
রাজবাড়ীর
পাংশায় স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন
স্বামী দেলবর। রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের মেঘনা
খামারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ঝর্ণা বেগম (৪০) ওই গ্রামের মৃত শের
আলীর ছেলে মো. দেলবরের (৫৫) স্ত্রী। দেলবরের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি
সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দেলবর এবং তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের পাঁচ ছেলে ও
এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা কেউ বাড়িতে থাকে না। ১১ বছর বয়সী মেয়ে থাকে পাশের
বাড়িতে। ওমান প্রবাসী ঝর্ণা তিন মাস আগে বাড়িতে আসেন। এর কয়েক দিন পর তিনি
বরিশালে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে রান্না করার কাজ নেন। ঝর্ণার ওই কাজে
রাজি ছিলেন না দেলবর। দেলবরের সন্দেহ ছিল ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঝর্ণার পরকীয়া
সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে ঝর্ণা বাড়িতে এলে দেলবর তাকে বরিশালে যেতে নিষেধ
করেন।
কিন্তু ঝর্ণা তার কথা না শুনে বরিশাল যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ
নিয়ে তাদের মধ্যে ৫-৬ দিন ধরে ঝগড়া চলছিল। নজরুল ইসলাম বলেন, রোববার সকাল
৮টার দিকে তাদের মেয়ে ঘুম থেকে নিজেদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলার জন্য
ডাকাডাকি করে। কিন্তু ঘরের দরজা না খোলায় সে জানালা দিয়ে উঁকি দেয়। এ সময়
সে ঘরের মধ্যে তার বাবা-মায়ের লাশ দেখে চিৎকার দেয়। চিৎকার শুনে আমরা গিয়ে
দেখি ঝর্ণার লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার ঘাড়ে তিনটি কোপের চিহ্ন
রয়েছে। এদিকে দেলবরের লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। এ দৃশ্য দেখে তাৎক্ষণিক
আমি ইউপি চেয়ারম্যান ও থানায় ফোন করি। পাংশা থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন
বলেন, স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর
হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা
নেয়া হবে।
No comments:
Post a Comment