
যশোরের
চৌগাছায় গ্রাম এলাকায় মহিলারা রাজহাঁস পালন করে লাভবান হচ্ছে। ফলে তাদের
রাজহাঁস পালনে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে। একদিকে যেমন সংসারে অনেকাংশে মাংস এবং
ডিমের অভাব দূর হচ্ছে অন্যদিকে হাঁস বিক্রি করে সংসারে অর্থনৈতিক সহযোগিতা
করছে এসব মহিলারা। উপজেলার সিংহঝুলি, মাৎস্যারাঙ্গা, চাঁদপাড়া, কদমতলা,
তারানিবাস, দিঘলসিংহা, মাশিলা, আড়সিংড়ি, তিলকপুর, বল্লভপুর, ফতেপুর,
ঢেকিপোতা, ছোটকুলি, কাবিলপুর, আন্দুলিয়া গ্রামসহ বিশেষ করে নদী ও খাল-বিল
এলাকার গ্রামের মহিলারা বেশি রাজহাঁস পালন করেন। কথা হয় ছোটকুলি গ্রামের
শরিয়াত আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগমের সাথে। স্বামী পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বলেন
বিয়ের প্রথম বছর থেকে সংসারে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী পালনের পাশাপাশি বাড়ীর
সাথেই বাওড় তাই রাজহাঁস পালন শুরু করি। প্রথমে সাড়ে চারশ টাকা দিয়ে তিনটি
রাজার বাচ্চা (রাজহাঁসের) কিনি।
বড় হলে এদের একটি মোরগ দুটি মুরগী হয়।
প্রথমে মুরগী দুটির বারটি ডিম থেকে বারটি বাচ্চা ফুটাই। চারটি বাচ্চা রেখে
বাকি আটটি চারশ টাকা জোড়া দরে এক হাজার ছয়শ টাকায় বিক্রি করি। এভাবে প্রতি
পত্তনে (প্রতি বার) এখন তিন চার হাজার টাকার বাচ্চা বিক্রি করি। এই টাকায়
সংসারে অনেক সহযোগিতা পায়। এখন রোজিনার ১৪টি বড় রাজাহাঁস আছে বলে জানান।
কথা হয় দিঘলসিংহ গ্রামের আমজেদ আলীর স্ত্রী জামেলা বেগম সাথে তিনি জানান
বাড়ীর সাথেই কপোতাক্ষ নদ, নদের পাশেই আমাদের ধানের চাতাল, রাজার জন্য বাড়তি
খাবার খুব একটা লাগেনা। বাবার বাড়ি থেকে প্রথমে দুটি পাতিহাঁস আনি। তা
থেকে বাচ্চা ডিম বিক্রি করে দুটি রাজহাঁসের বাচ্চা কিনি। সেই বাচ্চা থেকে
আস্তে আস্তে বর্তমানে ২০ টি রাজহাঁস রয়েছে। প্রতিদিন ৮/১০ টি ডিম দেয়। আমি
প্রতি বছর অনেক টাকার রাজহাঁস বিক্রি করি। রাজাহাঁস পালন করে সংসার আগের
তুলনায় অনেক স্বচ্ছল। দিঘলসিংহ গ্রামের একই পাড়ার আছিরন, শিউলি বেগম,
মরিয়ম, নাছিমা জানান তাদের আট, দশটি করে রাজাহাঁস রয়েছে। রোজিনা ও জামেলা
জানান রাজহাঁস কোন বাজে খাবার খায়না। এরা মূলত নদী-বাওড়ের শামুক, শাওলা,
ঘাস, ধান, ধানের কুড়ো, ভাত খেতে বেশি ভালবাসে। এক একটি হাঁস আটশ থেকে হাজার
টাকা দরে বিক্রি হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ
ডা. প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী জানান রাজহাঁস পালনের জন্য তেমন বড় কোন ফার্ম এ
এলাকায় নেই। তবে রাসহাঁস পালন করে কম সময়ে স্বালম্বী হওয়া যায়।
No comments:
Post a Comment