সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামে পুলিশের সঙ্গে
‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফারুক হোসেন (৪৮) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ফারুক
হোসেনের দাবি, থানায় নিয়ে যাওয়ার পরে চোখ বেঁধে তাঁকে গুলি করা হয়েছে।আজ
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে ফারুক হোসেনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়েছে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী
জামালউদ্দিন জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, কয়েকজন
দুর্বৃত্ত নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দেবহাটা সদরের সুশীলগাতি প্রাইমারি
বিদ্যালয়ের পাশে জড়ো হয়েছে।

পুলিশ
ভোররাত চারটার দিকে ওই এলাকায় যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে
গুলি ও বোমা ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে
যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফারুক হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখে।
তাঁকে সকাল পৌনে সাতটার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে জানা গেছে, তিনি জামায়াতের একজন কর্মী। গুলিবিদ্ধ ফারুক হোসেনের ভাষ্য,
তিনি একজন ছোট ব্যবসায়ী। জামায়াতের মিছিল ও সভা করেন। কিন্তু কোনো সহিংসতা
বা নাশকতার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ
তাঁকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে থানার মধ্যে চোখ বেঁধে তাঁকে আটকে রাখা
হয়। আজ ভোররাতে চোখ বাঁধা অবস্থায় থানা থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে পুলিশ
তাঁর পায়ে গুলি করে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক
পরিমল কুমার বিশ্বাস জানান, ফারুক হোসেনের বাম পায়ে হাঁটুর নিচে গুলি
লেগেছে। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান,
ফারুক হোসেন জামায়াতের একজন সমর্থক। তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করা হয়েছে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জামালউদ্দিন জানান, ফারুক
হোসেনের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও গাছকাটার অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে। পুলিশের
ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা করা হবে।
No comments:
Post a Comment