
শীত
নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে হতাহত হচ্ছেন বিভিন্ন জেলার মানুষ। এর মধ্য দিয়ে
দেশে প্রাণহানির নতুন প্রবণতাও শুরু হয়েছে। নতুন বছরে দেশজুড়ে শীতের
প্রকোপ বাড়ার পরই আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। সচেতনতার অভাবে
দগ্ধ হচ্ছেন অনেকে। হাসপাতালে বাড়ছে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা। ফলে বাড়ছে
প্রাণহাণি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম ১৫ দিনেই আগুন
পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই (রমেক) চিকিৎসাধীন
মারা গেছেন অন্তত ১৫ জন। এ ছাড়া চিকিৎসা নিচ্ছেন দগ্ধ আরও প্রায় অর্ধশত
মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সর্বশেষ সোমবার সকাল সাড়ে
৭টার দিকে আগুনে দগ্ধ হয়ে রংপুরে চিকিৎসাধীন তিন নারী মারা যান। এর আগে
রোববার রাত ১০টার দিকে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়। রংপুর বার্ন ইউনিটের সহকারী
পরিচালক নূরে আলম জানান, তীব্র শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে তারা রংপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে বছরের শুরুতে আগুন পোহাতে
গিয়ে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা
হলেন- ঠাকুরগাঁও শহরের থানাপাড়ার আঁখি আক্তার (৪৫), রংপুর নগরীর নজিবেরহাট
এলাকার বেলাল হোসেনের স্ত্রী আফরোজা খাতুন, রংপুরের জুম্মাপাড়া পাকারমাথার
রুমা খাতুন (৬৫), কাউনিয়া উপজেলার গোলাপী বেগম (৩০), লালমনিরহাট সদরের
শাম্মী আখতার (২৭), পাটগ্রাম উপজেলার ফাতেমা বেগম (৩২), আলো বেগম (২২),
নীলফামারী সদরের রেহেনা বেগম (২৫),
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মাহিগঞ্জের চাঁন
মিয়ার স্ত্রী মনি বেগম (২৫) এবং নীলফামারী সদরের সোনারমের আমজাদ হোসেনের
স্ত্রী মারুফা খাতুন (৩০)। গত ১৩ জানুয়ারি কুড়িগ্রামে শীত নিবারণের জন্য
জ্বালানো আগুনে দগ্ধ ওসমান আলী (৬৬) নামে এক মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন মারা যান। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম শহরের কৃঞ্চপুর ডাকুয়া পাড়ায়। গত ৯
জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় খড়কুটো জ্বেলে আগুন পোহাতে গিয়ে
অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান ডাবলু শেখ (৩২) নামে এক ট্রলিচালক। ঢাকা মেডিকেল
কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। নিহত ডাবলু শেখ উপজেলার
বড়হর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের ছানোয়ার শেখের ছেলে। এর আগে ৮ জানুয়ারি
হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় আগুন পোহাতে গিয়ে নারী ও শিশুসহ ৫ জন দগ্ধ হন।
তারা হলেন- শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুরাসুন্দা গ্রামের মৃত কাদির মিয়ার
স্ত্রী আমিরুন্নেছা (৫০), বাহুবল অড়াইডেকা গ্রামের এংরাজ মিয়ার মেয়ে প্রিয়া
আক্তার (৫), হবিগঞ্জ শহরের মোহনপুরের রাসেল মিয়ার কন্যা রূপা আক্তার (১১) ও
শহরতলির মাছুলিয়া গ্রামের আলকাছ মিয়ার মেয়ে আফরিন (৫)। এর মধ্যে
আমিরুন্নেছাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ও অন্যদের
হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, শীত নিবারণের জন্য
আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে অন্তত ৪৪ জন রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে
চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ তথ্য জানিয়েছে ইউনিটের চিকিৎসক মারুফ জানান, তাদের
মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বছরের শুরু থেকেই সারা দেশে শীতের তীব্রতা
বেড়েছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহের
মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা দেশের সব রেকর্ড ভেঙে
নেমে আসে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৯৪৮ সালে তাপমাত্রার রেকর্ড শুরুর
পর বাংলাদেশের কোথাও তাপমাত্রা এত কমে যাওয়ার নজির নেই বলে আবহাওয়া অধিদফতর
জানায়।
No comments:
Post a Comment