সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয়
কুশায়ের শহরটি কৌশলগত কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর সেখানে চলমান
লড়াইয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা এটাই
নিশ্চিত করে যে অস্তিত্ব রক্ষার লক্ষ্যে লেবাননের জঙ্গি শিয়া আন্দোলন একটি
নতুন মোড় নিয়েছে। শিয়া মুসলিমদের সংগঠন হিজবুল্লাহ ১৯৮২ সালে ইরান ও
সিরিয়ার সমর্থনে লেবাননে কার্যক্রম শুরু করেছিল। তখন থেকে ইসরায়েলকে
প্রতিরোধ করাই ছিল সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। তাদের তৎপরতায়ই ২০০০ সালে
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি দখলদারির অবসান ত্বরান্বিত হয়। ২০০৬ সালে
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মাসব্যাপী লড়াইয়ের পর আরব ও ইসলামি বিশ্বজুড়ে
বীরের মর্যাদা পায় হিজবুল্লাহ। তবে তারা দুই বছরের কম সময়ের মধ্যেই
সহযোগী লেবাননি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে বিতর্কিত হয়ে পড়ে। কারণ,
এমনটা কখনোই হবে না বলে সংগঠনটির নেতারা ঘোষণা দিয়েছিলেন। হিজবুল্লাহর
তৎপরতা ক্রমে সুন্নি-অধ্যুষিত বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এসব স্থানে
লড়াইয়ের ফলে লেবাননসহ আশপাশে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত
সংঘাতের উদ্বেগ বাড়ে। এ ছাড়া হিজবুল্লাহর অভ্যন্তরে বিভেদ দেখা দেয়। এতে
ইরানি ও সিরীয় পৃষ্ঠপোষকেরা এক পক্ষে এবং সৌদি আরব ও অন্য সুন্নি দেশগুলো
অন্য পক্ষে অবস্থান নেয়। হিজবুল্লাহ এখন সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে যত গভীরভাবে
জড়িয়ে পড়ছে এসব আঞ্চলিক, রাজনৈতিক, কৌশলগত ও জাতিগত বিভেদ ততই প্রকট
হচ্ছে। লেবাননের অনেকের পাশাপাশি বিদেশি একাধিক পরাশক্তিও সিরিয়ার
লড়াইয়ে হিজবুল্লাহর জড়িয়ে যাওয়ার বিরোধী। একজন শিয়া পর্যবেক্ষক বলেন,
এ লড়াইয়ে সংগঠনটির রাজনৈতিক অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে। হিজবুল্লাহর নেতা নাসরাল্লাহ স্পষ্ট বলে দিয়ে দিয়েছেন,
সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সুন্নি চরমপন্থীদের কাছে পরাস্ত হতে
দেওয়া হবে না। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হিজবুল্লাহ ঠিক কতটা সক্রিয় তা নিয়ে
নানামুখী অনুমান ও রহস্য রয়েছে। তবে কুশায়েরে সাম্প্রতিক লড়াই শেষে
হিজবুল্লাহর এক যোদ্ধার লাশের সামনে দাঁড়িয়ে একজন বিদ্রোহী বলেন, তাঁরা
ইরান, রাশিয়া ও শয়তানের বিরুদ্ধে লড়ছেন এবং তা গোটা বিশ্বকে জানিয়ে
দিতে চান।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment