
নওগাঁয়ে
হঠাৎ করে আবার বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন
ধরনের প্রতি কেজি চালে বৃদ্ধি পেয়েছে ২ থেকে ৩ টাকা করে। নতুন করে চালের
দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অপরদিকে নতুন করে
চালের দাম বৃদ্ধি হওয়ার জন্য মিলার ও মজুদারদের দোষারোপ করছেন খুচরা চাল
ব্যবসায়ীরা। আগামী সপ্তাহে চালের দাম আরও বাড়বে বলে আশংকা করছেন নওগাঁর
খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা। উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে নওগাঁ জেলার
পরিচিতি দীর্ঘদিনের। নওগাঁ জেলায় উৎপাদিত চালের সুনাম রয়েছে দেশ জুড়ে। চলতি
মৌসুম শেষ হবার ফলে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে ধান ক্রয় করার
কারণে চালকল মালিকদের বেশি মূল্যে চাল বাজারে ছাড়তে হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী
দেশ ভারতেও চালের বাজার বেশি হওয়ার প্রভাবও চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ
বলে মনে করছেন নওগাঁর ধান ও চাল ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহে নওগাঁর প্রধান
খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের প্রতি কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ২ থেকে ৩ টাকা
করে। এতে করে প্রতি বস্তায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা
করে। যার কারণে এই প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে জেলার খুচরা বাজারগুলোতেও।
মৌসুম শেষে জেলার মিলার ও মজুদদাররা সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে বলে অনেকেই
বলেন। খুচরা চাল ব্যবসায়ী মো: খোরশেদ আলম, রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকেই বলেন,
খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের মিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে বলেই
তারাও খুচরা বাজারে বেশি দামে চাল বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এই পেছনে
মিলার ও মজুদদারদের হাত রয়েছে অনেক। বর্তমানে তারা কৃষকদের কাছ থেকে ধান
পাচ্ছেন না বলে এই অজুহাত দিয়ে লাভ কিছুটা বেশি করার পায়তারা করছেন। কারণ
তারা যা বলবে তাই হবে।
চাল বাজার নিয়ে তাদের ক্ষমতা অনেক বেশি। নওগাঁর চাল
বাজারে চাল কিনতে আসা ছালাম, আইনুলসহ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, চালের দাম হঠাৎ
করে বৃদ্ধি পাওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষরা বিপদে পড়েছে। মরবো তো আমরা যারা
মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পর্যায়ের মানুষ। কারণ চালের বাজারে আগুন লাগলেও
বাঁচার তাগিদে আমাদেরকে বেশি দাম দিয়েই চাল কিনে খেতে হবে। সরকার তো আমাদের
দেখতে পান না। যত সুযোগ সুবিধা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য। গরীব মানুষরা
মরলেই কি আর বাঁচলেই কি? নওগাঁর মিলার ও ব্যবসায়ী মো: সালাউদ্দিন খান টিপু
বলেন, মৌসুম শেষে কৃষকদের কাছ থেকে মিলারদের ধান কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।
তাই এই লোকসান পূরণ করতে মিলাররা বস্তাপ্রতি চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি করতে
বাধ্য হয়েছেন। তা না হলে ব্যবসার যে অবস্থা ব্যবসা গুটিয়ে বাড়িতে গিয়ে বসে
থাকতে হবে। তাই ব্যবসা, চাতাল মিল ও কর্মচারীদের ধরে রাখতে আমরা বাধ্য হয়েই
কৃষকদের কাছ থেকে একটু বেশি দামে ধান কিনে বাজারে চাল সরবরাহ করে আসছি।
কারণ আমরা সকলেই কৃষকের ছেলে। কৃষকদের স্বার্থও আমাদের দেখতে হবে। নওগাঁ
জেলা ধাণ্য ও চাউল আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা চন্দন
বলেন, আমাদের দেশ আমদানিপ্রধান দেশ। পার্শ্ববর্তী দেশে প্রতিটি চালের দাম
বৃদ্ধি পেয়েছে আর সেই প্রভাব আমাদের দেশের বাজারগুলোতেও পড়েছে। আর মৌসুম
শেষে বাজারের এই রকম অবস্থা নতুন কোন কিছু নয়। আর মাত্র কয়েক দিনের
ব্যবধান। নতুন ধান পাওয়া গেলেই আবার চালের বাজার কমতে শুরু করবে।
No comments:
Post a Comment