কোথাও সুখের দেখা নাই। সুসংবাদ উধাও। ঘরে বাইরে, হাসপাতাল, বিনোদন
কেন্দ্র, রাস্তা-ঘাট, হাজতখানায়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কোথাও আমরা এখন আর নিরাপদ
নই। ঘরে বিপদ, বাইরে গেলেও বিপদ। বিপদ যেন পিছু ছাড়তে চায় না। “সাগরে নেমে
ভার্সিটির ৬ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, কালিয়াকৈরে ট্রাক-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৫,
সিরাজগঞ্জে ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫০, রাজধানীর সিআরপি
হাসপাতালের আগুন, বেলার নির্বাহী রেজওয়ানার স্বামী এবি সিদ্দিককে অপহরণ,
শুক্রাবাদে বাসের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত, পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩, আহত
৫২, বিভিন্নস্থানে ৮ জনের লাশ উদ্ধার, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বাগেরহাটে ১৯
কয়েদি হাসপাতালে, গুলি ও ছুরিকাঘাত করে ১৬ লাখ টাকা ছিনতাই, কর্ণফুলী নদীতে
নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র” শিরোনামগুলোর সঙ্গে পাঠক আপনারাও পরিচিত কারণ
হাল সময়ে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। সাগরে নামলে নোনাজল কেড়ে নেবে প্রাণ,
যানবাহনে চড়লে দুর্ঘটনা নেবে জান। এই তো হচ্ছে পরিস্থিতি। ট্রেন দাঁড়িয়ে
থাকবে তো ওই ট্রেনে ধাক্কা দেবে চলন্ত আরেকটি ট্রেন, জেলখানাও নিরাপদ নয়,
বিষাক্ত খাবার খেয়ে যেতে হবে হাসপাতালে, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে আগুন
লেগে দগ্ধ হতে হবে, নয় তো চিকিৎসকদের আন্দোলনে বিনে চিকিৎসায় মারা যাওয়া।
রাস্তায় বাস-ট্রাক না হয় ছিনতাইকারী কেড়ে নেবে প্রাণ, নয় তো হতে হবে অপহরণ।
শিক্ষাঙ্গনে সংঘাত-সংঘর্ষে জীবন যাবে।

তাহলে
আমরা কোথায় নিরাপদ? ভ্রমণের স্থান সেন্ট মার্টিনে এসে ভ্রমণপিয়াসীরা
সমুদ্রে তো নামবেই। সেদিন এখানে কোন প্রকার সতর্কতাও ছিল না। আসলে আমাদের
বিনোদনের জায়গাগুলো নিরাপদ নয়। সি-নেটিং ব্যবস্থা না থাকার কারণে সেন্ট
মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এখানে ভ্রমণে এসে অকালে প্রাণ
দিতে হচ্ছে পর্যটকদের। গত বছর একই ভাবে গোসল করতে নেমে প্রাণ দিতে হয়
বুয়েটের এক ছাত্রকে। এরপরও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও
পর্যটকদের পক্ষ থেকে বারবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও সেন্ট মার্টিনে
সি-নেটিং ব্যবস্থার দাবি জানানো হলেও এতে কর্ণপাত করছে না প্রশাসন কিংবা
সংশ্লিষ্টদের কউই। সেন্টমার্টিন পর্যটকদের কাছে আর্কষণীয় একটি স্পট।
পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে সি- নেটিং ব্যবস্থা চালু করা অত্যন্ত
জরুরি। স্বাধীনতার পর গত ৪৩ বছরে পরিবহন খাতের অন্যান্য সেক্টরে উন্নতি
হলেও একমাত্র ব্যতিক্রম রেল যোগাযোগ খাত। দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় অমিত
সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রেল খাতটিকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে অব্যবস্থাপনার
মাধ্যমে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভুগছে দক্ষ লোকবলের অভাবে। রেলওয়ের ওপর
একের পর এক কালো বিড়ালের আঁচড় ওই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে হতাশাজনক অবস্থায়
ঠেলে দিয়েছে। দুনিয়ার সর্বত্র নিরাপদ পরিবহন হিসেবে রেলওয়ের সুনাম থাকলেও
বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। গত সাত বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে তিন হাজারেরও
বেশি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মুখোমুখি ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনা ১৭টি।
যাতে হতাহত হয়েছে ১২৩৫ জন। রেলপথ, নৌপথ, সড়কপথ কেন মৃত্যুফাঁদ হয়ে থাকবে?
সড়ক-মহাসড়ক নিরাপদ করা যাবে না কেন? সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে অযোগ্য লোক
সরিয়ে যোগ্য লোকদের ঠাঁই দিতে হবে। আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই দুর্ঘটনা
রোধ হবে।
মৃত্যুর ধরন যাই হোক, সরকারি খাতায় সেগুলো অপঘাত বা দুর্ঘটনা বলে চালানো হলেও এর সবই কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত মৃত্যু। কেবল তদন্ত করলেই চলবে না, জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর দণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি-দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে। আর কত প্রাণ ঝরে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়বোধ করবে? একের পর এক দেশের মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভে যাবে, আর প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবেন তা হতে পারে না। এ অবস্থা কিছুতেই চলতে দেয়া যায় না।
মৃত্যুর ধরন যাই হোক, সরকারি খাতায় সেগুলো অপঘাত বা দুর্ঘটনা বলে চালানো হলেও এর সবই কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত মৃত্যু। কেবল তদন্ত করলেই চলবে না, জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর দণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি-দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে। আর কত প্রাণ ঝরে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়বোধ করবে? একের পর এক দেশের মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভে যাবে, আর প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবেন তা হতে পারে না। এ অবস্থা কিছুতেই চলতে দেয়া যায় না।
No comments:
Post a Comment