Tuesday, March 6, 2018

৫ বছর পরও কিনারা হয়নি ত্বকী হত্যা রহস্য

পাঁচ বছর পার হলেও কোনো কিনারা হয়নি নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলা। অভিযোগ রয়েছে, শুরুর দিকেই প্রশ্নবিদ্ধ তদন্তের কারণে ত্বকীর ঘাতকরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে এ মামলার দু’জন আসামির আদালতে দেয়া দুই ধরনের জবানবন্দি মামলাটিকে জটিল করে তুলেছে। ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেছেন, সরকারের শীর্ষব্যক্তির সদিচ্ছার কারণে মামলার তদন্ত আটকে আছে। তদন্ত সংস্থা র‌্যাব বলছে, শিগগির মামলার তদন্ত কাজ শেষ হবে। নারায়ণগঞ্জের অনেকেই বলছেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণ তদন্তকে থমকে দিয়েছে। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় এ-লেভেলের ছাত্র ত্বকী। রফিউর রাব্বি ওই রাতেই নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় ডায়েরি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন তার ও তার ছেলের কোনো শত্র“ নেই। ৮ মার্চ ত্বকীর লাশ পাওয়া যায় শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদীনি এলাকায়। ৮ মার্চ রাতে ত্বকীর বাবা সদর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি মশিউর রহমানকে পাওয়া যায়নি। তবে র‌্যাব-১১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শিগগির আমরা কাজ শেষ করব। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, সব হত্যার বিচার যেমন হয়, আমিও তেমন বিচারই আশা করছি। যেহেতু ওসমান পরিবার এর সঙ্গে জড়িত এবং পরিবারটি সরকারের সঙ্গে যুক্ত তাই বিচারে দেরি হচ্ছে। মামলার এজাহারে ত্বকীর বাবা উল্লেখ করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় কোনো মহল আক্রোশবশত তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যুদ্ধাপরাধী জামায়াত শিবিরকে দায়ী করেন।
কিন্তু সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রথম থেকেই ওসমান পরিবারকে দায়ী করেন। মামলার ১০ দিনের মাথায় রফিউর রাব্বি জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন শামীম ওসমানসহ কয়েক ব্যক্তি ত্বকীর ‘কিলিং মিশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ’ করেছে। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে শামীম ওসমান দেশের বাইরে ছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে প্রমাণ উপস্থাপন করায় রফিউর রাব্বি পরে দাবি করেন, ‘আমি কখনোই বলিনি শামীম ওসমান ও তার ছেলে সক্রিয় থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’ ২০১৩ সালের ২০ জুন রফিউর রাব্বির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তভার র‌্যাব-১১কে ন্যস্ত করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, তদন্তে নতুন ক্লু হিসেবে উঠে এসেছে- ত্বকীর নিথর দেহের পায়ে থাকা স্যান্ডেল ও পকেটে থাকা ত্বকীর ব্যবহৃত মোবাইল (ওয়ালটন ব্র্যান্ডের) সেট। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার দুই আসামিই জবানবন্দি দেয়, লাশ পাওয়ার স্থান থেকে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার দূরে ত্বকীকে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সময় বস্তাটি পাওয়া যায়নি। আবার ত্বকীর স্যান্ডেল জোড়া তার দু’পায়ে পরানো অবস্থায় ছিল। প্রশ্ন হল, নির্যাতনের পর লাশ বস্তায় ভরে পানিতে ডুবিয়ে দেয়ার পরও ত্বকীর পায়ে স্যান্ডেল থাকা সম্ভব কিনা। এ বিষয়টি এখন তদন্ত কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

No comments:

Post a Comment