সিরিয়ার চলমান সংঘাত অবসানে আন্তর্জাতিক তৎপরতা জোরদার হয়ে উঠেছে। সিরীয়
বিদ্রোহীদের অস্ত্রের জোগান দিতে দেশটির ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা
শিথিলের বিষয়ে গতকাল সোমবার ব্রাসেলসে আলোচনায় বসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের
(ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এদিকে, একই দিন প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন
নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির প্যারিসে ফরাসি ও রুশ
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইইউ সিরিয়ার ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করার উদ্যোগ নেয়।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলবিষয়ক ওই বৈঠকে
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যে যুক্তি তুলে ধরবে, তা হলো—এ পদক্ষেপ রাজনৈতিক
সমাধানে পৌঁছাতে বাশার সরকারকে চাপে ফেলবে। তবে ইইউর কিছু সদস্যদেশ অস্ত্র
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোর বিরোধী। ৩১ মে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ
হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স চায় বাশার সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল
থাকুক, কিন্তু বিদ্রোহীদের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হোক। ব্রিটিশ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র
নিষেধাজ্ঞা সংশোধনের বিষয়টি ‘কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সহায়তা করার অংশ’।
সংকট নিরসনে গুরুত্বের সঙ্গে মধ্যস্থতায় আসতে হবে—সিরীয় প্রেসিডেন্ট
বাশার আল-আসাদ সরকারকে এই পরিষ্কার সংকেত দেওয়া প্রয়োজন। গত সপ্তাহে
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের উইলিয়াম হেগ বলেন, ‘সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রিত
পরিবেশ’ এবং বিদ্রোহীদের তরফে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই কেবল তাদের
অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হবে।ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ গত
সপ্তাহে বলেন, সিরিয়া সরকারের হাতে যে অস্ত্র রয়েছে, তাতে যুদ্ধে দেশের
কোনো কোনো অংশে তারা একচেটিয়া সুবিধা পাচ্ছে। তাই দামেস্কের ওপর ‘সামরিক
চাপ’ সংকটের রাজনৈতিক সমাধান ত্বরান্বিত করবে। ২০১১ সালের মেতে সিরীয়
সরকারের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের ওপর ইইউ প্রথম এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে গত
ফেব্রুয়ারিতে বেসামরিক লোকজন বা বিদ্রোহী বাহিনীর সুরক্ষায় এ বাহিনীকে
ইইউভুক্ত কোনো সদস্যদেশ চাইলে ‘মারণাস্ত্র নয়’ এমন সামরিক উপকরণ সরবরাহ
করতে পারবে বলে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্মত হন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক
দাতব্য সংস্থা অক্সফাম হুঁশিয়ার করে বলেছে, সিরিয়ায় আরও অস্ত্র সরবরাহের
অনুমতি দেশটিতে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ বয়ে আনতে পারে এবং সেই সঙ্গে ‘রক্তক্ষয়ী
সহিংসতা বাড়িয়ে তুলতে পারে’। ইতিমধ্যে ইইউ কর্মকর্তারা প্রস্তাবিত
আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের উদ্যোগ ঝুঁকিতে পড়ে এমন কোনো পদক্ষেপ
নেওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। সিরিয়া সরকার ও বিরোধীরা উভয়েই
এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। আগামী মাসে
জেনেভায় এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এদিকে তিন দিনের জায়গায় চার দিন বৈঠক
করার পরও সিরিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় জোট শান্তি প্রক্রিয়ায় ঐক্যবদ্ধ
পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। শান্তি সম্মেলনে অংশ
নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী জোটকে
সম্প্রসারিত করার ব্যাপারে ভোটাভুটি নিয়ে গতকাল সকালে বিতণ্ডা চলে। ভোটের
পর বিশিষ্ট ভিন্নমতাবলম্বী মাইকেল কিলোর জোটে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়।
ধর্মনিরপেক্ষ কিলোর সঙ্গে জোটে বেশ কয়েকজন নারী ও সিরিয়ার ধর্মীয়
সংখ্যালঘুদের কয়েকজন প্রতিনিধি এলেও সমালোচকেরা বলছেন, তাঁর যোগদান জোটের
ওপর সৌদি প্রভাব বাড়াবে। বিবিসি ও এএফপি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment