Thursday, May 1, 2014

আওয়ামী লীগের দোসররা গুম খুন করছে

আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররাই দেশজুড়ে গুম-খুন-অপহরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী জোট নেতা খালেদা জিয়া। বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই হত্যা-সন্ত্রাস-গুম-খুন বন্ধ হবে। 
গতকাল বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১৯দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)’র ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জঙ্গি ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুবলীগ নেতার সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, জঙ্গি পালিয়ে গেল, কানেকশন পাওয়া গেল যুবলীগ নেতার। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সঙ্গে সম্পর্ক জঙ্গি-গুম-খুনের। জঙ্গিদের মদতদাতা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ। তিনি বলেন, এই সরকার দলের কোন নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। এমপি, মন্ত্রীরাও নিয়ন্ত্রণে নেই। এমনকি তথাকথিত বিরোধীদলও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, আলোচনার দুয়ার খোলা আছে। আলাপ-আলোচনা করে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করার আহ্বান জানাচ্ছি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য যে কোন সময়ই আলোচনা হতে পারে। জনপ্রিয়তা থাকলে নির্বাচন করে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিন। চিৎকার, ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে আপনারা সফল হবেন না। আমরাই সফল হবো। মামলা, বন্দুক দিয়ে মানুষ মারার পরিণতি সবাই ভাল করেই জানে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে কোন সরকার নেই। আওয়ামী লীগ জবরদখল করে ক্ষমতায় আছে। তারা অবৈধ সরকার। কারণ ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি। ওই নির্বাচনে ৫ ভাগ ভোটও পড়েনি। এছাড়া ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। খালেদা জিয়া বলেন, জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত ভাল কথা ও কাজ হয়নি। জনগণের টাকা খরচ করে সংসদে তারা শুধু গালাগালি করে। সংসদে যে বিরোধী দল আছে তারাও সরকারের অংশ। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। তারা শুধু সরকারের আদেশ-নির্দেশ পালন করে। তারা কি নির্বাচন করেছে, তা সবাই দেখেছে। জাতি কি ভাবে তাদের বিশ্বাস করবে? তাই তাদের উচিত, পদত্যাগ করে নিজে থেকেই বিদায় নেয়া। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ছাড়া এখন কেউ চাকরি পায় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। সাধারণ ছাত্ররা তাদের ভয়ে হলে থাকতে পারে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আজকে দেশের মানুষের কারও নিরাপত্তা নেই। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও ড. আকবর আলি খানও বলেছেন একই কথা। রাস্তা থেকে মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি গাড়ি থেকে মানুষদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দেশের প্রতিটি মানুষ আওয়ামী লীগের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। এই অবস্থা আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পর, এখন আবার ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সব অপকর্ম করছে আওয়ামী লীগ। আর মামলা দিচ্ছে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর। এমনকি বিরোধী নেতাদের জামিনও দিচ্ছে না। কোর্টগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। কোন স্বাধীন দেশ এভাবে চলতে পারে না। খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমানে উন্নয়নের নামে একদিকে লুটপাট আর অন্যদিকে চলছে সন্ত্রাস। আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে কেউ নেই। নিজেরা এত অপকর্ম করেছে যে, দলের কেউ নিয়ন্ত্রণে নেই। সবাই যার যার মতো লুটপাট করছে। প্রশাসনও লুটপাট করছে। খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন। দেশে প্রকৃত স্বাধীনতা নেই। কারণ দেশে যে হারে গুম, খুন ও নির্যাতন হচ্ছে তা কোন স্বাধীন দেশে হতে পারে না। এই ক্রীতদাস সরকারকে দিয়ে দেশের কোন মঙ্গল হবে না। রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল কারও দাসত্ব করার জন্য নয়। তাই এই ক্রীতদাস সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য খুব শিগগিরই আন্দোলন শুরু করবো আমরা। সাহস সঞ্চয় করে সবাইকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সুদিন আমাদের সামনে, আমরা জয়ী হবো। দেশকে রক্ষা করবো এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। এর আগে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে আলোচনা সভায় যান তিনি। আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করা হয়েছে। নরায়ণগঞ্জের কমিশনার ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের লাশ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এখন হত্যা, গুম, খুন করে অবৈধ ও অনৈতিকভাবে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্র করছে। তবে যত অপচেষ্টাই হোক প্রহসন ও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র করছে ভারত। বিজেপি নেতা বাংলাদেশী ভূমি দখলের কথা বলেছেন। অথচ ক্রীতদাস সরকার নীরব। কোন প্রতিবাদ করেনি।  দেশ হিসেবে আমরা ছোট হতে পারি কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা ছোট নই। রক্ত দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছি। কোন দেশের অধীনে থাকার জন্য নয়। জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসহাক, এনডিপি চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এমএ রকিব, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান।

No comments:

Post a Comment