টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পঞ্চম আসর শেষ
হয়েছে এক সপ্তাহ। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে এবারের শিরোপা জিতেছে
আগের দুইবারের ফাইনালিস্ট শ্রীলঙ্কা। এবার তৃতীয়বারের মতো অল-এশিয়া ফাইনাল
অনুষ্ঠিত হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর দক্ষিণ আফ্রিকা, দ্বিতীয়
আসর ইংল্যান্ড ও তৃতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজে। আর চতুর্থ ও পঞ্চম
আসর অনুষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের মাটিতে-শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে।

স্পিনারদের ব্যবহার ও সফলতা
ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি
প্রথম আসরের পর থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রমান্বয়ে স্পিনারদের ব্যবহার বেড়েছে। বেড়েছে তাদের সফলতাও। সর্বশেষ তিন আসরে স্পিনাররা ম্যাচের ৪০ শতাংশের ওপরে বল করেছে। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপে স্পিনাররা সর্বোচ্চ ৪৫.৭৩ শতাংশ বল করেছিল। এবার করেছে ৪১.৪৭ শতাংশ ওভার। রান দেয়ার দিক দিয়েও বরাবর পেসারদের চেয়ে স্পিনাররা কৃপণ। সর্বশেষ দুই আসরে স্পিনাররা ওভারপ্রতি সাতের নিচে রান দিয়েছে। কিন্তু বিপরীতে পেসাররা ওভারপ্রতি প্রায় আট করে রান দিয়েছে। এছাড়া, পাঁচ আসরে পেসাররা সর্বনিম্ন ওভারপ্রতি ৭.৫২ করে রান দিয়েছিল ২০১০ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে।
প্রথম ও শেষ ১০ ওভারে বড় পার্থক্য
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যেক দলের ইনিংসের প্রথম ১০ ও শেষ ১০ ওভার রান তোলার গড় ছিল বেশ দ্বিমুখী। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথমে ব্যাট করা দল গড়ে প্রথম দশ ওভারে ৭২ ও পরের ১০ ওভারে ৯০ করে রান করেছে। এরমধ্যে শেষ পাঁচ ওভারে গড়ে ছিল ৪৮ রান। ২০০৯ সালে প্রথম ১০ ওভারে কিছুটা রান বৃদ্ধি পায়। সেবার প্রথম ১০ ওভারে গড়ে ৭৪ রানের বিপরীতে পরের ১০ ওভারে রান ওঠে ৮৪ করে। এরমধ্যে শেষ পাঁচ ওভারে ছিল গড়ে ৪৯ রান। এবারের আসরেও প্রথম ১০ ওভারের চেয়ে পরের ১০ ওভারে রান তোলার গড় ছিল বেশি। কিন্তু অন্যবারের চেয়ে এবারের পার্থক্যটা ছিল অনেক বেশি। এবার প্রথম ১০ ওভারে ৬৮ রানের বিপরীতে পরের ১০ ওভারে রান তোলার গড় ছিল আশ্চর্যজনকভাবে ৯০ করে। প্রথম ১০ ওভারের চেয়ে দ্বিতীয় ১০ ওভারে ২২ করে রান বেশি এসেছে।
আসর উইকেটে রান ওভারে রান গড়ে চার গড়ে ছক্কা ২০০ প্লাস রান
২০১৪ ২২.১৩ ৭.৫২ ৯.২ ২৬.০০ ০
২০১২ ২৩.৬৪ ৭.৬৩ ৯.১১ ২৬.৩৫ ১
২০১০ ২১.৪২ ৭.৫৩ ১১.৭৮ ২১.৩৬ ০
২০০৯ ২২.৬২ ৭.৬২ ৯.৪ ৩৬.৩১ ১
২০০৭ ২২.৬৪ ৭.৯৯ ৯.৫ ২২.৫০ ৫
স্পিনারদের ব্যবহার: (সেমিফাইনাল পর্যন্ত)
আসর ওভার গড় ইকোনোমি
২০১৪ ৪৯১.১ ২১.৫৪ ৬.৮৮
২০১২ ৪৪৬.০ ২৪.৩৪ ৬.৮৭
২০১০ ৪১৮.৫ ২৫.৯৬ ৭.১৯
২০০৯ ৩৮৩.৪ ২০.৩২ ৬.৬২
২০০৭ ২৩৭.২ ২৩.৫৫ ৭.৮৪
পেসারদের ব্যবহার: (সেমিফাইনাল পর্যন্ত)
আসর ওভার গড় ইকোনোমি
২০১৪ ৬৭২.৫ ২৫.৩৫ ৭.৬৮
২০১২ ৫২৬.২ ২৫.০৭ ৭.৯০
২০১০ ৫৬৪.৪ ২১.০৪ ৭.৫২
২০০৯ ৫৯৩.০ ২৫.৬৭ ৭.৯৬
২০০৭ ৭৩৭.০ ২৫.২৬ ৭.৭৮
No comments:
Post a Comment