
আবুল
হোসেন ও পাপিয়া আক্তার। দেড় বছর ধরে চলে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমের
ইতি টানতে বছর পাঁচেক আগে পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। আবুলের
পরিবার আর্থিক দিক দিয়ে খুবই দুর্বল। তাই পাপিয়ার পরিবার কোনোমতেই বিয়ে
মেনে নেয়নি। তবু ভালো-ই চলছিল তাদের সংসার। এই দম্পতির জোনাকী নামে তিন বছর
বয়সী এক কন্যাসন্তানও রয়েছে। কিন্তু কৃষক আবুলের সংসারে যখন অভাব হানা
দেয়। ঠিক তখনই পাপিয়ার ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়। আবেগে পাপিয়া এক সময়
কৃষক ছেলের হাত ধরে পালিয়ে গিয়ে ভালোবাসার ঘর বাঁধেন। সংসারে যখন অভাব-অনটন
দেখা দেয় ঠিক তখনই সে স্বামী-সন্তান রেখে বাবার বাড়িতে গিয়ে ওঠে। এতে
দুঃখে-কষ্টে ও হতাশায় শিশুকন্যাকে বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেন আবুল
হোসেন। তবে শিশুটি মারা গেলেও বেঁচে যান বাবা আবুল হোসেন। গত শুক্রবার
সন্ধ্যায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার টালীভাঙা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার
দিকে আবুল হোসেন নিজে ও শিশুকন্যা জোনাকীকে কীটনাশক পান করান। অচেতন
অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিক্যাল
কলেজ হাসপাতালে আনা হলে রাতেই চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আবুল
হোসেনকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। আবুল হোসেনের ছোট ভাই রমজান আলী জানান,
আবুল গ্রামে কৃষি কাজ করে ও মাছ ধরে সংসার চালাতেন। বিয়ের প্রথম দিকে তাদের
সংসার ভালোই চলছিল। সম্প্রতি তিনি কৃষি কাজের জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে ১৫
হাজার টাকা ধার নেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে তার ঝামেলা চলছিল। আবুলের সংসারে
অভাব-অনটন লেগের থাকত।
এসব নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে সপ্তাহ খানেক আগে পাপিয়া
বাবার বাড়িতে চলে যান। ছোট্ট শিশু সন্তান মাকে না পেয়ে কাঁদতে থাকে। মেয়েকে
নিয়ে পাপিয়াদের বাসায় যান আবুল। তার পরও পাপিয়া আসেননি। তখন মেয়েকে
পাপিয়ার কাছে রেখে আসেন আবুল। কিন্তু পরদিন পাপিয়া মেয়েকে আবুলের কাছে
পাঠিয়ে দেন। এভাবে তিনবার পাপিয়া মেয়েকে না রেখে আবুলের কাছে পাঠিয়ে দেন।
অবশেষে গত শুক্রবার আবুলের বাবা পাপিয়াকে আনতে তাদের বাড়িতে যান। তখন
পাপিয়ার বাবা ফিরোজ মিয়া তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আবুলের কাছে তার
মেয়ে পাপিয়া আর ফিরে যাবে না বলে জানিয়ে দেন ফিরোজ মিয়া। বিষয়টি এসে আবুলের
বাবা স্বপন বাসায় জানান। বাবাকে অপমান করায় এবং স্ত্রী না এসে বারবার
মেয়েকে তার কাছে পাঠিয়ে দেয়ার ক্ষোভে মেয়ে জোনাকীকে কীটনাশক খাওয়ায়ে আবুল
নিজেও পান করেন। গতকাল সন্ধ্যায় রমজান বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও
পাপিয়া কিংবা তার পরিবার একবারের একজনও দেখতে আসেনি। ভাতিজির লাশ ময়নাতদন্ত
শেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে। ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ
এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, গত শুক্রবার রাত থেকে আবুল অচেতন ছিল। আজ (গতকাল)
সকালের দিকে সুস্থ হয়ে ওঠেন। মেয়ে হত্যার দায়ে বিকেলে শাহবাগ থানা পুলিশ
তাকে থানায় নিয়ে যায়। তারা আবুলকে মেঘনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর
করবেন।
No comments:
Post a Comment