
নীলফামারী
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিটের জন্য গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দাম।
এতে যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। গত মঙ্গলবার স্টেশনের কাউন্টারে
গিয়ে দেখা যায়, টিকিটের বেশি দামের কারণে অনেক যাত্রী হতাশ হয়ে ফিরে
যাচ্ছেন। এ সময় চিলাহাটি হতে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের
জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষক আফরোজা খাতুন। তিনি এসেছিলেন সৈয়দপুরে
বাবার বাড়িতে। ছুটি শেষে গন্তব্যে ফিরে যাবেন, তাই বারবার ধরনা দিচ্ছিলেন
একটি টিকিটের জন্য। কিন্তু বারবার কাউন্টার থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কাউন্টার থেকে তাঁকে বলা হয়েছে, ২ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকিট নেই।
অথচ তিনি কালোবাজারির কাছ থেকে ৪৫০ টাকার টিকিট ৯০০ টাকা দিয়ে সংগ্রহ
করেছেন। বড়দিনের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার
আলোকডিহি গ্রামের বশিরুল ইসলাম। তিনিও সৈয়দপুর স্টেশন থেকে কালোবাজারির কাছ
থেকে দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনেছেন। রেলওয়ে স্টেশনের একটি সূত্রে জানা গেছে,
কালোবাজারিরা প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রতিদিন ভোরে কাউন্টারে দাঁড়ান।
তাঁরা প্রায় সব টিকিট কিনে নেন। এ অবস্থায় চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
সৈয়দপুর-খুলনা, সৈয়দপুর-রাজশাহী ও সৈয়দপুর-ঢাকা সব রুটের সিংহভাগ ট্রেনের
টিকিট এখন কালোবাজারিদের হাতে। কালোবাজারিরা টিকিট কাউন্টারের একশ্রেণির
কর্মচারীর সঙ্গে আঁতাত করে ওই টিকিট কিনে নিচ্ছেন। ফলে কাউন্টারে এসে হতাশ
হয়ে ফিরে যাচ্ছেন যাত্রীরা। তাঁদের বেশি দামে কালোবাজারিদের কাছ থেকে ওই
টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সৈয়দপুর বণিক সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস আলী বলেন,
মহাসড়কে যানজটের ধকল বেড়েছে। এ ছাড়া বড়দিনের ছুটির কারণে ট্রেনে যাত্রীর
চাপ বেড়েছে বহুগুণ। এ সুযোগে কালোবাজারিরাও তৎপর হয়ে উঠেছেন। ওই
কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে দাবি জানান তিনি। সৈয়দপুর রেলওয়ে
স্টেশনমাস্টার আবুল কাশেম বলেন, রেলওয়ের কেউ টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে
যুক্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ধরনের কোনো
অভিযোগ তাঁর কাছে নেই। রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কালোবাজারির প্রসঙ্গে জানতে
চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদ বলেন,
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
No comments:
Post a Comment