Wednesday, April 16, 2014

রিহ্যাব ঋণ চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের না

আবাসন খাতে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বল্প সুদে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করা সম্ভব নয়। গত রোববার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত ‘নিরাপদ এবং সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ: বাংলাদেশ আবাসন খাত’ শীর্ষক সেমিনারে ব্যবসায়ী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বিপরীতমুখী বক্তব্য ওঠে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফে জানানো হয়েছে, ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ দেয়ার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদে আবাসন শিল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে। এদিকে বাংলাদেশের আবাসন খাতে বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন আবাসন খাত বিশেষজ্ঞরা। সম্ভাবনাময় আবাসন খাতের বিনিয়োগ আগামী দিনের নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত ও স্থায়ী বিনিয়োগ হবে- এমনটাই মত দিয়েছেন তারা। তাই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলটি চালু করার আহ্বান জানান তারা। রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মোকাররম হোসেন খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এইচ এম হাবিবুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিহ্যাবের সেমিনার এবং ট্রেনিং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান শফিক রহমান। বক্তব্য দেন সংগঠনটির সহসভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ। সেমিনারে বক্তারা বলেন, নগর ক্রমেই সমপ্রসারণ হচ্ছে। সে কারণে আবাসনের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আবাসন খাতের পণ্যের চাহিদা কখনোই কমার কোন সম্ভাবনা নেই। তারা বলেন, বর্তমানে শহরাঞ্চলে বছরে আবাসনের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ইউনিট। আগামী পাঁচ বছরে এ চাহিদা ৬০ হাজার ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যক্তিপর্যায়ের রিয়েল এস্টেট ডেভেলপররা বর্তমানে সব মিলিয়ে বছরে ১৭ হাজার থেকে ১৮ হাজার ইউনিট ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে। ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আবাসন খাতের মন্দা কাটতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে এ খাত ঘুরে দাঁড়াবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আবাসনে বিনিয়োগের যথেষ্ট পরিবেশ রয়েছে। এ সময় তিনি আবাসন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে গ্রাহকদের বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ের রিয়েল এস্টেট ডেভেলপররা দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ১২.১২% অবদান রাখছেন। সরকারের সঠিক নীতি এবং অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এ অবদানের হারকে দ্বিগুণ অর্থাৎ ২৫ শতাংশে নিয়ে যেতে পারে। এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ফ্ল্যাট ক্রয় মধ্যবিত্তের বাইরে চলে গেছে। তা কমাতে হবে। এ খাতে ব্যাংকের অর্থায়ন যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে বিশ্বমন্দার প্রভাবে ব্যঘাতও ঘটেছে। ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে শোধ না করায় খেলাপির পরিমাণ বাড়ছে। তাই ব্যাংকাররা সুদের হার কমাতে পারছেন না। সিঙ্গেল ডিজিটে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ইচ্ছা করলেই চালু করা যায় না। কারণ এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি জড়িত। তবে অন্য ব্যবসায়ীদের মতো আবাসন ব্যবসায়ীদেরও ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা আগামী জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

No comments:

Post a Comment