেন,
এমপিওভুক্তির জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষকদের হয়েই তিনি কাজ
করছেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষকেরা তাঁর কথা প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে
যাবেন। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ গতকাল এক বিবৃতিতে
নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে সরকারের
প্রতি আহ্বান জানান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমৃদ্ধ করা, সুশিক্ষার পরিবেশ
সৃষ্টি এবং শিক্ষার সুষ্ঠু বিকাশের জন্য এমপিওভুক্তি অত্যন্ত জরুরি বলে মত
দেন তিনি।
মাদ্রাসাশিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান
মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে চলা সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল সোমবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক পাশে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে যেভাবে জাতীয়করণ করা হয়েছে, তাঁদেরও সেভাবে জাতীয়করণ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
মাদ্রাসাশিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান
মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে চলা সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল সোমবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক পাশে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে যেভাবে জাতীয়করণ করা হয়েছে, তাঁদেরও সেভাবে জাতীয়করণ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
No comments:
Post a Comment