
স্ত্রীর
অন্তিম ইচ্ছাতেই গ্রামে মন্দির স্থাপন করেছিলেন রাজু ওরফে রাজুস্বামী।
ভারতের কর্নাটক রাজ্যের এ প্রেমিক-স্বামী সেখানে স্ত্রীর মূর্তিও স্থাপন
করেন। প্রায় ১২ বছরে ধরে স্ত্রীর মূর্তিতে পূজা করেন তিনি। রাজু বলেন,
‘আমাদের ভালোবাসা স্বর্গীয়।’ স্ত্রীর মূর্তিতে পূজা করছেন এক যুগ হয়ে গেছে,
পূজা বাদ যায়নি একদিনও। এভাবেই স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নমুনা হিসেবে
রয়েছে এ মন্দির। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। রাজু তো পূজা দেন স্ত্রীর
মূর্তিতে। কিন্তু তার এ সাধনা অনেকেরই কৌতূহলের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন কর্নাটকের কৃষ্ণপুর গ্রামে রাজুর ‘রাজাম্মা’ মন্দির
দেখতে আসেন।
২০০৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন কৃষক রাজু। নিজ হাতেই গড়েছেন
স্ত্রীর মূর্তি। তবে শুধু স্ত্রী নয়, এ মন্দিরে পূজিত হন শনিশ্বরা (শনি
দেবতা), সিদ্দাপাজ্জি, নবরাগ ও দেবতা শিব। তিন একর জমির মালিক রাজু। যে
স্ত্রীর জন্য রাজুর ভালোবাসার এ বিরল প্রকাশ, তাকে ঘিরে কিন্তু ভিন্ন ঘটনা
রয়েছে। রাজুর স্ত্রী ছিলেন তার বোনের মেয়ে বা ভাগনি। রাজু বলেন, ‘মা-বাবা
আমাদের বিয়ের তীব্র বিরোধিতা করেন। তবে আমার বোন বা ভগ্নিপতি কেউ এর
বিরোধিতা করেননি।’ রাজু বলেন, ‘বিয়ের কিছুদিন পর আমার স্ত্রী বলেন, তিনি
চান আমি গ্রামে একটি মন্দির স্থাপন করি। মন্দির বানানো শুরু করলাম। কিন্তু
এর আগেই স্ত্রী মারা গেলেন। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, মন্দিরে স্ত্রীর মূর্তিও
থাকবে।’ মন্দিরে নিজ স্ত্রীর মূর্তি রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন
গ্রামবাসীর অনেকেই। কিন্তু রাজু তার সিদ্ধান্তে ছিলেন অনড়। তার কথা, ‘আমার
স্ত্রী তার মৃত্যুর বিষয়টি আগেই টের পেয়েছিলেন। এক ধরনের আধ্যাত্মিক শক্তি
ছিল তার মধ্যে। এসবের জন্যই আমি তার মূর্তি বানিয়েছি, পূজাও করছি।’
No comments:
Post a Comment