একটু পানি থাকলেই ‘সৈকত’ আর একটু গাছপালা থাকলেই যেন ‘বনাঞ্চল’। পৃথিবীর
বিভিন্ন দেশেই এ রকম চিত্র। এটুকু সুযোগ কাজে লাগিয়েই তারা পর্যটক আকৃষ্ট
করার চেষ্টা করছে। অথচ বাংলাদেশে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত আর প্রবাল
দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের মতো স্থান থাকার পরও তা অবহেলায় পড়ে আছে।

পর্যটনসমৃদ্ধ
এসব এলাকা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা তো দূরের কথা, এখনো নিরাপদই হয়ে উঠতে
পারেনি। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন
সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে গিয়ে ডুবে মারা যান চার ছাত্র। এখনো নিখোঁজ দুজন। এ
ঘটনায় সেন্ট মার্টিনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে কক্সবাজারের সাগরে ডুবে ৮৫ জন আর সেন্ট মার্টিনে ১৪ জন পর্যটক মারা গেছেন। কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতের ১১১ কিলোমিটার এখনো সম্পূর্ণ অরক্ষিত। নেই কোনো উদ্ধারকর্মী, নেই টহলের ব্যবস্থা। যে নয় কিলোমিটার এলাকায় টহলের ব্যবস্থা আছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। আর সেন্ট মার্টিনের সমুদ্রসৈকতের কোথাও কোনো সতর্ক নির্দেশনা-সংবলিত সাইনবোর্ড নেই। নেই উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা।
তবে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি জাতীয় পর্যটন নীতিমালায় এ নিয়ে পরিকল্পনার অভাব নেই। ১৯৯২ সালে দেশের প্রথম পর্যটন নীতিমালায় কক্সবাজারের জন্য মহাপরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর ১৮ বছর পর তৈরি জাতীয় পর্যটন নীতিমালা, ২০১০-এ বলা আছে, পৃথিবীর দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার-টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন ও সোনা দ্বীপকে কেন্দ্র করে আদর্শ অবকাশ পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলা হবে। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ দেশের পর্যটন খাতের বিকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সবই কাগজে-কলমে।
২০১৩ সালে প্রকাশিত পর্যটন সক্ষমতা সূচক বা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্স (টিটিসিআই) অনুযায়ী, ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩। অবকাঠামো, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবাসহ ১৪টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এই তালিকা করেছে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম।
জাতীয় পর্যটন বোর্ডের সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মজিব উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে হবে। নিরাপত্তাও যে পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেটা বুঝতে হবে। এসব এলাকায় কোস্টগার্ডসহ দ্রুত উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ গড়ে তুলতে হবে। তবে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী মনে করেন, পর্যটন এলাকাগুলোর নিরাপত্তা স্থানীয়দেরই গড়তে হবে।
অরক্ষিত সৈকত: প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমুদ্রের কোমরসমান পানিতে নেমে গোসল করেন। কিন্তু ঢেউয়ের ধাক্কায় কেউ নিখোঁজ হলে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করার তেমন প্রস্তুতি নেই।
সিলেটের হরিপুরের পর্যটক শামসুল ইসলাম বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে কর্তৃপক্ষ লাল পতাকা তুলে দিলে ছয়টা তাজা প্রাণ হারিয়ে যেত না। সরকার ইচ্ছে করলে এই সৈকতের অল্প পরিমাণ জায়গা জাল বা রশি দিয়ে ঘিরে পর্যটকদের নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দিতে পারে। কিন্তু এসবে কারও আগ্রই নেই।
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে কক্সবাজারের সাগরে ডুবে ৮৫ জন আর সেন্ট মার্টিনে ১৪ জন পর্যটক মারা গেছেন। কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতের ১১১ কিলোমিটার এখনো সম্পূর্ণ অরক্ষিত। নেই কোনো উদ্ধারকর্মী, নেই টহলের ব্যবস্থা। যে নয় কিলোমিটার এলাকায় টহলের ব্যবস্থা আছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। আর সেন্ট মার্টিনের সমুদ্রসৈকতের কোথাও কোনো সতর্ক নির্দেশনা-সংবলিত সাইনবোর্ড নেই। নেই উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা।
তবে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি জাতীয় পর্যটন নীতিমালায় এ নিয়ে পরিকল্পনার অভাব নেই। ১৯৯২ সালে দেশের প্রথম পর্যটন নীতিমালায় কক্সবাজারের জন্য মহাপরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর ১৮ বছর পর তৈরি জাতীয় পর্যটন নীতিমালা, ২০১০-এ বলা আছে, পৃথিবীর দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার-টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন ও সোনা দ্বীপকে কেন্দ্র করে আদর্শ অবকাশ পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলা হবে। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ দেশের পর্যটন খাতের বিকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সবই কাগজে-কলমে।
২০১৩ সালে প্রকাশিত পর্যটন সক্ষমতা সূচক বা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্স (টিটিসিআই) অনুযায়ী, ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩। অবকাঠামো, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবাসহ ১৪টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এই তালিকা করেছে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম।
জাতীয় পর্যটন বোর্ডের সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মজিব উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে হবে। নিরাপত্তাও যে পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেটা বুঝতে হবে। এসব এলাকায় কোস্টগার্ডসহ দ্রুত উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ গড়ে তুলতে হবে। তবে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী মনে করেন, পর্যটন এলাকাগুলোর নিরাপত্তা স্থানীয়দেরই গড়তে হবে।
অরক্ষিত সৈকত: প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমুদ্রের কোমরসমান পানিতে নেমে গোসল করেন। কিন্তু ঢেউয়ের ধাক্কায় কেউ নিখোঁজ হলে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করার তেমন প্রস্তুতি নেই।
সিলেটের হরিপুরের পর্যটক শামসুল ইসলাম বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে কর্তৃপক্ষ লাল পতাকা তুলে দিলে ছয়টা তাজা প্রাণ হারিয়ে যেত না। সরকার ইচ্ছে করলে এই সৈকতের অল্প পরিমাণ জায়গা জাল বা রশি দিয়ে ঘিরে পর্যটকদের নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দিতে পারে। কিন্তু এসবে কারও আগ্রই নেই।
No comments:
Post a Comment