Wednesday, February 28, 2018

ব্যাগে কলেজছাত্রীর লাশ প্রেমিক আটক

বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ব্যাগের ভেতর পাওয়া কলেজছাত্রী আঁখি আক্তার হত্যা মামলায় তার প্রেমিক সাব্বিরকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তবে এ বিষয়ে এখনো মুখ খোলেনি সাব্বির। গত শনিবার গভীর রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে পল্লবী মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী আঁখি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা। পরদিন রোববার বিকেলে স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যালে গিয়ে আঁখির লাশ শনাক্ত করে। এ ঘটনায় আঁখির মামা নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আঁখিকে হত্যায় সন্দেহভাজন আসামি করা হয় আঁখির প্রেমিক সাব্বিরকে। সোমবার পুলিশ সাব্বিরকে আটক করে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার কথায় সন্দেহ হওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানায়। ঢাকা রেলওয়ে (কমলাপুর) পুলিশের ওসি ইয়াসিন ফারুক জানান, আঁখি আক্তার হত্যারহস্য উদঘাটনে প্রেমিক সাব্বিরকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনো তথ্য দেয়নি সাব্বির। তবে ধারণা করা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যাবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আঁখির সাথে সাব্বিরের ফোনে নিয়মিত কথা হতো। দীর্ঘ সময় ধরেই মোবাইলে কথা বলত তারা। শনিবার সকালে আঁখি মিরপুরে মামার বাসা থেকে বের হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত আঁখির অবস্থান মিরপুরেই পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই আঁখির ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে আঁখির লাশ বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পাশে রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হয়।
ওই দিন সাব্বিরের অবস্থান উত্তরা এলাকায় পাওয়া গেছে। উত্তরা এলাকায় তার অবস্থান এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনের কাছ থেকে আঁখির লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তদন্ত করা হচ্ছে। কারণ আঁখির সাথে শুক্রবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত কথা হয়েছিল সাব্বিরের। পরদিন সকালে আঁখি বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। সকাল ৯টা পর্যন্ত আঁখির অবস্থান মিরপুরে পাওয়া গেলেও এরপর তার শেষ লোকেশন আর পাওয়া যায়নি। আঁখির সাথে সাব্বিরের কথোপকথনসহ পুরো সিডিআর হাতে পেয়েছে পুলিশ। এখান থেকে তাদের কী কথা হয়েছিল তা পাওয়া যাবে। পুলিশ জানায়, আঁখির প্রেমিক সাব্বির রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ছাত্র। ফেসবুকে আঁখির সঙ্গে তার পরিচয়। ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে আঁখির সঙ্গে কথোপথন হতো। সাব্বিরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। আঁখি কেন খুন হলো, কোথায় তাকে হত্যা করা হয়েছিল তা বের করার চেষ্টা চলছে। আঁখিকে শ্বাস রোধ করেই হত্যা করা হয়েছে এটা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। হত্যার আগে তার ওপর অন্য কোনো নির্যাতন হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। আঁখির বড় মামা নুরুল ইসলাম খান জানান, তারা পুলিশকে মৌখিকভাবে কয়েকজনের নাম বলেছেন। পুলিশকে কিছু তথ্যও দিয়েছেন। তাদের ধারণা, বন্ধুদের কেউ আঁখিকে খুন করেছে। আরেক মামা রোকন খান বলেন, আঁখির বাবা-মা দু’জনই মরিশাসে থাকেন। তাদের নির্দেশে গ্রামেরবাড়ি মাদারীপুরের কালকিনিতে আঁখির লাশ দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আঁখির বাবা আরিফ হোসেন বিদেশ থেকে ফিরবেন। আঁখির গ্রামেরবাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার আণ্ডারচর। পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ই ব্লকের ৩৩ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাড়িতে ছোটবেলা থেকে আঁখির মামা-মামীর কাছে থাকত।

No comments:

Post a Comment