Tuesday, January 2, 2018

চালক ও সহকারীকে আসামি করে অভিযোগপত্র

ব্যস্ত শহরের রাস্তায় সন্ধ্যার পর চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় বাসচালক ও তাঁর সহকারীকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ৬৫ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিরা হলেন বাসচালক রাশেদুল ইসলাম (২০) ও সহকারী ইমতিয়াজ উদ্দিন (১৮)। তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হক গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা পর চিকিৎসকের দেওয়া সনদেও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী রেখেছেন তিনি। শিগগিরই এই মামলার বিচার শুরু হবে। অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির জন্য এখনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি বলে জানান চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী। গত বছরের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে বাসে করে চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফেরার পথে ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। বাসের অন্য যাত্রীরা চান্দগাঁও থেকে দুই কিলোমিটার আগে বহদ্দারহাটে নেমে যাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় ৩ নভেম্বর চান্দগাঁও থানায় বাসচালক ও তাঁর সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই তরুণী। পরদিন দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বছরের ৬ নভেম্বর শুধু প্রথম আলোয় ঘটনাটি নিয়ে ‘চট্টগ্রামে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণ: সাহস করে মামলা করায় জানা গেল কঠিন সত্য’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে মানববন্ধন করে দুই ধর্ষকের ফাঁসির দাবি জানান। দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানিয়ে মামলার বাদী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দুই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি। একই সঙ্গে গণপরিবহনে নারীরা যাতে নিরাপদ থাকেন, সে জন্য পুলিশসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক গৃহবধূকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। এ ছাড়া গত ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বাসচালক, সহকারীসহ পাঁচ পরিবহনশ্রমিক। এর আগে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের দিল্লিতে চলন্ত বাসে নির্ভয়া (ছদ্মনাম) নামের এক ছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

No comments:

Post a Comment