
স্কুলছাত্রীকে
উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় রাজশাহীর বাগমারায় শিক্ষকের বাড়িতে হামলা
চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর এবং লুটপাট চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নূরপুর গ্রামে গভীর রাতে হামলার পর দুদিন ওই
শিক্ষককে সপরিবারে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের
সহযোগিতায় শিক্ষক গুলবার রহমান বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান। রাতেই
বাগমারা থানায় এ ঘটনায় ওই শিক্ষক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন বলে জানান
বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ। তিনি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে দ্রুত
শিক্ষক গুলবার রহমানের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে শিক্ষক গুলবার
রহমানকে থানায় নিয়ে আসে। সন্ধ্যায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন
তিনি। রাতেই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। ইতিমধ্যে নাজমুল (২২)
নামে মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক
গুলবার রহমানের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। র্যাব-৫ এর কর্মকর্তারাও
শিক্ষকের বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,
উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়
নূরপুর গ্রামের গাফ্ফার আলীর ছেলে ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা সবুজ (১৮)। এতে
রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে বেশ কিছুদিন থেকে সবুজ এবং তার বন্ধুরা মিলে
নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। শুধু স্কুলে যাওয়ার পথে রাস্তায় নয়, বিভিন্ন
সময় শ্রেণি কক্ষে ঢুকেও ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত। সেই সঙ্গে ছাত্রীদের
ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করত তারা।
এ অবস্থায় ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে
দেয়। স্কুলে না যাওয়ায় বিষয়টি জানতে চাইলে ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গুলবার রহমানকে বিস্তারিত জানান। এরপর
শিক্ষক গুলবার রহমান ছাত্রলীগ নেতা সবুজকে ডেকে শাসিয়ে দেয় এবং বিষয়টি তার
বড় ভাই একই ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি সোহেল রানাকে জানান। ওই রাতেই ২০ থেকে
২৫ জন গুলবার রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়। শিক্ষক গুলবার রহমান বলেন,
ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সোহেল রানা এবং তার ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা সবুজের
নেতৃত্বে তার বাড়িতে হামলা হয়। সশস্ত্র অবস্থায় দরজা ভেঙে বাড়ির ভেতরে
প্রবেশ করে। এ সময় তারা আমার মোটরসাইকেলসহ বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট
চালায়। তারা আমার স্ত্রী ও মেয়েকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। আমি খাটের
নিয়ে লুকিয়ে নিজেকে রক্ষা করি। জামগ্রাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত
হোসেন বলেন, ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ঘটনা শুনে গুলবার রহমান তাকে বিষয়টি
জানান। বিষয়টি নিয়ে সবুজ ও তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলতে গুলবার রহমানকে
বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী গুলবার সবুজ ও তার ভাই সোহেলের সঙ্গে কথা বলেন। এ
হামলা সত্যিই দুঃখজনক।
No comments:
Post a Comment