
শাহজালাল
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষক ও জনপ্রিয় লেখক
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুল হাসানের ভাই আল
আমিনকে খুঁজছে পুলিশ। কারণ ফয়জুল যেসব ডিভাইসের মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গি
ওয়েবসাইটে ঢুকত সেগুলো নিয়ে পালিয়েছে আল আমিন। ফয়জুল যেসব জঙ্গি ওয়েবসাইটে
বিচরণ করত সেগুলোর মধ্যে আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের
ওয়েবসাইটও রয়েছে। তাছাড়া ফেসবুকে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৈরি বাঁশের কেল্লা পেজ
সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ত। আহলে হাদিসের অনুসারী পিস টিভির বিভিন্ন
অনুষ্ঠানের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনত ফয়জুল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক
সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা
জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (আজ) ফয়জুলকে সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে
হাজির করা হবে। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া
হবে। ফয়জুলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান,
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর ফয়জুল পেছনের ধান
ক্ষেতের ভেতর দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এ কারণেই তার
ব্যবহƒত বাইসাইকেলটি ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের পাশের একটি ওয়ার্কশপে রেখে
এসেছিল। এদিকে ফয়জুল যে মোবাইল ফোন ব্যববহার করত এখনও সেটির হদিস পাওয়া
যায়নি। ফয়জুল পুলিশকে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে টার্গেট করে এ হামলা চালানো
হয়। ৪-৫ মাস আগে সিলেট শহর থেকে সে নিজেই একটি চাকু কিনে আনে। ক্যাম্পাসে
গেলেই সে ওই চাকুটি তার সঙ্গে নিয়ে যেত। এর আগে আরও একাধিকবার আঘাত হানার
পরিকল্পনা নিয়ে জাফর ইকবালের কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হামলা চালানো থেকে
বিরত থেকেছে। কেউ যাতে তাকে সন্দেহ না করে এজন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর
বেশিরভাগ সময় ফুটবল খেলে সময় কাটাত। ক্যাম্পাস মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র
করে তার বেশকিছু বন্ধুবান্ধবও তৈরি হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে শাবি
ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে জাফর ইকবালের ওপর
হামলা হয়। ছুরি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হামলাকারী। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড
ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান পুলিশের ডিআইজি মনিরুল
ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ফয়জুল এখনও হাসপাতালে। পুলিশ হেফাজতে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে
ফয়জুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার ভাইকে ধরতে পারলেই এ হামলার অনেক
রহস্য বেরিয়ে আসবে।
No comments:
Post a Comment