
অধ্যাপক
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলনের পর
অবশেষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের কাজ
শুরু হচ্ছে। দু সপ্তাহের মধ্যেই সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হবে বলে
জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
তবে
সীমানাপ্রাচীর কোনো সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন বেশ কয়েকজন
শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এদিকে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শাবি ভিসি যুগান্তরকে
বলেন, দু সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ছয় কিলোমিটার ব্যাপী
সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। যদিও এটা খুবই কঠিন একটি কাজ
তারপরও এর যদি সর্বোত্তম সময় আর কখনও আসবে না। হামলার বিষয়ে তিনি বলেন,
আমরা জাফর ইকবালের হামলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তদন্ত কমিটি কাজ
করছে। তবে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল গণি মনে করেন সীমানা প্রাচীর
কোনো সমাধান নয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, গত ২৭ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়
সীমানাপ্রাচীর ছাড়াই চলছে। এক-দুমাসে সীমানা প্রাচীর হলেই যে সমস্যার
সমাধান হয়ে যাবে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বার বার এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে
সেদিকে আমাদের মনোযোগ দেয়া উচিত। আমি মনে করি, এ ধরনের ঘটনায় আমাদের পুরো
দেশের মানুষের চিন্তিত হওয়ার সময় এসেছে। প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক জহীর
উদ্দিন আহমদও মনে করেন, সীমানা প্রাচীর খুব ভালো একটা সমাধান নয়। তবে
সীমানা প্রাচীর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো একটা ঘটনা ঘটিয়ে তা থেকে দ্রুত
পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা সেক্ষেত্রে
যথেষ্ট হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী
এলাকার মানুষদের যাতায়াতের অন্যতম একটা মাধ্যম এই বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য
সীমানা প্রাচীরে বিষয়টি ভেবে দেখার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
শাবি
ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, সীমানা প্রাচীরের পাশাপাশি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে করা উচিত
যাতে অপরাধীরা ভয়ে থাকে। বিশেষ করে হলগুলোতে এ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এতে
অপরাধ অনেকাংশেই কমতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি। সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার
২৮ বছরেও সীমানা প্রাচীরে বেষ্টিত হয়নি দেশের সর্ব প্রথম এ বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অরক্ষিত ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন সময়ে
অনেক অঘটন ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ল্যাব,
সংগঠনের কার্যালয়ে চুরি ও রাস্তাঘাটে ছিনতাই যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে।
ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধাধরা কোনো নিয়ম না থাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে সহজেই
পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এমনকি গত কয়েক বছর থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান
থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। ছাত্রী হলের সামনে থেকে ব্যাগ ছিনতাই করে
টিলা হয়ে পালিয়ে গেলেও কোনো কার্যত ব্যবস্থাই এ পর্যন্ত নিতে পারেনি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ২০০ কোটি
টাকার মধ্যে সীমানা প্রাচীরের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও বছর পেরিয়ে গেলেও তার
কাজ শুরু করতে পারেনি প্রশাসন। সেক্ষেত্রে শাবি ভিসির এ আশ্বাসে কতটুকু কাজ
হবে তা নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা।
No comments:
Post a Comment