Monday, March 5, 2018

তারা দোজখের আগুনে পুড়বে

বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শনিবার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারী কারা, হামলার ধরন থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। যারা এ ঘটনাগুলো ঘটায়, তারা তো ধর্মান্ধ। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা মনে করে- একটা মানুষ খুন করলেই বুঝি বেহেশতে চলে যাবে। তারা কোনোদিন বেহেশতে যাবে না, দোজখের আগুনে পুড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ নিরীহ মানুষ হত্যা করলে কেউ বেহেশতে যেতে পারে না। গতকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অনুদান প্রদানে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে কোনো রকম সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ চলতে দেওয়া হবে না বলেও এ সময় তিনি মন্তব্য করেন। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাফর ইকবালের ওপর হামলার সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ফোর্সের হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচে নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল ও ভালো। ধর্মান্ধতার ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ ধরনের সর্বনাশা পথে যেন ছেলেমেয়েরা না যায়, সেদিকে বিশেষভাবে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ছেলেমেয়েদের যেন মা-বাবার সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক হয়, তারা মনের কথা খুলে বলতে পারে, পরস্পরের মধ্যে সে ধরনের একটা মানসিক যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ছেলেমেয়েরা বড় হওয়ার সময় একেক বয়সে তাদের একেক রকম মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। সে বিষয়টির প্রতি মা-বাবাকে নজর দেওয়া, তাদের আরও সহনশীল হওয়া এবং ছেলেমেয়েরা যেন বিপথে না যায়, তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে সবাইকে মাদক-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং ছেলেমেয়েদের ওই পথ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এত মেধাবী ছেলেমেয়ে, তারা যেন কেউ বিপথে না যায়, সেটাই চাই। কারণ, দেশকে আমাদের সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা আর পিছিয়ে যাব না, সামনের দিকে এগোব। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলব। বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্কুল ও কলেজেই শিক্ষার্থীদের মূল শিক্ষাটা দিতে হবে। সেজন্য প্রতিটি উপজেলায় সরকারি স্কুল ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ৬০০-র ওপরে শিক্ষার্থী প্রতি মাসে শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রায় এক হাজার ৮০০ জনকে প্রতি মাসে অনুদান দেওয়া হয়।
এ বছরের জানুয়ারিতে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছি। স্কুল-কলেজগুলো উন্নত করতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ব্লু-ইকোনমি কাজে লাগাতে গেলে দক্ষ লোকবল লাগবে। আমাদের লোকবল কম। দেশে বিপুল সমুদ্রসম্পদ রয়েছে। ব্লু-ইকোনমির এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য বিজ্ঞানী ও গবেষকদের নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্র্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারে সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমুদ্রপাড়ে একটি সি অ্যাকুয়ারিয়াম গড়ে তোলা হবে। এটি গবেষণায় যেমন প্রয়োজন, তেমনি পর্যটক আকর্ষণেও ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী গবেষণার জন্য জাহাজ ক্রয়সহ বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য এ সময় তুলে ধরেন। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সমুদ্রের তলদেশে গিয়েছি, স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণ হবে। অচিরেই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের কথা বিবেচনায় নিয়ে জাতির পিতার স্মরণে 'বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সায়েন্স অ্যান্ড আইসিটি' প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ধারাবাহিকতায় আমরা গঠন করেছি 'বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট'। জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক তৈরিই এ ট্রাস্টের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ছাড়াও এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্যায়ে ছাত্রছাত্রী এবং গবেষকদের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে ১১৬ জনকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, দুই হাজার ৩৫৮ জনকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ (এনএসটি) এবং ১৪১টি প্রকল্পকে গবেষণা অনুদান দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী টোকেন হিসেবে ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ফেলোশিপ ও অনুদানের চেক তুলে দেন।

No comments:

Post a Comment