মিয়ানমারে নতুন করে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর শান রাজ্যে বিপুলসংখ্যক সেনা
মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বাড়িঘর ছেড়ে চলে
যেতে শুরু করেছে রাজ্যটির লাশিও শহরের মুসলমানরা।
লাশিও শহরে সোম ও মঙ্গলবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে
পড়ে। এ সময় সেখানে লাঠি ও ছুরি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে কিছু মানুষ।
এতিমখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, সহিংসতায় সেখানে একজন নিহত
এবং পাঁচজন আহত হয়েছে। এই অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে
সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তা নাং সাই লি খাম
বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গতকালও কিছু লোক লাঠি-ছুরি নিয়ে মোটরসাইকেলে
চড়ে রাস্তায় রাস্তায় মহড়া দিয়েছে। তবে আজ তেমন কিছু দেখা যায়নি।
সহিংসতার পর প্রায় ৩০০ মুসলমান শহরের একটি আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের
পাহারায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র পুলিশ ও সেনাসদস্য। শহরের সবজি
বিক্রেতা উইন কো জানান, দুর্বৃত্তরা তাঁর
বাড়িঘর ধ্বংস করে দিয়েছে। এরপর গতকাল সকালে নিরাপত্তাবাহিনীর লোকজন
সশস্ত্র প্রহরায় তাঁর ছয় সদস্যের পরিবারকে ওই আশ্রমে নিয়ে এসেছে। উইন কো বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা মুসলমানদের যাকেই সামনে পাচ্ছে
ছুরি-লাঠি নিয়ে তার ওপর হামলা করছে। আমাদের প্রতিবেশী এক বয়স্ক দম্পতি
নিজেদের গাড়িতে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁদের ধরে ফেলে।
তাঁদের বেদম পেটানো হয়।’ স্থানীয় একটি ত্রাণ সংস্থার কর্মকর্তা কাও কাও তুন জানান,
মুসলমানরা যাতে নতুন করে সহিংসতার শিকার না হয় এ জন্য তাদের নিরাপত্তা
দিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার
ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের শিথিলতার অভিযোগ আছে। শুধু
রাখাইন রাজ্যেই গত কয়েক মাসের সহিংতায় নিহত হয়েছেন প্রায় ২০০ মানুষ।
সংঘাতের কারণে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার
মানুষকে। এদের বেশির ভাগ রোহিঙ্গা মুসলমান। এএফপি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment