
খুলনার
রূপসা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাহিন্দ্রা বা থ্রি হুইলার
নামের যানবাহন। বিআরটিএ’র রুট পার্মিট ও আইন অনুযায়ী মাহিন্দ্রায় ৩ জন
যাত্রী নেয়ার কথা থাকলেও নেয়া হচ্ছে ৬-১০ জন। পেছনের ৩ সিটের ৪ জনকে বসতে
বাধ্য করা হচ্ছে। পুরুষ যাত্রীদের বসিয়ে দেয়া হচ্ছে নারী যাত্রীদের সঙ্গে।
এভাবে গাদাগাদি করে বসানোর ফলে নারী যাত্রীদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে
পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে
দুর্ঘটনা। রূপসা থেকে ফুলতলা এলাকায় প্রায় এগারোশ’ মাহিন্দ্রা বা থ্রি
হুইলার চলাচল করে। দুটি ড্রাইভার্স ইউনিয়ন এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। অনুসন্ধানে
জানা যায়, জেলা প্রশাসকের আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি
দেখিয়ে মাহিন্দ্রাতে ৩ জনের পরিবর্তে ৬-১০ জন যাত্রী বহন করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ট্রাফিক
বিভাগ সম্প্রতি নগরীর কয়েকটি পয়েন্ট থেকে বেশ কয়েকটি মাহিন্দ্রা আটক করে।
কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্যদের চাপের মুখে সেগুলো ছেড়ে দিতে হয়েছে। দুটি
ড্রাইভার্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে মাহিন্দ্রা
আটক করা হলে রাস্তা অবরোধ করা হবে। মাহিন্দ্রার নিয়মিত যাত্রী আফরোজা রোজী,
নাজিয়া আকতার, রোজিনা আকতার, নাসরিন নাহারসহ একাধিক যাত্রীর অভিযোগ-
‘মাহিন্দ্রার পেছনের ছিটে ৩ জন যাত্রীর পরিবর্তে ৪ জন যাত্রী নেয়া হচ্ছে।
ফলে পুরুষদের পাশে বাসা কিশোরী, ছাত্রী, নারী ও মহিলা প্রতিনিয়ত হেনস্থার
শিকার হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষদের শরীরের সঙ্গে ঘেঁষে বসেই এক
স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এটা যে কতটা বিব্রতকর, তা
ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।’ হিউম্যান রাইটস সোসাইটি ও সেফ দ্য লাইফ
ফাউন্ডেশনের জেলা কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আনোয়ারা আহমেদ জানিয়েছেন, ২০১৬
সালের ২৪ আগস্ট খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নিকট আমরা মাহিন্দ্রার
চলাচলে গতি নিয়ন্ত্রণ, ৩ জন যাত্রী বহনের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ও
মানববন্ধন করি।
এরপর চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়
সিদ্ধান্ত হয় যে, এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু এখনও কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গত ৫ ফেব্র“য়ারি এ বিষয়ে খুলনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক
সম্মেলন করা হয়েছে। জানতে চাইলে খুলনা জেলা বেবিট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের
সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, ‘সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক,
আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান ও বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নির্দেশে
বেবিট্যাক্সি চালকদের কিস্তি ভিত্তিতে মাহিদ্রা কিনে দেয়া হয়েছে। যাত্রী
কমানোর কোনো সুযোগ নেই। খুলনা থেকে ফুলবাড়িগেট পর্যন্ত ইজিবাইক চলাচল বন্ধ
করে দিলে মাহিন্দ্রার যাত্রী কমিয়ে ভাড়া বেশি নেয়া হবে।’ কেএমপি’র ট্রাফিক
বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দুটি ইউনিয়নের
নেতাদের মাহিন্দ ার পেছনে ৩ জনের বেশি না বসানোর জন্য অবহিত করা হয়েছিল।
তারা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নিলেও সেটি কার্যকর হয়নি। তিনজনের বেশি
যাত্রী বহন করা হলে মাহিন্দ্রা আটক করা হচ্ছে। কারণ মাহিন্দ ায় ৩ সিটের
জায়গায় ৪ জন কোনোভাবেই বসা সম্ভব নয়।’ খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল
আহসান জানান, রুট পার্মিটের সময় ৩ জন যাত্রী নেয়ার কথা থাকলেও সেটা মানা
হচ্ছে না। মাহিন্দ্রার পেছনে ৩ জনের বেশি যাত্রী বসা খুবই বিব্রতকর। দুটি
ইউনিয়ন নেতাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
No comments:
Post a Comment