Sunday, April 13, 2014

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আদি-অন্ত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পঞ্চম আসর শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে এবারের শিরোপা জিতেছে আগের দুইবারের ফাইনালিস্ট শ্রীলঙ্কা। এবার তৃতীয়বারের মতো অল-এশিয়া ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর দক্ষিণ আফ্রিকা, দ্বিতীয় আসর ইংল্যান্ড ও তৃতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজে। আর চতুর্থ ও পঞ্চম আসর অনুষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের মাটিতে-শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে। 

২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে। প্রথম ম্যাচেই দুই দল করেছিল ৪১৩ রান। প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি (১১৭) করেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ২০৫ রানের জবাবে প্রোটিয়ারা জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৮ বল হাতে রেখে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে রানের ফোয়ারা ছুটবে তা অনুমান করা গিয়েছিল প্রথম ম্যাচেই। ওই বিশ্বকাপে ৫টি ২০০-এর ওপর দলীয় ইনিংস ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রমেই রানের চাকা শ্লথ হয়ে এসেছে। ৭ বছরের ব্যবধানে পঞ্চম বিশ্বকাপ। কিন্তু এবার একটি দলও ২০০-এর ওপর রান তুলতে পারেনি। সর্বোচ্চ ১৯৬ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টিকে ব্যাটসম্যানদের খেলা বলা হয়ে থাকে। বোলারদের মৃত্যু মনে করা হতো সংক্ষিপ্ত পরিসরের এই ফর্মেটকে। কিন্তু এখন ক্রমেই বোলাররা ব্যাটসম্যানদের ওপর দাপট দেখাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে স্পিনাররা। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে উইকেটপ্রতি ২২.৬৪ উঠেছিল। এরপর কোন আসরেই তার চেয়ে বেশি রান উঠেনি। সর্বশেষ এবারের আসরে উইকেটপ্রতি রান উঠেছে ২২.১৩ করে। উইকেটপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩.৬৪ করে রান উঠেছিল ২০১২ সালের ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে। প্রথম বিশ্বকাপে ওভারপ্রতি রান তোলার গড় ছিল ৭.৯৯। কিন্তু এবার রান উঠেছে ৭.৫২ করে। ২০০৭ সালের প্রথম আসরে গড়ে ৯.০৫ বল পর একটি চার মারা হয়েছে। সর্বনিম্ন ১১.৭৮ বল প্রতি চার মারার ঘটনা ছিল ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে। আর এবার চার মারা হয়েছে ৯.০২ বলপ্রতি। প্রথম আসরে ছক্কা মারা হয়েছিল গড়ে ২২.৫০ বল পর। কিন্তু এবার সেটা অনেক কমেছে। ব্যাটসম্যানরা এবার গড়ে ২৬ বল পর একটি ছক্কা হাঁকাতে পেরেছে।
স্পিনারদের ব্যবহার ও সফলতা
ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি
প্রথম আসরের পর থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রমান্বয়ে স্পিনারদের ব্যবহার বেড়েছে। বেড়েছে তাদের সফলতাও। সর্বশেষ তিন আসরে স্পিনাররা ম্যাচের ৪০ শতাংশের ওপরে বল করেছে। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপে স্পিনাররা সর্বোচ্চ ৪৫.৭৩ শতাংশ বল করেছিল। এবার করেছে ৪১.৪৭ শতাংশ ওভার। রান দেয়ার দিক দিয়েও বরাবর পেসারদের চেয়ে স্পিনাররা কৃপণ। সর্বশেষ দুই আসরে স্পিনাররা ওভারপ্রতি সাতের নিচে রান দিয়েছে। কিন্তু বিপরীতে পেসাররা ওভারপ্রতি প্রায় আট করে রান দিয়েছে। এছাড়া, পাঁচ আসরে পেসাররা সর্বনিম্ন ওভারপ্রতি ৭.৫২ করে রান দিয়েছিল ২০১০ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে।
প্রথম ও শেষ ১০ ওভারে বড় পার্থক্য
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যেক দলের ইনিংসের প্রথম ১০ ও শেষ ১০ ওভার রান তোলার গড় ছিল বেশ দ্বিমুখী। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথমে ব্যাট করা দল গড়ে প্রথম দশ ওভারে ৭২ ও পরের ১০ ওভারে ৯০ করে রান করেছে। এরমধ্যে শেষ পাঁচ ওভারে গড়ে ছিল ৪৮ রান। ২০০৯ সালে প্রথম ১০ ওভারে কিছুটা রান বৃদ্ধি পায়। সেবার প্রথম ১০ ওভারে গড়ে ৭৪ রানের বিপরীতে পরের ১০ ওভারে রান ওঠে ৮৪ করে। এরমধ্যে শেষ পাঁচ ওভারে ছিল গড়ে ৪৯ রান। এবারের আসরেও প্রথম ১০ ওভারের চেয়ে পরের ১০ ওভারে রান তোলার গড় ছিল বেশি। কিন্তু অন্যবারের চেয়ে এবারের পার্থক্যটা ছিল অনেক বেশি। এবার প্রথম ১০ ওভারে ৬৮ রানের বিপরীতে পরের ১০ ওভারে রান তোলার গড় ছিল আশ্চর্যজনকভাবে ৯০ করে। প্রথম ১০ ওভারের চেয়ে দ্বিতীয় ১০ ওভারে ২২ করে রান বেশি এসেছে।

আসর    উইকেটে রান    ওভারে রান    গড়ে চার    গড়ে ছক্কা    ২০০ প্লাস রান
২০১৪    ২২.১৩    ৭.৫২    ৯.২    ২৬.০০    ০
২০১২    ২৩.৬৪    ৭.৬৩    ৯.১১    ২৬.৩৫    ১
২০১০    ২১.৪২    ৭.৫৩    ১১.৭৮    ২১.৩৬    ০
২০০৯    ২২.৬২    ৭.৬২    ৯.৪    ৩৬.৩১    ১
২০০৭    ২২.৬৪    ৭.৯৯    ৯.৫    ২২.৫০    ৫
স্পিনারদের ব্যবহার: (সেমিফাইনাল পর্যন্ত)
আসর    ওভার    গড়    ইকোনোমি
২০১৪    ৪৯১.১    ২১.৫৪    ৬.৮৮
২০১২    ৪৪৬.০    ২৪.৩৪    ৬.৮৭
২০১০    ৪১৮.৫    ২৫.৯৬    ৭.১৯
২০০৯    ৩৮৩.৪    ২০.৩২    ৬.৬২
২০০৭       ২৩৭.২    ২৩.৫৫    ৭.৮৪
পেসারদের ব্যবহার: (সেমিফাইনাল পর্যন্ত)
আসর    ওভার    গড়    ইকোনোমি
২০১৪    ৬৭২.৫    ২৫.৩৫    ৭.৬৮
২০১২    ৫২৬.২    ২৫.০৭    ৭.৯০
২০১০    ৫৬৪.৪    ২১.০৪    ৭.৫২
২০০৯    ৫৯৩.০    ২৫.৬৭    ৭.৯৬
২০০৭    ৭৩৭.০    ২৫.২৬    ৭.৭৮

No comments:

Post a Comment