সরকারের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। নেই কোন শত্রুতা। তারা আমাদের ভুল
বুঝলে আমরা কষ্ট পাবো। এখানে ভুল বোঝাবুঝি হোক তা আমরা চাই না।
ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে ।
’আলোচিত-সমালোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলামের প্রধান আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর
এমন বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের লালদিঘীতে
অনুষ্ঠিত দলের দু’দিন ব্যাপী রেসালত সম্মেলনে ভোল পাল্টে নিজেদের সঙ্গে
সরকারের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন এই নেতা। অনুষ্ঠানে অংশ
নিতে এসে শ’ শ’ আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ তার বক্তব্য শুনে হতভম্ব হয়ে
যান। তাদের মাঝে এই নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন,
মোটা অঙ্কের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে হেফাজত। হেফাজতে ইসলামের ভেতরের
একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে ইমেজ সঙ্কটে ভুগছে হঠাৎ করে খ্যাতি পাওয়া এই
দলটি।

দলের
ভেতরে কাজ করছে অস্থিরতা। সরকারকে সমর্থন দেয়া না দেয়া নিয়ে বিভক্তি ছড়িয়ে
পড়েছে সর্বত্র। তবে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া সাপেক্ষে হেফাজতের সঙ্গে
সরকারের সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বস্তুত ৭-৮
মাস আগে দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে কোন ধরনের মিল নেই আল্লামা শফীর। নাস্তিকদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আল্লামা শফীর সংগঠন হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনের ডাক
দিয়েছিলো চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা থেকে। সেই সময় তার সঙ্গে সরকারের
বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি’র আঁতাতের বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি
করেছিলেন তিনি। ঢাকার শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে দেয়ার জন্য শাপলা চত্বরে
জমায়েত হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই হেফাজত-সেই
হেফাজতের মধ্যে কোন ধরনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন না তার নেতা-কর্মীরা।
কেবল তা-ই নয়, হঠাৎ করে আন্দোলন থেকে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া, বড় ধরনের কোন কর্মসূচি না দেয়া কিংবা আমীর-পুত্রের নানান বিতর্কিত কর্মকা- দলকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। এই বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করেছেন সরকারের সঙ্গে তাদের কোন ধরনের সমঝোতা হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন হেফাজতে ইসলাম আগের মতো আর নেই।
গত ১১ ও ১২ই এপ্রিল চট্টগ্রামের লালদিঘীতে আয়োজন করা হয় দলীয় শানে রেসালত সম্মেলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলীয় আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের অন্যতম মহাসচিব জুনায়েদ বাবু নগরী। অনুষ্ঠানে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে আল্লামা শফী বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নই। এদের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। তারা যদি আমাদের ভুল বুঝে তা ঠিক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনদিন কাউকে গালি দেইনি। ইসলামকে ভাল করে বোঝার জন্য, যারা আল্লাহর দেশে থেকে, আল্লাহর নেয়ামত খেয়ে তাকে মানে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলেছি।’
তার এই বক্তব্যের পর মঞ্চে হাততালি দিতে দেখা যায় সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, ঢাকা লালবাগ মাদরাসার মুফতি আবুল হাসনাত, যুগ্ম মহাসচিব মাহমুদুল হাসান, ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর এবিএম তাহের, প্রচার সম্পাদক আলতাফ হোসেন, কক্সবাজার জেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন হাবিবসহ সিনিয়র নেতাদের।
হেফাজতের দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্তত ৩৫টি মামলা প্রত্যাহার করে নিতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। গত বছরের ৫ই মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ঢাকার ৩ থানায় যেসব মামলা দায়ের করা হয় তার মধ্যে অন্তত ২৫টি নতুন করে শুরু না করার শর্তে সব ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে চাইছে হেফাজত।
মতিঝিল, পল্টন ও রমনা থানা পুলিশ এসব মামলার তদন্ত করছে। জানতে চাইলে এই বিষয়ে কথা হয় রমনা থানার ওসি মশিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘মামলাগুলো শুরু করার ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। কবে তদন্ত শেষ হবে তা জানি না।’ একই রকম কথা জানিয়ে পল্টন থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, ‘উপরের মহলের সিদ্ধান্ত না পেলে মামলার কাজ শুরু হবে বলে মনে হয় না।’
হাটহাজারী মাদরাসার একটি সূত্র জানায়, সরকারের বিরুদ্ধে আর কোন কর্মসূচিতে যেতে চাইছে না দলটি। বিশেষ করে শফী হুজুরের পুত্র আনাছ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে থাকায় নতুন করে কোন সভা-সমাবেশে আর যাচ্ছে না হেফাজত। সরকারের পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী, দলীয় নেতা মাওলানা মাইনুদ্দীন রুহী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফরিদ উল্লাহ, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, নায়েবে আমির মহিবুল্লাহ বাবু, তাজুল ইসলাম, আবুল মালেক হালিম, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ফজলুল হক জিহাদী, নেজামে ইসলামের সাহিত্য সম্পাদক মুফতি হারুন ইজাহার, অর্থ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ ওসমানী, নূর হোসেন কাসেমী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, আবদুল কুদ্দুস, নুরুল ইসলামসহ একাধিক নেতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা হয়েছে। বার্তা দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নতুনভাবে আর শুরু হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
দলের সামগ্রিক কর্মকা- নিয়ে এ বিষয়ে বলেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক। সরকারের সঙ্গে সমঝোতার বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এমন কোন কিছুই এখন পর্যন্ত হয়নি। তবে হ্যাঁ এই কথা সত্যি শুরুর দিকে সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপি সমঝোতার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু আমরা তাতে সায় দেইনি।’
সুর পাল্টানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আল্লামা শফী তো মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি সত্যিই বলেছেন সরকারের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। সরকার ১৩ দফা দাবি আদায়ে বাধা দিয়েছিলো বলেই আমরা তাদেরকে সমর্থন করি নাই। হুজুর সরকারকে ভুল না বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু আমরা নীতি, নৈতিকতা থেকে একচুলও সরবো না। হুজুর যেভাবে বিষয়টি বলেছেন মিডিয়া তার উল্টো লিখেছে।
কেবল তা-ই নয়, হঠাৎ করে আন্দোলন থেকে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া, বড় ধরনের কোন কর্মসূচি না দেয়া কিংবা আমীর-পুত্রের নানান বিতর্কিত কর্মকা- দলকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। এই বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করেছেন সরকারের সঙ্গে তাদের কোন ধরনের সমঝোতা হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন হেফাজতে ইসলাম আগের মতো আর নেই।
গত ১১ ও ১২ই এপ্রিল চট্টগ্রামের লালদিঘীতে আয়োজন করা হয় দলীয় শানে রেসালত সম্মেলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলীয় আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের অন্যতম মহাসচিব জুনায়েদ বাবু নগরী। অনুষ্ঠানে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে আল্লামা শফী বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নই। এদের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। তারা যদি আমাদের ভুল বুঝে তা ঠিক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনদিন কাউকে গালি দেইনি। ইসলামকে ভাল করে বোঝার জন্য, যারা আল্লাহর দেশে থেকে, আল্লাহর নেয়ামত খেয়ে তাকে মানে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলেছি।’
তার এই বক্তব্যের পর মঞ্চে হাততালি দিতে দেখা যায় সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, ঢাকা লালবাগ মাদরাসার মুফতি আবুল হাসনাত, যুগ্ম মহাসচিব মাহমুদুল হাসান, ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর এবিএম তাহের, প্রচার সম্পাদক আলতাফ হোসেন, কক্সবাজার জেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন হাবিবসহ সিনিয়র নেতাদের।
হেফাজতের দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্তত ৩৫টি মামলা প্রত্যাহার করে নিতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। গত বছরের ৫ই মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ঢাকার ৩ থানায় যেসব মামলা দায়ের করা হয় তার মধ্যে অন্তত ২৫টি নতুন করে শুরু না করার শর্তে সব ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে চাইছে হেফাজত।
মতিঝিল, পল্টন ও রমনা থানা পুলিশ এসব মামলার তদন্ত করছে। জানতে চাইলে এই বিষয়ে কথা হয় রমনা থানার ওসি মশিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘মামলাগুলো শুরু করার ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। কবে তদন্ত শেষ হবে তা জানি না।’ একই রকম কথা জানিয়ে পল্টন থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, ‘উপরের মহলের সিদ্ধান্ত না পেলে মামলার কাজ শুরু হবে বলে মনে হয় না।’
হাটহাজারী মাদরাসার একটি সূত্র জানায়, সরকারের বিরুদ্ধে আর কোন কর্মসূচিতে যেতে চাইছে না দলটি। বিশেষ করে শফী হুজুরের পুত্র আনাছ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে থাকায় নতুন করে কোন সভা-সমাবেশে আর যাচ্ছে না হেফাজত। সরকারের পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী, দলীয় নেতা মাওলানা মাইনুদ্দীন রুহী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফরিদ উল্লাহ, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, নায়েবে আমির মহিবুল্লাহ বাবু, তাজুল ইসলাম, আবুল মালেক হালিম, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ফজলুল হক জিহাদী, নেজামে ইসলামের সাহিত্য সম্পাদক মুফতি হারুন ইজাহার, অর্থ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ ওসমানী, নূর হোসেন কাসেমী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, আবদুল কুদ্দুস, নুরুল ইসলামসহ একাধিক নেতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা হয়েছে। বার্তা দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নতুনভাবে আর শুরু হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
দলের সামগ্রিক কর্মকা- নিয়ে এ বিষয়ে বলেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক। সরকারের সঙ্গে সমঝোতার বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এমন কোন কিছুই এখন পর্যন্ত হয়নি। তবে হ্যাঁ এই কথা সত্যি শুরুর দিকে সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপি সমঝোতার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু আমরা তাতে সায় দেইনি।’
সুর পাল্টানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আল্লামা শফী তো মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি সত্যিই বলেছেন সরকারের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। সরকার ১৩ দফা দাবি আদায়ে বাধা দিয়েছিলো বলেই আমরা তাদেরকে সমর্থন করি নাই। হুজুর সরকারকে ভুল না বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু আমরা নীতি, নৈতিকতা থেকে একচুলও সরবো না। হুজুর যেভাবে বিষয়টি বলেছেন মিডিয়া তার উল্টো লিখেছে।
No comments:
Post a Comment