নাইক্ষ্যংছড়ি
প্রতিনিধিঃ
মিয়ানমার সীমান্তে সেনা টহল অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই মিয়ানমার সেনা সদস্যরা বিকাল ৪টার দিকে টহলে বের হয়। সারা রাত টহল দিয়ে পরের দিন সকালে ৯টা ১০টার দিকে তারা চলে যায়। এরই মধ্যে সীমান্তের পাশে পুরনো বাংকার মেরামতের কাজেও হাত দিয়েছে তারা। মিয়ানমারের বাহিনীর এসব তৎপরতায় আতঙ্কে দিন কাটছে সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের। তমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সম্প্রতি সেনা বাড়ানোর পর বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক ও কক্সবাজার ৩৪বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের ভয় না পাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন। গত ২ মার্চ বিকালে ঘুমধুমের ঢেঁকিবুনিয়ার ২২নং পিলারের কাছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরও সীমান্তে সেনা বাড়ায় মিয়ানমার। এর ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। এরই মধ্যে সোমবার (৫ মার্চ) বিকাল থেকে পুরনো বাংকার মেরামত করার ফলে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘সোমবার বিকাল থেকে পুরনো বাংকারগুলো মেরামত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিয়ানমারের ওয়ান বিজিপি’র সিইও’সহ কয়েকজন কর্মকর্তা এসব মেরামত করা বাংকার পরিদর্শন করেছেন। এদিকে সেনা টহল অব্যাহত আছে। ফলে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। আমরা এখন রাতে ঘুমাতেও ভয় পাই।’ তমব্রুর স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিন জানান, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে এখানকার অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ভয় পেয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। যারা আছে তারাও রোহিঙ্গাদের মতোই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। শুধু স্থানীয়রাই নয়, আমরাও আতঙ্কে আছি। কখন কি ঘটে যায়, কেউ বলতে পারবে না।’ এদিকে এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘গত ২০ ফেব্রুয়ারি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে বাংলাদেশ- মিয়ানমারের কর্মকর্তারা জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করেছে। সেখানেও আমরা তুমব্রু সীমান্তের ওপারে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেছি। তারা আমাদের কথা বিবেচনা করবে বলেও আশ্বস্ত করেছে। ওপারে যে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে তা সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংকার মেরামত করাটাও তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা এখানে কিছু করতে পারি না। তবে আমরা আশা করছি শিগগিরই মিয়ানমারে নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment