Sunday, April 20, 2014

বড়পর্দায় মীমের ব্যর্থতা!

বড়পর্দায় অর্থাৎ সিনেমায় লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার বিদ্যা সিনহা সাহা মীমের ধারাবাহিক ব্যর্থতা সবার নজরে পড়ছে। বিজ্ঞাপন কিংবা নাটকে অর্থাৎ ছোটপর্দায় মীম যতটাই প্রাণবন্ত বড়পর্দায় ততটাই নিষ্প্রভ। কোনভাবেই দর্শক হৃদয়ে দোলা দিতে পারছেন না তিনি। 
এ পর্যন্ত মীম অভিনীত তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এগুলো হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’, জাকির হোসেন রাজুর ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ এবং খালিদ মাহমুদ মিঠুর ‘জোনাকির আলো’। ছবিগুলো প্রশংসিত হয়েছে। ছবির গানগুলো হিট করেছে। কিন্তু ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে বিদ্যা সিনহা সাহা মীম নিজেকে সফলভাবে তুলে ধরতে পারেননি। নতুনদের প্রতি দর্শকদের একটা আগ্রহ থাকে। কিন্তু মীমের প্রতি সেই আগ্রহটা দেখা যায়নি। বিশেষ করে শাকিব খানের সঙ্গে ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ ছবির গান দর্শকদের মুখে মুখে ফিরলেও বিদ্যা সিনহা সাহা মীমকে নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে কোন আশাবাদ লক্ষ্য করা যায়নি। প্রথম ছবি ‘আমার আছে জল’-এ নতুন ছিলেন বলে অনেক কিছুই এড়িয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু ‘জোনাকির আলো’র মতো চমৎকার গল্পের একটি ছবিতেও মীম তার অভিনয় ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারেননি বলে চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের অভিমত। অনেকের মত, চরিত্রটি মীমের জন্য খুবই ভারি ছিল। যার ভারটা তিনি বহন করতে পারেননি। এসব নিয়ে মীমের কোন মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে অবস্থান গড়ার কোন আগ্রহও নেই, আগ্রহ কলকাতার ছবিতে কাজ করা। এই আগ্রহের কথা অনেকেই সঙ্গেই ভাগাভাগি করেছেন মীম ও তার মা। কিন্তু এই আগ্রহে ভাটা পড়ছে ওপার বাংলা থেকে কোন ডাক না আসায়। এপার বাংলার শিল্পীদের মধ্যে অঞ্জু ঘোষ ও ফেরদৌস ছাড়া ওপার বাংলায় আর কেউই সফল হতে পারেননি। বলা যায়, যারাই কাজ করেছেন ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের শিল্পীদের প্রতি কলকাতার নির্মাতাদের আগ্রহ নেই। এদিকে মীম অভিনীত আরও দুটি ছবি নির্মাণাধীন। একটি তন্ময় তানসেনের ‘পদ্মপাতার জল’, অন্যটি মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘তারকাঁটা’। নির্মাণ শুরু হবে রিপন মিয়ার ‘তুমি সন্ধ্যারও মেঘমালা’ এবং সাফিউদ্দিন সাফির ‘ড্রিমগার্ল’। এসব ছবিতে মীম যদি নিজেকে সিনেমার নায়িকাদের উপযোগী করে দর্শকদের সামনে আসতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের সিনেমা জগতে কিছু একটা করতে পারবেন। তা না হলে ছোটপর্দার অধিকাংশের মতো তাকেও বড়পর্দাকে গুডবাই জানাতে হবে।

No comments:

Post a Comment