Friday, May 31, 2013

ছেলে হত্যার বিচার চাইতে জাতিসংঘে

পুলিশের গুলিতে নিরপরাধ কিশোর ছেলের হত্যার বিচার চাইতে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হলেন অস্ট্রেলিয়ার এক মা। ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরকে পাঁচবার গুলি করেছিল পুলিশ। পরে দেখা গেছে, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। এ ঘটনায় পুলিশকে আদালত দায়মুক্তি দিয়েছেন। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় ওই কিশোরের মা বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ গুলি করার সময় তাঁর ছেলের নামটি পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেনি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে মেলবোর্নের একটি পার্কে টাইলার ক্যাসিডি নামের ওই কিশোরকে একটি ছুরিসহ মাতাল অবস্থায় আটক করে পুলিশ। পরে তাকে সেখানেই মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০১১ সালে আদালত পুলিশকে এ হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে অব্যাহতি দেন। আদালত তাঁর অভিমতে বলেন, পুলিশের কর্মকর্তারা তাঁদের প্রশিক্ষণের নীতির আওতায় থেকে গুলি চালিয়েছেন। টাইলারের মা শানি ক্যাসিডি জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে অস্ট্রেলিয়া। শানি ক্যাসিডি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পুলিশের কর্মকর্তারা গুলি চালানোর মাত্র ৭৩ সেকেন্ডের মধ্যে আমার ছেলে মারা যায়। তাঁরা আমার ছেলের গায়ে প্রথমে দুই কৌটা মরিচের গুঁড়া ছিটিয়েছেন। পরে তাকে লক্ষ্য করে ১০টি গুলি করেন। এর মধ্যে পাঁচটি তার গায়ে লাগে। তাঁরা আমার ছেলের নাম পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেননি।’ ক্যাসিডি আরও বলেন, ‘নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় অস্ট্রেলিয়া তার বাধ্যবাধকতা পূরণ করেছে বলে আমি মনে করি না। কেননা, পুলিশের শক্তি প্রয়োগের ব্যাপারে সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি।’ টাইলারের হয়ে জাতিসংঘে মামলাটির তদারকি করছেন মেলবোর্নের হিউম্যান রাইটস ল সেন্টারের অ্যানা ব্রাউন। অ্যানা বলেন, তিনি আশা করছেন, পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনায় জাতিসংঘ অধিকতর তদন্ত করবে। অ্যানা ব্রাউন বলেন, পুলিশের হাতে মৃত্যু ও তাদের সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়াটা ভুক্তভোগী মানুষ ও সাধারণ জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এএফপি।

No comments:

Post a Comment