
দেশের
অষ্টম বিভাগ হিসেবে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর যাত্রা শুরু হয় ময়মনসিংহ
বিভাগের। একে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় স্বপ্ন। কিন্তু
দুই বছরেও তা বাস্তবে রূপ পায়নি। নতুন বিভাগটিতে এখনো তৈরি হয়নি অবকাঠামো,
নিয়োগ হয়নি জনবল। উপরন্তু বিভাগীয় শহরের সঙ্গে অন্য জেলার বেহাল সড়ক
যোগাযোগ, শহরে জলজট, যানজটসহ নানা ভোগান্তি রয়েছে বলে বিভাগবাসী জানিয়েছেন।
তাঁরা এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান চান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি
গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া
ব্রহ্মপুত্র নদের চর এলাকায় ৪ হাজার ৩৩৬ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়
সরকার। কিন্তু এ এলাকার মানুষের তীব্র বাধার মুখে এ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে
পড়েছে। তবে স্থানীয় রাজনীতিক, সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজের দাবি, যেকোনো
মূল্যে জমি অধিগ্রহণ করে ‘স্বপ্নের ময়মনসিংহ শহর’ গড়ে তোলা এবং বিভাগীয় সব
কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দ্রুত বিভাগটির উন্নয়ন করা দরকার। জেলা আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণ করার ক্ষেত্রে
মানুষকে ভুল বুঝিয়ে উত্তেজিত করা হচ্ছে। এটি উন্নয়ন ব্যাহত করার চক্রান্ত।
যতটুকু সম্ভব জনগণকে বুঝিয়ে এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জমি
অধিগ্রহণের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হোক। জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘মানুষের ক্ষতি না করে, ক্ষতিপূরণ দিয়ে যদি আধুনিক
ময়মনসিংহ শহর গড়ে তোলা হয়, তাহলে আমরা সরকারের সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ
জানাই।’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগ
প্রতিষ্ঠার পরপর এখানে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রেঞ্জ পুলিশের
কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের
কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন
রয়েছে শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ১৪টি কার্যালয়
প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এগুলো হলো বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা, আঞ্চলিক খাদ্য
নিয়ন্ত্রক, ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, হিসাব
নিয়ন্ত্রক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান,
কর্মসংস্থান ও জনশক্তি, টিসিবি, তথ্য, স্থাপত্য অধিদপ্তর, নগর উন্নয়ন
অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়।
এসব কার্যালয়ের প্রস্তাব থাকলেও প্রধান
কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়ায় কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। এ বিষয়ে বিভাগীয়
কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘নিজ নিজ মন্ত্রণালয় থেকে এসব কর্মকর্তা
নিয়োগ পাবেন। আমরা একাধিকবার এসব কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। জনপ্রশাসনমন্ত্রী সেসব চিঠিতে সুপারিশ করে দ্রুত
কর্মকর্তা নিয়োগের অনুরোধ করেছেন।’ বিভাগীয় প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়,
যাত্রার শুরু থেকে এ বিভাগকে ঘিরে উন্নয়নের বড় স্বপ্ন তৈরি হয়। ময়মনসিংহকে
বিশ্বের উন্নত দেশের নগরের আদলে আধুনিক নগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এর মধ্যে রয়েছে নভো থিয়েটার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আন্তর্জাতিক
মানের সম্মেলন কেন্দ্র, সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের শাখা, সরকারি-বেসরকারি
বিশ্ববিদ্যালয়, হ্রদ ও পার্ক স্থাপন এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নতুন তিনটি
সেতু নির্মাণ। শহরের জিরো পয়েন্ট, কেওয়াটখালী ও খাগডহর এলাকায় এসব সেতু করা
হবে। সেতুগুলোর দৈর্ঘ্য হবে কমপক্ষে ৫০০ মিটার করে। জানতে চাইলে
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এর মধ্যে সেতু নির্মাণের সমীক্ষার কাজ শেষে হয়েছে।
তবে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেতুর কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
আধুনিক নগরী গড়ে তোলার জন্য দেড় বছর আগে ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের চারটি
গ্রামের ৪ হাজার ৩৩৬ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু এরপরও
চরবাসী জমি ছাড়তে নারাজ। তাঁরা আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। এ কারণে অধিগ্রহণ
প্রক্রিয়াই স্থবির হয়ে পড়েছে। চরবাসীর দাবি, অধিগ্রহণ করা গ্রামে তাঁদের
কয়েক পুরুষের বাস। রয়েছে পূর্বপুরুষদের কবর। মসজিদ, মাদ্রাসা,
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। এসব ঘিরে তাঁদের আবেগ কাজ করে। জমি
অধিগ্রহণের সময় প্রশাসন বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়িঘরের বিষয়টি বিবেচনায়
নেয়নি। বিবেচনায় নিলে প্রশাসন খাসজমি অধিগ্রহণ করতে পারত। এ ছাড়া চরবাসী
ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন,
‘জমি অধিগ্রহণের এ নকশা নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা করেছেন। সবদিক
বিবেচনা করে সবচেয়ে উপযুক্ত জমিই নকশায় রাখা হয়েছে। অধিগ্রহণের ফলে
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। এর ফলে তাঁদের নিজেদের
বসতভিটা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে পুনর্বাসন করা হবে। চরবাসী
প্রচার করেছেন, সেখানে ৬০ হাজার মানুষের বাস। কিন্তু সম্প্রতি শেষ হওয়া
খানা জরিপে দেখা গেছে, সেখানে ২৯ হাজার ২০০ মানুষের বসবাস। ইতিমধ্যে
অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা
বরাদ্দ হয়েছে। এখন আশা করি, চরবাসী জমি দিতে রাজি হবেন। দ্রুত অধিগ্রহণ
প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ কাজ অবশ্যই অধিগ্রহণ করা এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে
করা হবে।’ চর এলাকার মানুষের বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ মোশারফ
হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার জমি দিয়ে দিতে পারি। কিন্তু সাধারণ মানুষ
এখনো নিজেদের বসতভিটা রক্ষার দাবিতে অনড়।’ ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার
আন্দোলনের নেতা ও নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি আনিসুর রহমান খান বলেন, মানুষ
জমি দিতে না চাইলে তাঁদের রাজি করাতে হবে। অথবা নতুন করে খাসজমি খুঁজতে
হবে। ময়মনসিংহ শহরে উন্নয়ন ও আধুনিক নগরীর জন্য জমি অধিগ্রহণের বিকল্প নেই।
বর্তমান সমস্যা
ময়মনসিংহ শহরের সঙ্গে বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নেত্রকোনা, শেরপুর, ও জামালপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এখনো বেহাল। এ শহর থেকে প্রতিদিন নেত্রকোনায় যাতায়াতকারী এক চাকরিজীবী বলেন, ময়মনসিংহ শহরের শম্ভুগঞ্জ এলাকার যানজট আর বেহাল সড়কের কারণে প্রতিদিন যাতায়াতকারী মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। ছোট ছোট সড়কে বেশি যানবাহন চলাচলের কারণে যানজট শহরবাসীর নিত্যসঙ্গী। গত জুনে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ সমস্যার কিছুটা সমাধান হলেও এখনো পুরোপুরি কমেনি ভোগান্তি। ময়মনসিংহ থেকে শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুরে যাওয়ার রাস্তা বেহাল। শহরের কেওয়াটখালী এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, পাটগুদাম আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় যানজটের কারণে কেওয়াটখালী এলাকার মানুষের ময়মনসিংহ শহরে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ১০ মিনিটের পথ যেতে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ শহরের বেশির ভাগ সড়ক তলিয়ে যায়। শহরের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই এ জলজট। শহরের আকুয়া এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাজাদা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে আকুয়াসহ শহরের বেশির ভাগ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে তাঁরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ বিষয়ে পৌরসভার মেয়র মো. ইকরামুল হক বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পৌর সীমানার বাইরের খালগুলো খননের আবেদন করেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। চলতি মাসেই চারটি খাল খননের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি ছিল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা। একটু দেরিতে হলেও সম্প্রতি এ ঘোষণা এসেছে। নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি আনিসুর রহমান খান বলেন, এর আগে পৌরসভার সীমানা বাড়িয়ে সিটি করপোরেশনের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত সীমানা ছিল ৯১ বর্গকিলোমিটার। তবে সরকার আপাতত ২২ বর্গকিলোমিটারের পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করার ঘোষণা গিয়েছে। সীমানা পরে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আগে চাই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন দেওয়া উচিত।
বর্তমান সমস্যা
ময়মনসিংহ শহরের সঙ্গে বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নেত্রকোনা, শেরপুর, ও জামালপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এখনো বেহাল। এ শহর থেকে প্রতিদিন নেত্রকোনায় যাতায়াতকারী এক চাকরিজীবী বলেন, ময়মনসিংহ শহরের শম্ভুগঞ্জ এলাকার যানজট আর বেহাল সড়কের কারণে প্রতিদিন যাতায়াতকারী মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। ছোট ছোট সড়কে বেশি যানবাহন চলাচলের কারণে যানজট শহরবাসীর নিত্যসঙ্গী। গত জুনে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ সমস্যার কিছুটা সমাধান হলেও এখনো পুরোপুরি কমেনি ভোগান্তি। ময়মনসিংহ থেকে শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুরে যাওয়ার রাস্তা বেহাল। শহরের কেওয়াটখালী এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, পাটগুদাম আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় যানজটের কারণে কেওয়াটখালী এলাকার মানুষের ময়মনসিংহ শহরে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ১০ মিনিটের পথ যেতে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ শহরের বেশির ভাগ সড়ক তলিয়ে যায়। শহরের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই এ জলজট। শহরের আকুয়া এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাজাদা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে আকুয়াসহ শহরের বেশির ভাগ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে তাঁরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ বিষয়ে পৌরসভার মেয়র মো. ইকরামুল হক বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পৌর সীমানার বাইরের খালগুলো খননের আবেদন করেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। চলতি মাসেই চারটি খাল খননের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি ছিল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা। একটু দেরিতে হলেও সম্প্রতি এ ঘোষণা এসেছে। নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি আনিসুর রহমান খান বলেন, এর আগে পৌরসভার সীমানা বাড়িয়ে সিটি করপোরেশনের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত সীমানা ছিল ৯১ বর্গকিলোমিটার। তবে সরকার আপাতত ২২ বর্গকিলোমিটারের পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করার ঘোষণা গিয়েছে। সীমানা পরে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আগে চাই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন দেওয়া উচিত।
No comments:
Post a Comment